প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে চাই প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থান
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৬
‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধী মানুষের অন্তর্ভুক্তির কর্মকৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, সামগ্রিক বিবেচনায় প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। আর যেহেতু খুব কম সংখ্যক শিশু পঞ্চম শ্রেণি অতিক্রম করতে পারছে, তাই তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান করে দেয়া প্রয়োজন। গতকাল ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে একশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি রজব আলী খান নজীব-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনএসডিসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জীবন কুমার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আইএলও-এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, আর্থার ইয়ার্ল শিয়ার্স। ফোরামের পরিচালক ডা. নাফিসুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহযোগী সমন্বয়কারী রফিক জামান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী মহাসচিব নাসরিন জাহান প্রমুখ।
জীবন কুমার চৌধুরী বলেন, কিছু অনগ্রসর মানুষকে কিভাবে মূলধারায় সম্পৃক্ত করা যায় সেই ভাবনা থেকেই মূলত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এই পরিমার্জন ও পরিবর্তন যোগ্য। যে খসড়াটি আপাতত তৈরি হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করার পরও এ বিষয়ে ভালো কিছু সংযুক্ত করা যাবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের নীতিমালায় ৮ম শ্রেণির বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন সমাজে অবহেলিত না থাকে এটাই মূল লক্ষ্য।
মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় রফিক জামান বলেন, সাম্প্রতিক বছরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের পর কি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মকৌশল প্রণয়নের আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভর্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে প্রতিবন্ধী ও কর্মজীবী শিশুই শিক্ষা বিযুক্ত শিশু। বর্তমানে দেশের ৯৫ভাগ শিশু পঞ্চম শ্রেণি অতিক্রম করতে পারছে না। অন্যদিকে এসব শিশু ১০ শতাংশ কেবল অষ্টম শ্রেণি অতিক্রম করতে পেরেছে। বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষদের সমাজে ঠাঁই দিতে এই কর্মকৌশলে তাদের দক্ষতা ও উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের বিবেচনা করা দরকার। যেহেতু খুব কম সংখ্যক শিশু পঞ্চম শ্রেণি অতিক্রম করতে পারছে। তাই তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান করে দেয়া প্রয়োজন বলে জানান।