আড়াই হাজার বছরের
শীলাদেবীর ঘাট
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:০৫
অতি প্রাচীন এই শীলাদেবী ঘাটের এখন নাজুক দশা। শুধু সংস্কারের অভাবে আড়াই হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস আজ বিলীন হতে বসেছে। হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো ঐতিহ্য। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ঘাটটি টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে তারা আর পেরে উঠছেন না।
প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা দশমীতে শীলাদেবীর ঘাটে স্নান হয়। পূর্ণ্যার্থীরা পাপতাপ বিসর্জন দেন করতোয়ার জলে। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন স্নান করতে। এ ছাড়া প্রতি ১২ বছর পরপর পৌষ নারায়ণী যোগেও স্নান হয় এখানে।
কথিত আছে, করতোয়ার এই ঘাটে স্নান করে ত্রিরাত্রি উপবাস করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য হয়। হাজার বছরের ঐতিহ্য করতোয়ার এই স্নানোত্সবকে বাঙালি হিন্দুরা ভারতের গঙ্গাস্নানের মতোই পবিত্র মনে করেন। এখানে স্নানোত্সব উপলক্ষে আদিকাল থেকেই বহুসংখ্যক পুরোহিতসহ ধর্মানুরাগীদের সমাগম ঘটে। শীলাদেবীর ঘাট ইতিহাসের সাক্ষী। এই ঘাট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক কল্পকথা। আজ তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত মানুষের কাছে। এমনিতেও অনেক দর্শনার্থী আসেন এ ঘাটে। কিন্তু ইতিহাসের অংশ এই ঘাট সংস্কারের অভাবে এখন বিলুপ্ত প্রায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, করতোয়া নদীতে হাঁটু সমান পানিও থাকে না। এ ছাড়া ঘাটে আসতে যে সামান্য সড়ক রয়েছে সেটাও কাঁচা। এবড়ো-থেবড়ো হয়ে পড়েছে। আর এ ঘাটে এসে মানুষদের রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আট বছর আগে এ ঘাট এলাকায় রোদ-বৃষ্টির সময় মানুষের আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু কিছুদূর কাজ এগোনোর পরেই টাকার অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ সব সমস্যা সমাধানে মহাশ্মশান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জায়গাতে ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন। আশ্বাসও পাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যার আর সমাধান হচ্ছে না।