সান্তাহার রেলওয়ে জংশন নানা সমস্যায় জর্জরিত
আনোয়ার হোসাইন, আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:০০
উত্তরাঞ্চলের বৃহত্ ও ব্যাস্ততম বগুড়ার আদমদীঘি সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে টয়লেট. পাণীয় জলের ও লোকবল বিশ্রামাগার সংকট টিকিট অপ্রতুল্য প¬াট ফরম অপরিচ্ছন্ন সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে সাধারন যাত্রীদের সীমাহিন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহত্ সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের উপড় দিয়ে প্রত্যহ ব্রোড গ্রেজ ও মিটার গ্রেজের ২৪ টি আন্তঃনগর সহ ৩৬ টি মেইল. লোকাল ট্রেন সহ বেশ কিছু তেলবাহী. মালবাহী ্ ট্রেন চলাচল করে থাকে। বৃটিশ আমলে নির্মিত সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে মাত্র ৩ কিলো মিটার পশ্চিমে নওগাঁ জেলা। এই জেলায় কোনরুপ রেল সংযোগ না থাকায় জেলার ১১টি উপজেলার শত শত ট্রেন যাত্রী সহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী সান্তাহার রেল ষ্টেশান হয়ে ঢাকা রাজশাহী খুলনা পাবতীপুর দিনাজপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিদিন রাত বিপুল ট্রেন যাত্রী যাতায়াত করে থাকলেও রেল জংশন স্টেশন যাত্রী সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমূখী। ৫নং প¬াটফরমে কোন সেড না থাকায় রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে যাত্রীদের ট্রেনে উঠা-নামা করতে হয়। এ প¬াটফর্মের সঙ্গে সড়ক পথের যোগাযোগ না থাকায় প্রত্যহ সকালে পদ্মরাগ মেইল ট্রেনে মাছ উঠা-নামায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় মত্স্য ব্যবসায়ীদের। হাজার হাজার ট্রেন যাত্রীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি টিউবওয়েল। ফলে পানীয় জলের তীব্র সংকট লেগেই রয়েছে। টয়লেট ব্যবস্থা মারাত্বক নাজুক। পর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে নারী যাত্রীদের প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে পড়তে হয় নানান বিড়ম্বনায়। নেই টিএন্ডটি’র টেলিফোন সংযোগ কিংবা অটো ডিজিটাল ঘড়ি ও আধুনিক টাইম টেবিল বোর্ড ও পৃথক অনুসন্ধান কেন্দ্র।
দ্বিতীয় শ্রেণীর বিশ্রামাগার সর্বদা নোংড়া ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকায় যাত্রীরা অবস্থান করতে পারেনা। যাত্রী সাধারণের মাঝে ট্রেনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচী উপস্থাপন সহ রেজিষ্ট্রার নিয়ন্ত্রণের জন্য মাত্র একজন সহকারী স্টেশন মাস্টার রয়েছেন। একই স্টেশন মাস্টারকে স্টেশনের দায়িত্বের পাশাপাশি রেলওয়ের আধুনিক ডিজিটাল সিগন্যালিং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পালন করতে হয়। ফলে যাত্রী ষ্টেশান মাষ্টারের নিকট গিয়ে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
এই ষ্টেশানে প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রী সাধারনের চাপ। আসন সংখ্য কম থাকায় টিকিট কাউন্টারে ২/৩ দিন আগেই শেষ হয়ে যায় রাজধানী অভিমুখে আন্তঃঃনগর ট্রেনের টিকিট । ইঞ্জিন বগি ও লোকবল স্বল্পতায় ইতিমধ্যে সান্তাহার লালমনিরহাট রুটে ৪ টি এমজি ট্রেন ও বিজি রুটে ২টি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এই স্টেশনে ১জন স্টেশন মাস্টার ও ১৫ জন সহকারি স্টেশন মাস্টারের পদ থাকলেও ১জন স্টেশন মাস্টার ও ৯ জন সহকারি স্টেশন মাস্টার দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ৬ জন সহকারী ষ্টেশান মাষ্টারের পদ খালি থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ ষ্টেশানে দায়িত্ব পালনে সর্বদা হিমশিম খেতে হচ্ছে স্টেশন মাস্টারদের। জরুরী ভিত্তিতে সকল শুন্য পদে লোকবল দিয়ে স্টেশনের সকল সমস্যা সমাধানে রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকষণ কামনা করেছেন ভোক্তভোগি যাত্রী সাধারন।