কাহালুর তালপাখা সারা দেশে
সমাদৃত
মোঃ আব্দুস ছালেক তোতা, কাহালু (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:০৬
বগুড়ার কাহালু উপজেলার ‘‘যোগীর ভবন’’ নামের গ্রামটি তালপাতার পাখা তৈরীর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আর এ গ্রামের বেশীর ভাগ পরিবারই সংসারের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক কারখানায় সারা বছর ধরে বাহারী রংগের হাত পাখা তৈরী করে বাড়তি আয় রোজগার করে থাকেন ।
কাহালু উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ উত্তরে পাইকড় ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত যোগীর ভবন নামের গ্রামটি।এ গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ হাত পাখা তৈরী শিল্পের সাথে জড়িত।কৃষি এবং সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এখানকার মানুষ বাড়তি আয়ের আশায় পাখা তৈরীর কাজ করে থাকেন।এমন কি এ গ্রামের বিত্তশালী ব্যক্তিরাও মজুরি বা চুক্তি ভিত্তিতে পাখা তৈরী করে নিয়ে পরে পাইকারী দামে বিক্রি করে থাকেন।যোগীর ভবনের তালপাতার তৈরী হাত পাখা শুধু উত্তরাঞ্চল নয় সারা দেশেই এর ব্যপক কদর রয়েছে।
এখানকার পাখা তৈরীর মুল উপকরন হলো তাল গাছের পাতা সহ ডাটা,বাশের ফালি,সুতো ও রং।যোগীর ভবন এবং এর পাশ্ববর্তী আড়োলা গ্রামে ৫ ধরনের হাত পাখা তৈরী হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে হরতন,ডাটা,পকেট,ঘুরকি ও সুতোর তৈরী পাখা।পাখা তৈরীর প্রধান উপকরন তাল গাছের ডাটা এরা নওগাঁ জেলার পত্নীতলা এবং ধামুরহাট উপজেলা এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।এ দিকে যুগীর ভবনের কোন পরিবার বছরে প্রায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার পিছ পর্যন্ত পাখা তৈরী করে থাকেন।এখানকার ছোট ছোট ছেলে মেয়ে এবং স্কুল/কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে পাখা তৈরীর কাজ করে থাকেন।তবে এ গ্রামের তৈরী পাখা গ্রামেই বাইরের পাইকারী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে থাকে।তবে পাইকারী ক্রেতারা আগে ভাগেই এদের অর্ডার দিয়ে যান।গ্রামবাসীরা জানান পাখা তৈরীর পুরো মৌসুম হলো বাংলা ফাল্গুন মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত।এ গ্রামের মানুষ সংসারের বিভিন্ন কাজের পাশা পাশি পাকা তৈরীর কাজ করে থাকেন।