কাঁচা চা পাতার মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছে তেঁতুলিয়ার ক্ষুদ্র চা চাষিরা। তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান রোড এলাকায় গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচি চলাকালে প্রায় দেড় সহস্রাধিক চা চাষি মহাসড়কে বসে পড়েন। অবরোধকারীরা মহাসড়কেই জোহরের নামাজ আদায় করেন। এসময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।
বক্তারা বলেন, চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটি নির্ধারিত মূল্য দিচ্ছে না চা কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানাগুলো সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা মূল্য কমিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বড় চা বাগান মালিকের যোগসাজশে কাঁচা চা পাতার মূল্য কমিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চা কারখানা মালিক, বাগানের মালিক, ক্ষুদ্র চা চাষিদের নেতৃবৃন্দ ও টি বোর্ডের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় এ বছরের জন্য কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু গত ৬ মে পঞ্চগড়ের সকল চা কারখানা হঠাত্ করেই কাঁচা চা পাতার মূল্য প্রতি কেজিতে ২০ টাকা দরে প্রদান করে। চাষিরা ক্ষুব্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ শুরু করে। কয়েক দফা মানববন্ধনও করে তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
এ ব্যাপারে বাংলা টি ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ টি ফ্যাক্টরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মো. শাহ্আলম জানান, গত এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে হঠাত্ করেই অকশন মার্কেটে প্রস্তুতকৃত চায়ের দাম কমে যায়। এ বছরেই ২ দফা প্রস্তুতকৃত চায়ের মূল্য কমেছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চা পাতা কিনলে কারখানা মালিকরা লোকসানে পড়বে। তাই হঠাত্ করেই কাঁচা চা পাতার মূল্য কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ টি বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামিম আল মামুন জানান, আগামী ১৫ তারিখে চায়ের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা ডেকেছেন জেলা প্রশাসক। আশাকরি সেদিনই চাষিদের সমস্যা সমাধান হবে।