রমজানকে ঘিরে আবারো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৯
আবারো ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। বিদায়ী অর্থবছর (২০১২-২০১৩) জুড়ে দেশে গড় মুল্যস্ফীতির হার ছিলো ৭ দশমিক ৭০ ভাগ। অন্যদিকে শুধু জুন মাসে এ হার ছিলো ৭ দশমিক ৯৭ ভাগ। মে মাস নাগাদ সামান্য কিছুটা কমলেও পবিত্র রমজানকে ঘিরে আবারো দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
গতকাল রবিবার মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে দেখা যায়, ১৯৯৫-৯৬ ভিত্তি বছর অনুযায়ী বিদায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির গড় হার ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে গড়ে ছিলো ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আগারগাঁওয়ে ‘পরিসংখ্যান ভবনে’ আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন বিবিএস মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি হ্রাসে গৃহীত বিভিন্ন কৌশলের ফলে গত এক বছরে এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে চালের দাম নির্দিষ্ট সীমায় বেঁধে রাখার ফলে অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতিও কমেছে। একইসঙ্গে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার। আসন্ন রমজানে মূল্যস্ফীতির হার মে মাসের তুলনায় জুন মাসে কিছুটা বেড়েছে। একই কারণে মূল্যস্ফীতির সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বলে জানান বিবিএসের মহাপরিচালক। চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতির গতি নিম্নগামী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরাতন ভিত্তি বছর (১৯৯৫-৯৬) অনুসারে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মে মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে জুন মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। মে মাসে ছিল ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। নতুন ভিত্তি বছর অনুসারে (২০০৫-০৬) জুন মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে (জুনে) খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুন মাসে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
জুন মাসে মূল্যস্ফীতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবিএস উল্লেখ করেছে, খাদ্যপণ্যের মধ্যে মে মাসের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রধানত চাল, আটা, মাছ, শাক-সবজি, মসলা ও দুধের। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আবার খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মধ্যে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালী সামগ্রী, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন দ্রব্য ও সেবার দাম বেড়েছে।