মিসরে মুরসি সমর্থকদের ওপর গুলিতে নিহত ৫১
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৫
মিসরের রাজধানী কায়রোতে গতকাল সোমবার ভোরে মুরসি সমর্থকদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিতে অর্ধশতাধিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকশ। পরে মুরসি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। গতকালের ব্যাপক প্রাণহানির পর সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিসরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনী গত বুধবার মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকে মুরসি সমর্থকরা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। গত কায়েকদিনেও বহু লোক হতাহত হয়েছে যাদের বেশির ভাগই মুরসি সমর্থক। মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে, এজন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত। গতকাল অন্তত ৫১ জন নিহতের পর মুসলিম ব্রাদারহুড সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ এনে তাদের প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। আরো ‘গণহত্যা’ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছে ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি। কট্টরপন্থি সলাফিস্ট নূর পার্টিও এই ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তারা মুরসির অপসারণে সমর্থন দিয়েছিল। খবর বিবিসির।
দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, মুরসির অস্ত্রধারী সমর্থকরা কায়রোয় তাদের একটি ব্যারাকে হামলা চালালে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু ইসলামপন্থি ব্রাদারহুড বলছে, ভোরে নামাজের সময় তাদের উপর গুলি চালানো হয়। এদিকে কায়রোতে ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির সদর দপ্তর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তল্লাশি করে সেখানে তারা অস্ত্র পেয়েছে।
গতকাল প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডস ক্লাবে রিপাবলিকান গার্ডের একটি ঘাঁটি আক্রান্ত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী বলছে। বিক্ষোভকারীরা মনে করে সেখানেই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে আটক রাখা হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড ঘাঁটি আক্রমণের কথা অস্বীকার করে এ ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে, রাবিয়া আল আওয়াদিয়া মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করছে। মুরসি সমর্থকরা কয়েকদিন ধরে কায়রোর এই সেনাঘাঁটির সামনে মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিও করে আসেছে। তারা বলছে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে তাহরির স্কয়ারে মুরসির-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর পক্ষে সমাবেশ করছে।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উদারপন্থি রাজনীতিবিদ এলবারাদিকে নিয়োগ করা নিয়ে বিরোধের কারণে থমকে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জিয়াদ বাহা-এলদিন নামে একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদের নাম শোনা যাচ্ছে। উদার ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক মহল এলবারাদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছিল।