রমজান উপলক্ষে খাতুনগঞ্জ চাক্তাইয়ে বেচা-কেনার ধুম
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের ভোগ্যপণ্যের প্রধান পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে বেচা-কেনার ধুম পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে বলে পাইকারি ক্রেতারা জানান। সারি সারি পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে যানজট লেগেই আছে। চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথেও প্রচুর পণ্য সরবরাহ চলছে।
সারা বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দা চলেছে। প্রতি বছর রমজানের আগেই দেশের প্রধান এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রে প্রচুর বেচা-কেনা হয়ে থাকে। এবারও একই ধরনের বেচা-কেনা হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, রমজান মাসের কয়েকদিন আগে ভোগ্যপণ্য বেশি বেচা-কেনা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ক্রেতারা রমজান মাসের পণ্য কিনে নিয়ে যান। অনেকে রমজানে ঝামেলামুক্ত থাকতে একবারে পণ্য কিনে নিয়ে যান। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশেষ করে ডালজাতীয় পণ্য, সয়াবিন, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, খেজুর, গুঁড়ো দুধ, সেমাই, আটা, ময়দা, চাল জাতীয় ভোগ্যপণ্যগুলো বেচা-কেনা হচ্ছে বেশি। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলার সময় নেই। অনেক দোকানে বাড়তি লোকও রাখা হয়েছে। পণ্য অর্ডার নেয়ার পর গুদাম থেকে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, এবার পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এক মাস আগে দাম যা ছিল এখনো একই দামে বেচা-কেনা হচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম বাড়তি ও কমতির দিকে। ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্যের কোন ঘাটতি নেই। প্রচুর পণ্য গুদামে মজুদ রয়েছে। প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখলে পণ্যের দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে। আবার বাজারে চাহিদা বেড়েছে। রসুন কেজি ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৩/৪৪ টাকা ও আদা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জে পাইকারি বিক্রেতা জনতা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. ফিরোজ জানান, আদা ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আরো কয়েকদিন পাইকারি বাজার বেচা-কেনা ব্যস্ত থাকবে। এছাড়া সয়াবিন ও ডাল জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারি বাজারে সয়াবিন কেজি ১১৫ টাকা, পামঅয়েল ৮০ টাকা ও সুপার অয়েল ৭৮ টাকা, ছোলা ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, খেসারি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, মটর ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ থেকে ১০৫ টাকা ও চিনি ৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে খাতুনগঞ্জের আকবর ট্রেডার্সের মালিক মো. আলী জানান, অস্বাভাবিক কিছু না হলে পণ্যের বাজার বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে বিক্রীত পণ্য সড়ক ও নৌপথে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। গত কয়েকদিন যাবত্ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে চাক্তাই খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন সড়কে নিত্য জট লেগে রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো রাজাখালী, চাক্তাই দিয়ে শাহ আমানত সংযোগ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। এতে শাহ আমানত সংযোগ সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অধিকাংশ পাইকারি বিক্রেতাদের পণ্যের গুদাম চাক্তাই খাতুনগঞ্জে। ফলে এখান থেকে সরবরাহ দিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাদারবাড়ী, অক্সিজেন, অলংকার মোড়, দেওয়ানহাট, নাসিরাবাদ ও মাঝিরঘাট এলাকায় প্রায় দুইশর বেশি গুদাম রয়েছে। খাতুনগঞ্জে বিক্রীত পণ্য এসব গুদাম থেকেও সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।
গুদাম মালিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম ঠিকাদার ও কমিশন এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, রমজানকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। গুদামগুলো থেকে দিনে-রাতে পণ্য সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে এখন কয়েকগুণ বেশি পণ্য সরবরাহ হচ্ছে। চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে বিভিন্ন স্থানে পণ্য নিয়ে যাওয়া হয়। পাইকারি ক্রেতারা জানান, পণ্যের পরিবহন খরচ দ্বিগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌপথেও ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করে পণ্য পরিবহন করা হয়। নৌযানগুলোর ভাড়া আগের চেয়ে ২/৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাকভাড়া বেড়েছে দূরত্ব ভেদে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলে পণ্যের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।