গার্মেন্টস নিরাপত্তায় ৭০ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জোট
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৭
পোশাক ক্রেতাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিধানে একসঙ্গে কাজ করতে জোটবদ্ধ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্তত ৭০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা পরিদর্শন করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করে ক্রেতারা পোশাক কারখানার উন্নয়নে সহায়তা করবে। আগামী ৯ মাসের মধ্যে ক্রেতাদের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন কাজ শেষ করবে। তারপর প্রত্যেক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভোক্তাদের অভিহিত করবে তারা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে একথা বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, যে সব কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত নয় সেগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে ক্রেতারা অর্থের যোগান দেবে। সংশ্লিষ্ট ক্রেতা যে উদ্যোক্তা থেকে পোশাক কেনেন তার কারখানার উন্নয়নেই ক্রেতা অর্থ ব্যয় করবে। সামপ্রতিককালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর ব্যাপক প্রাণহানি হওয়ায় ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হয়। মূলত, ভোক্তাদের কারণেই ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশ হলে ভোক্তারা পোশাক কেনার আগে জানতে চাচ্ছে, পোশাকটি কোথায় উত্পাদন হয়েছে, সেখানকার কর্মপরিবেশ কেমনসহ নানা বিষয়।
উল্লেখ্য, রানা প্লাজা ধসের পর সুইডেনের এইচ এন্ড এমসহ অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মধ্যে শুধু অগ্নিকাণ্ড নিরোধসহ অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয়টি নয়, কারখানাগুলোকে অর্থ প্রদান করার কথাও বলা হয়েছে। এ চুক্তিতে যেসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষর করেছে সেগুলোর মধ্যে জারার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স, মেট্রো, ক্যারিফোর, মার্কস এন্ড স্পেন্সার, টেসকো, এসপ্রিট উল্লেখযোগ্য। এ চুক্তির পেছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে লেবার গ্রুপ ইন্ডাষ্ট্রিয়াল। সংগঠনটির জেনারেল সেক্রেটারি জারকি রাইনা ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে টেকসই এবং নিরাপদ করতে এ চুক্তিটি সহায়তা করবে। ক্রেতা, কারখানা মালিক, শ্রমিক এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কাজ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, রানা প্লাজা ধসের পর পশ্চিমা দেশের কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কারখানা মালিকদের কাছে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা, ডিজাইনসহ প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) খুঁটিনাটি চেয়েছেন। এছাড়া ভবনটি সঠিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে কিনা তার সার্টিফিকেটও চেয়েছেন কেউ কেউ। পোশাক শিল্প মালিকরা জানান, ভবন ধসের ঘটনার পর ক্রেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে কারখানার ইঞ্জিনিয়ারিং রিপোর্ট চেয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম সামছুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশে এখন অধিকাংশ ক্রেতার অফিস আছে। তারা অনেকেই ইতিমধ্যে ভবনের নকশা জমা দেয়ার জন্য কারখানা মালিকদের বলেছেন। যাদের অফিসে সেফটি বিভাগ নেই তাদের অনেকেই এজেন্সি নিয়োগ করছেন ভবনের নিরাপত্তা দেখার জন্য। সামছুদ্দিন বলেন, এভাবে ক্রেতারা যদি ভবনের নকশা চাইতে থাকে তাহলে অনেকের ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে তিনি ভবনগুলোর নিরাপত্তা দেখার জন্য সরকার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সমন্বয়ে যৌথ কমিটি করার প্রস্তাব দেন। প্রয়োজনে সরকারের এ খাতে লোকবল বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বিখ্যাত ব্রান্ড জেসিপেনির বাংলাদেশের পরিচালক জেনিফা জাব্বার বলেন, কারখানার ভবনটি নিয়ম মেনে করা হয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব প্রথমত সরকারের। এর পরের দায়িত্বটি বর্তায় কারখানা মালিকের ওপর। ক্রেতারা এ বিষয়ে দায় নেবে কেনো? তবে তিনি বলেন, যেহেতু এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেছে সেজন্য সবাই চিন্তা করছে কি করা যায়। তাঁর মতে, কারখানা মালিক, সরকার, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ সবাই মিলে এ বিষয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ক্রেতারা সহায়তা করতে পারে।