বটিয়াঘাটা নদীর ‘স্বপ্নে পাওয়া মহৌষধ’ পান অবশেষে বন্ধ হলো
আব্দুল হামিদ, বটিয়াঘাটা (খুলনা)
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৫০
উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বুজবুনিয়া গ্রামে বহুল আলোচিত কাজিবাচা নদীর ঘোলা পানির ‘মহৌষধ’ পান অবশেষে বন্ধ করে দিল প্রশাসন। গত ২ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বটিয়াঘাটা নদীর ঘোলা পানিতে সর্বরোগের মহৌষধ’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই কুসংস্কার বন্ধ করার জন্য সচেতন মহল থেকে জোরালো দাবি উঠতে থাকে। এর প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তিমনি চাকমা, থানার ওসি এনামুল হকসহ এক বহর পুলিশ গতকাল ভোরে ট্রলারযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাজার হাজার মানুষের সমাগম দেখতে পান। তারা পানি পানের ঘাট ও আশপাশে হঠাত্ গড়ে উঠা অবৈধ দোকান, রাস্তার পাশে পেতে রাখা দান বাক্স, টাকা আদায়ের ড্রাম তুলে ফেলতে বাধ্য করেন। পারাপারের ব্যবসায় মেতে থাকা শতাধিক ট্রলার মাঝিকে গতকাল থেকে লোক আনা-নেয়া বন্ধের নির্শেন দেন। এরপর বন্ধ হয় রোগ সারানোর নামে বহুল আলোচিত এই ঘোলা পানি পানের মহড়া। এলাকায় গুজব রটেছিল যে, আমীরপুর ইউনিয়নের আকরাম হোসেনের স্ত্রী বিউটি বেগম কাজিবাচা নদীর পানিতে রোগ সারানোর ওষুধ আছে বলে স্বপ্ন দেখেছিলেন। এরপর সেই পানি পানের জন্য শুরু হয় হাজার হাজার নারী- পুরুষ-শিশুর হুড়োহুড়ি।
জানা গেছে, এই নদীতে স্বপ্নে পাওয়া মহৌষধ (নদীর ঘোলা পানি) প্রাপ্তির গুজব শুনে হুজুগে পড়ে মানুষ দুরারোগ্য অসুখ সারানোর আশায় দীর্ঘ ৩ মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে আসছিল। নদী পার করার খেয়ামাঝি থেকে শুরু করে অগণিত ট্রলার মাঝি মাত্র দুই মাসে লাখপতি হয়ে উঠে। সরল বিশ্বাসে নদীর দূষিত পানি পান করে পাল্টা অসুখে পড়ছিল অনেকে। বিষয়টি গত মাসে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় উত্থাপিত হয়। কিন্তু হাজার হাজার মানুষকে সামাল দেয়ার উপায় তারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, সার্বিক ঘটনা সম্পর্কে জেলার মিটিংয়ে বলা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করা হয়েছে। সবাই অভিমত দিয়েছে এই প্রতারণা বন্ধ করা প্রয়োজন। অপরদিকে ইউএনও শান্তিমনি চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, আজ থেকে প্রতিদিন ট্রলারযোগে নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা হবে।