অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক, নথিপত্র তলব
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৬
বাংলাদেশ বিমানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে অভিযোগের ঘটনা সংক্রান্ত সব ফাইল ও নথিপত্র তলব করে দুদক বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেভিন স্টিলকে চিঠি দিয়েছে দুদক। অপরদিকে বিমানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে দুদক। এই তালিকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমপক্ষে ১০ জন সিবিএ নেতাসহ প্রায় ৩০ জনের নাম রয়েছে। এসব তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চলতি মাসে নোটিস পাঠাবে দুদক। একইসাথে বিমানের দুর্নীতির ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠ পর্যায়ে দুদক অভিযান চালাবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
নোটিস পাঠানোর ব্যাপারে দুদকের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান মোনায়েম হোসেন জানিয়েছেন, বিমানের সাবেক এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক আহম্মেদের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে জেনারেল ম্যানেজার (জেলা বিক্রয়) থাকাকালে গ্রিনল্যান্ড ট্রাভেলস নামের এক ট্রাভেল এজেন্টকে টিকিট বিক্রির আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করার অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিমানের রেকর্ডপত্র দিতে বিমানের বর্তমান এমডিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। রেকর্ডপত্রে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকবে তাদেরকে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
দুদকসূত্র জানিয়েছে, গত ১ জুলাই কেভিন স্টিলকে পাঠানো চিঠিতে গ্রিনল্যান্ড ট্রাভেল এজেন্টের কাছে বেআইনিভাবে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে যে আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে সে সংক্রান্ত সবধরনের ডকুমেন্ট তলব করা হয়েছে। একইসাথে এই বিক্রিতে কারা জড়িত তাদের নামও চাওয়া হয়েছে। টিকিট বিক্রির টাকা বিমানকে পরিশোধ না করা সংক্রান্ত অডিট বা তদন্ত প্রতিবেদন এবং উল্লিখিত বিষয় নিয়ে বিমানের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত দুদকে জমা দেয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে দুদকসূত্র আরো জানিয়েছে, শিগগিরই দুদক থেকে বিমানের বৈদেশিক স্টেশনে নিয়োগ, বিমানের স্পেয়ার পার্টস ও মালামাল কেনাকাটা, উড়োজাহাজ মেরামত, উড়োজাহাজ ওভারহোলিং, ওভারহোলিং এজেন্ট নিয়োগ, জিএসএ নিয়োগ, পাইলট ও কেভিন ক্রু নিয়োগ, জ্বালানি তেল ক্রয়, ট্রেনিং, অনলাইন টিকিট বিক্রি, যানবাহন ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডেলিং, গ্রাউন্ড হান্ডেলিংয়ের ইকুইপমেন্ট ক্রয়, ওভারটাইম বিল সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। সূত্রটি আরো জানায়, দুদকসূত্রে জানা গেছে, বিমানের মালামাল ও এয়ারক্রাফটের স্পেয়ার পার্টস কেনাকাটা নিয়ে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।