খুলনা হার্ডবোর্ড মিল আবার উত্পাদনে যাচ্ছে এ মাসেই

আর্থিক সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিন বছর বন্ধ থাকার পর খুলনা হার্ডবোর্ড মিল চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে আবার উত্পাদনে যাচ্ছে। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হলে চতুর্থ সপ্তাহে উত্পাদন শুরু হবে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই মিলে। উত্পাদন বিভাগের বিভিন্ন যন্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কারখানা চালুর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও চলতি মূলধন হিসাবে অর্থ মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে ১০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনকে (বিসিআইসি)। গত দুই বছর মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার হার্ডবোর্ড উত্পাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিসিআইসি। সুন্দরবনের আগামরা সুন্দরী কাঠের ওপর নির্ভর করে নগরীর খালিশপুরে ভৈরব নদের তীরে ৯ দশমিক ৯৬ একর জমির ওপর কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ১৯৬৫ সালে এই হার্ডবোর্ড মিলটি স্থাপন করে। ১৯৬৬ সালে এর বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়। শুরুতেই বছরে প্রায় ২১৫ লাখ বর্গফুট হার্ডবোর্ড উত্পাদন করতে থাকে মিলটি। উত্পাদন খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় স্বর্ণপদক পায় খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। ১৯৯১ সালে সরকারের নির্দেশে বন বিভাগ সুন্দরবনের আগামরা সুন্দরী কাঠ হার্ডবোর্ড মিলকে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশীয় বিভিন্ন জাতের জ্বালানি কাঠ বেশি দামে ক্রয় করে উত্পাদন চালু রাখে বিসিআইসি। সরকার ভর্তুকি না দেয়ায় ও চড়া দামে দেশীয় জ্বালানি কাঠ ক্রয় এবং দফায় দফায় ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুঁড়িয়ে চলতে থাকে মিলটি। লোকসান ও আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর আবারও মিলটি বন্ধ করে দেয় বিসিআইসি। বেকার হয়ে পড়েন প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। খুলনাবাসীর আন্দোলনের মুখে অবশেষে ২০০৫ সালের ১৪ আগস্ট মিলটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি ও মূলধনের অভাবে কিছুদিন পর পর মিলটি বন্ধ হতে থাকে পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে উত্পাদনে যাওয়া এই মিল। সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৬ জুলাই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আবারও মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। মিলের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম জানান, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাঁচ কোটি ও চলতি মূলধন হিসাবে পাঁচ কোটিসহ মোট ১০ কোটি টাকা চেয়ে বিসিআইসি ২০১০ সালের অক্টোবরে একটি প্রস্তাবনাপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে খুলনা হার্ডবোর্ড মিল ব্রেক ইভেনে (না লাভ না লোকসান) যাওয়ার শর্তে ১০ কোটি টাকা ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তিন কিস্তিতে ১০ কোটি টাকা হাতে পায় বিসিআইসি। ২০১২ সালের নভেম্বরে বিসিআইসি হার্ডবোর্ড মিল কর্তৃপক্ষের কাছে এ টাকা হস্তান্তর করে। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাজী রুহুল আমিন জানান, বিসিআইসি থেকে তিন কিস্তিতে যে পরিমাণ অর্থ হাতে পাওয়া গেছে তা দিয়ে কাজ প্রায় শেষ করার পথে। তিনি বলেন, মিলে উত্পাদন বন্ধের আগে প্রতি পিস্ হার্ডবোর্ড তৈরি করতে খরচ হতো ৩৮০ টাকা। বিসিআইসি প্রতি পিস্ হার্ডবোর্ডের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ায় এ হার্ডবোর্ড বাজারে বিক্রি করা হতো ২৬২ টাকায়। তবে এবার উত্পাদনে গেলে বাজার দর আরো বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।