মেধাবীদের গল্প
সেরাদের সেরা স্নিগ্ধা
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪১
নাম তার মাহফুজা আফরোজ স্নিগ্ধা। ক্যাম্পাসে সবার কাছে স্নিগ্ধা নামেই পরিচিত। সবার পরিচিত দুচোখ ভরা স্বপ্ন ও হাস্যোজ্জ্বল তার এই মুখখানা। ক্যাম্পাসে সিনিয়র জুনিয়র সবারই প্রিয় সে। এমনকি শিক্ষকদেরও স্নেহের পাত্র। সাভারের গাজীরচট গ্রামে তার জন্ম। সরকারি চাকরিজীবী বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান স্নিগ্ধা। ছোট বেলা থেকেই পড়ুয়া ছাত্রী এবং তীক্ষ্ন বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। পড়তে তার অনেক ভালো লাগে। তাই বই সবচেয়ে তার কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে। মেয়ের পড়াশোনার মননিবেশ দেখে ছোট বেলা থেকেই বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল- মেয়ে বড় হয়ে মেডিক্যালে পড়বে। তবে স্নিগ্ধার ইচ্ছাটা ছিল একটু ব্যতিক্রম। সে তার শিক্ষিকা মাকে অনুসরণ করতে থাকে। ভালবেসে ফেলে মায়ের শিক্ষকতার পেশাকে। আর সেই ভাললাগাটাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্বপ্নে পরিণত হয় তার। স্বপ্নই তাই চেষ্টার একমাত্র সিঁড়ি।
২০০৮ সালে ভর্তি যুদ্ধকে মোকাবেলা করে ভর্তি হয় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ না করতে পারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিষয়ে ভর্তি হওয়ায় ভেঙে পড়েনি স্নিগ্ধা। লেখা-পড়াকে ছোট বেলার মতো আবারও আঁকড়ে ধরে। ক্যাম্পাস জীবনের কোন বাধাই তাকে হার মানাতে পারেনি। ৩ নম্বরের কুইজ পরীক্ষা নিয়েও ছিল সমান চেষ্টা। আর সেই চেষ্টাই তাকে সেরাদের সেরা স্থানটি কেড়ে দেয়। সম্প্রতি প্রকাশ পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ৩য় ব্যাচের স্নাতক ডিগ্রির ফলাফল। এই ফলাফলে স্নিগ্ধাই সবার সেরা স্থানটি দখল করেছে। আট সেমিস্টারে ৪-এর মধ্যে তার পয়েন্ট ৩.৯৬।
স্নিগ্ধা জানান, লেখাপড়া ছোট বেলা থেকেই আমার খুব পছন্দ। আমি পড়তে ভালবাসি। পড়ার পাশাপাশি কাউকে বুঝাতে আমার আরো ভালো লাগে। আমার মা আমার একজন শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই মাকে অনুসরণ করেছি। সেজন্য শিক্ষকতা পেশাকে আমি খুব সম্মান করি ও ভালবাসি। শিক্ষক হয়ে কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণের উপর নতুন কিছু করতে চাই। বর্তমানে গ্রামের মহিলাদের বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট খামারে কৃষি উত্পাদন এবং সেগুলো লোকাল মার্কেটে বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছি। কারণ আমাদের দেশে কৃষি পণ্য বিক্রির নানা মার্কেট রয়েছে, তবে বাজরজাতকরণের কোন সঠিক প্রক্রিয়া নেই। ফলে সকল পণ্য সমানভাবে সঠিক সময়ে সঠিক দামে সব জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে না। আর এ জন্যই কৃষকরা দিন দিন নানা ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং তার পেশা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।