সাপের খেলা দেখিয়ে লিটনের সংসার চলে

বই-খাতা হাতে নিয়ে যখন স্কুলে যাবার কথা তখন পড়ালেখার রাস্তায় না গিয়ে সাপুড়ে পিতাকে সাপের খেলা দেখাতে সহযোগিতা করতে গিয়ে এখন পুরোদস্তুর সাপুড়ে লিটন মিয়া (৪০)। প্রতিভাবান হওয়ায় অল্পসময়ে জাদুবিদ্যা রপ্ত করেছেন, বাঁশি, ঢোল, হারমোনিয়াম, খমকসহ যে কোন বাদ্যযন্ত্র বাজানোরও দখল আছে তাঁর। এখন সাপের খেলা দেখিয়েই সাপুড়ে লিটন, স্ত্রী, ১ কন্যা ও ২ পুত্রসন্তানসহ ৫ জনের সংসার চলছে। উপজেলার পৌরসভাধীন ৯ নং ওয়ার্ড খন্দকবাড়ীয়া মহল্লার আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন সাপুড়ে লিটন। পিতার নাম টিপু সাপুড়ে। হাট,বাজার ও গ্রামাঞ্চলে সাপের প্রদর্শনী করে প্রতিদিন কখনো ৫০০, ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হলেও গড়ে তাঁর মাসিক আয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আয়কৃত এই টাকার একটা অংশ তাঁর পালিত সাপের খাবারের জন্য আর বাকি টাকা ব্যয় হয় সংসার খরচ হিসাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সর্প প্রদর্শনী করতে পারে না তখন বাড়িতে বসেই কাটাতে হয় কষ্টের অলস সময়গুলো। সর্প প্রদর্শনীর জন্য বর্তমানে লিটনের কাছে বালিগুড়া, বেতাঝাড়, গোখরা, উদয়নাগ, সূর্যমুখী, শঙ্খচূড়, সাংকেনী, কেউটে,অজগর ও পঙ্খীরাজসহ কয়েক প্রকারের সাপ রয়েছে। এই প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে সাপুড়ে লিটন জানায়, সাপ ধরা কিংবা খেলা দেখাতে কোন তন্ত্র-মন্ত্র বলতে কিছু নেই, সবই নির্ভর করে কৌশল ও সাহসের উপর। সে আরো জানায়, সরকার যদি আমাদের সাপুড়েদের নামমাত্র ফি নিয়ে সর্প প্রদর্শনীর লাইসেন্স করার সুযোগ করে দেয় তাহলে দেশের বিভিন্নস্থানে সর্প প্রদর্শনী করে সর্প সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আমাদের সাপুড়েদের রুটি-রোজগারের পথ সুগম হতো।