ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি বন্ধ করুন

গত ৩০ জুন ২০১৩। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৮ম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি বন্ধ করুন নিবন্ধটির প্রতি আমার মত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। পূর্ব বাসাবো, ঢাকার জনৈক রেজাউল করিম খোকন-এর লেখাটা ছোট কিন্তু এর বিষয়বস্তু অনেক প্রায়োগিক, গভীর ও এর আশু প্রতিরোধ অত্যাবশ্যকীয় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়াতে আবার আমাদেরকে অবিলম্বে ইলেকট্রোনিক ব্যাংকিং পদ্ধতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবশ্যকতাই শুধু প্রমাণ করে না বরং সাথে সাথে সাধারণ মানুষের বহু কষ্টার্জিত অর্থের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ সচেতনতা ও গৃহীতব্য ব্যবস্থা অতীব জরুরী বিবেচনার দাবি রাখে। প্রসঙ্গতঃ আমার বক্তব্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতাটি জনসমক্ষে তুলে ধরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ATM বুথের আইটি সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ সমীপে পুনরায় আবেদন জানাচ্ছি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। ২০১০ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে আমি ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড-এর ৪৪৪৫ ১৭৭৭ ৭৮৯০ ৫৭০৪ নং ক্রেডিট কার্ডটি পাই যার সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের সীমা ছিল ৩৫,০০০ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রাসহ ২,০০,০০০ টাকা অর্থাত্ নীট ১,৬৫,০০০ টাকা বাংলাদেশি টাকার। আমি ০৬ মার্চ, ২০১০ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে মোট ১,৫৮,২০০ টাকা ওঠাই। ০৯ মার্চ, ২০১০ তারিখ অফিসে আসার পথে গুলশান সাউথ এ্যাভিনিউস্থ ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড-এর ATM বুথের বিপরীত দিকে গাড়ি থামিয়ে তাড়াহুড়োর সাথে সকাল ১০:৩২:৫৭ থেকে ১০:৩৪:৫৮ অর্থাত্ ২ মিনিট ১ সেকেন্ড সময়ে তিন বার কার্ড পাঞ্চ করে ব্যালেন্স পরীক্ষা করি; তিনবারই তিন রকম ব্যালেন্স দেখা দেয়ায় আমি অবাক হয়ে তত্ক্ষণাত্ তা মোবাইল ফোনে ব্যাংকের সহকারী অফিসার মিঃ মনিরুজ্জামানকে জানাই এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলি; ১০ মার্চ সকালে তিনি আমাকে জানান যে, আমার ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স নেগেটিভ এবং যে কোন কারণে এরকম হতে পারে তবে তা মাসের ২৫ তারিখে স্টেটমেন্ট তৈরির সময় ঠিক করা হবে। আমি বিষয়টি জরুরী বিবেচনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাই কিন্তু কোন জবাব পাই না; ২৫ মার্চ, ২০১০ তারিখের স্টেটমেন্ট পেয়ে দেখি ০৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে আমার ক্রেডিট কার্ডে তিনবারে (২০,০০০ + ২০,০০০ + ১০,০০০) =৫০,০০০ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন হিসাবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে অনেক চিঠিপত্র লেখালেখিসহ মিটিং-সিটিংও করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ঋণ সীমার অতিরিক্ত উক্ত ৫০,০০০ টাকা উত্তোলনের যথাযথ যৌক্তিকতা ও প্রামাণ্য CCTV ক্লিপ প্রদানে ব্যর্থ হয়ে আমাকে তাদের প্রকৃত প্রাপ্য সমুদয় টাকা (৫০,০০০ টাকা ও তার উপর প্রদেয় সুদ বাদে) পূর্ণ নিষ্পত্তিসাপেক্ষে প্রদানের মৌখিক অনুরোধ জানালে আমি তা এ্যাকাউন্ট পেয়ী চেকের মাধ্যমে ১০ মে, ২০১০ তারিখে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি মত পূর্ণ নিষ্পত্তির উল্লেখ করে একটি চিঠি ও ক্রেডিট কার্ডটিসহ ব্যাংকে জমা দেই। এরপর থেকে ব্যাংকের কাছ থেকে আমি আর কোন পাওনার তাগাদা বা স্টেটমেন্ট পাই নাই। আমি ভয়ে উক্ত ব্যাংকের ATM বুথে লেনদেন করাকে এড়িয়ে চলতে থাকি। ব্যাংকের সাথে চিঠিপত্র আদান প্রদানের এক পর্যায়ে ব্যাংকের ইলেকট্রোনিক জার্নাল থেকে দেখা যায় যে, আমার পর পরই (অনেকটা তাড়াহুড়ো করে আমার গা ঘেঁষেই, হতে পারে অফিস টাইমের কারণে) যে ব্যক্তি ১০:৩৪:৫৮ সময়ের অব্যবহিত পরেই উক্ত ATM বুথে ঢোকেন (যার কার্ড নং ৬০৬৩৬০১৩৮০০০০০৫১৩১, First Security Bank card) তিনি দীর্ঘ (প্রায়) দশ মিনিট পর ১০:৪৪:৫৮ মাত্র ১০,০০০ টাকা উত্তোলন করেন (উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বুথের বাইরে অপেক্ষমাণ লোক ছিল); স্বাভাবিক কারণেই মনে প্রশ্ন জাগে যে, এত ব্যস্ততম মুহূর্তে দীর্ঘ সময়ে বুথে তিনি কি করছিলেন? আমি নিশ্চিত যে ঐদিন আমি কোন টাকা ওঠাই নাই, CCTV ক্লিপই সঠিক ভাবে প্রমাণ দিতে সক্ষম যে আসলে কি ঘটেছিল? ব্যাংক যদি IT security নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় তা হলে আমার মত অন্যান্য গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতিসহ অনর্থক ভোগান্তির স্বীকার হবে যা একান্তই কাম্য নয়। যাহোক দীর্ঘদিন পর ২০১২ সালের সেপ্টম্বরের মাঝামাঝি ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড-এ আমার ব্যক্তিগত ১৬৪.১০১.২২৪১০ নম্বর এ্যাকাউন্টে ২২,০০০ টাকা জমা দেয়া হয়; দুঃখের বিষয় উক্ত টাকা উত্তোলনের জন্য NEXAS ডেবিট কার্ড পাঞ্চ করা হলে অপর্যাপ্ত তহবিল থাকার কারণে তা অমর্যদাপ্রাপ্ত হয়, ব্যাংকে যোগাযোগ করে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে ২২,০৩৩.৭২ টাকা ক্রেডিট কার্ডের প্রাপ্য টাকার বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছে। আমি ০৩ অক্টোবর ২০১২ তারিখে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড বিভাগীয় প্রধানকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করি এবং ব্যক্তিগতভাবে তার কার্যালয়ে দেখা করে বিষয়টির অফিসিয়াল ফরমালিটি সমাপ্তিসহ অবৈধভাবে কর্তনকৃত ২২,০৩৩.৭২ টাকা ফেরত প্রদান করার আবেদন জানালে তিনি আমাকে অবিলম্বে এতদ্বিষয়ক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রতিশ্রুত দিলেও অদ্যবধি তা পালন করা হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ অমীমাংসিত বিষয়টির ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। বৃহত্তর জনস্বার্থে আমার আবেদন অবিলম্বে গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ হয়রানির নিরসন হোন। লেখক :সাবেক প্রফেসর, ঢাকা সিটি কলেজ