এমডিজি পরবর্তী উন্নয়নে ১৩ দফা সুপারিশ

২০১৫ সালে শেষ হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এমডিজি। পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন দলিল প্রণয়নে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে ‘পিপলস ফোরাম অন এমডিজিস (পিএফএম)’। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত পিএফএম এর সমন্বয়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এসব সুপারিশ গতকাল উপস্থাপন করেন। রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুধিজনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পিপলস ফোরাম অন এমডিজিস (পিএফএম)’ এর উদ্যোগে গণসাক্ষরতা অভিযানের সহায়তায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সুপারিশগুলো হচ্ছে, দৈনিক অন্তত ২ ডলারের কম আয়ের মানুষকে হতদরিদ্র হিসেবে চি?িহ্নত করা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেসব দেশে শ্রমিক যাচ্ছেন সেসব দেশে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন বাধ্যতামূলক নিশ্চিত করা। সকল কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত কাজ নিশ্চিত করা। ১৪ বছরের নিচের শিশুদের শ্রম নেয়া নিষিদ্ধসহ বাধ্যতামূলক স্কুল শিক্ষা। সকল শিশু ও মায়ের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা এবং সমাজে নারীর জন্য সমান কাজের সুযোগ ও লিঙ্গ বিষয়ক অন্যায় প্রতিরোধসহ ১৩টি সুপারিশের খসড়া তুলে ধরেন তিনি। এসব সুপারিশের সর্বশেষ সুপারিশটি হচ্ছে, জাতিসংঘ সকল স্বল্পোন্নত দেশকে যেমন সুশাসন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয় তেমনি বিশ্বসম্প্রদায়কে সুশাসনের প্রতিশ্রুতিও আগামী দলিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, এভাবে সিভিল সোসাইটির সঙ্গে আলোচনায় বসে এমডিজি পরবর্তী উন্নয়ন দলিলে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ যাচাই বাছাই হবে। এরপর চূড়ান্ত করা হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএফএম আহ্বায়ক ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, মূল্যবোধ ছাড়া টেকসই সমাজ উন্নয়ন সম্ভব নয়। সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জাতীয় সমস্যাসমূহ দেখতে হবে। দেশের স্বার্থ ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে সিভিল সোসাইটি রিপোর্ট ও সরকারের রিপোর্ট পরিপূরক হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আইনুন নিশাত, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রেসিডেন্ট আয়শা খানম, অধ্যাপক সৌরভ শিকদার ও ড. মাহবুব হোসেনসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।