পাকস্থলির আলসারের রোগীরা কীভাবে রোজা রাখবেন

ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

পবিত্র মাহে রমজানে পাকস্থলির আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিস বা পেপটিক আলসারে আক্রান্ত অনেক মুসলিম নর-নারী রোজা পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রাইটিসের রোগীরা কীভাবে সুস্থ থেকে রোজা রাখতে পারেন তার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। বিশেষজ্ঞগণের মতে যাদের গ্যাস্ট্রাইটিস আছে তারা সাধারণত তাদের গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, ক্ষুধামন্দা, পেপটিক ও স্টোম্যাক আলসার থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে হার্ট বার্ন, হজমে সমস্যা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গ থাকতে পারে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে গ্যাস্ট্রিক আলসার আরো খারাপ হতে পারে। তাই রমজানে এ ধরনের রোগীদের খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন আনা উচিত। উক্ত চিকিত্সকের মতে প্রথমে ইফতারির সময় বিশুদ্ধ পানি পান করবেন এবং চা-কফি, তৈলাক্ত খাবার, অধিক মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করবেন।

মিষ্টি জাতীয় খাবারও খেতে হবে কম। পাশাপাশি ইফতারে কম পরিমাণ আহার ভালো। তারাবির আগেও সামান্য আহার করতে পারেন। এছাড়া তারাবির পর পুষ্টিকর কোনো সুষম খাবার মেনুতে রাখতে হবে। তবে ঘুমানোর দেড় ঘণ্টা আগে কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো। এছাড়া যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের ইফতার, রাতের খাবার বা সেহরির পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়া বা বিছানায় যাওয়া উচিত নয়। এতে খাবার পাকস্থলির উপরের দিকে এসে বুকজ্বালা পোড়া করতে পারে। এছাড়া যাদের গ্যাস্ট্রিক আলসার রয়েছে এবং ওষুধ সেবন করেন তারাও চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। তবে যেহেতু সেহরির পর ইফতারি পযর্ন্ত দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকতে হয় সে কারণে সেহরি খাবার অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই ওমিপ্রাজল, ইসেমোপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করে নেওয়া ভালো।

লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ