গল্প নয় সত্যি

বাসের সিট নিয়ে আন্দোলন!

অন্য কারও সুবিধা যখন নিজের জন্যই বড় ধরনের অসুবিধা ডেকে আনে তখন অনেকেই হয়তো পরশ্রীকাতর হয়ে ওঠেন। আর এভাবে অন্যের সুবিধার জন্য নিজেদের অসুবিধার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই এবার নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রদেশের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাপ্তাহিক কাজের দিনগুলোতে প্রবীণ ও পেনশনভোগীদের জন্য বাসের সিট ছেড়ে দেবার কারণে তাদের যে ভোগান্তি হয় তা দূর করার জন্য প্রবীণ ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। তাছাড়া ব্যস্ত সময়ে যখন বাসে উঠতে বা নামতে এরা তুলনামূলক বেশি সময় নেন তখন তা পক্ষান্তরে শিক্ষার্থীদের দেরির কারণ হয়েও দেখা দেয়। নিজেদের এই দাবির স্বপক্ষে গেল সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রদেশের বাস স্টেশন ও রাস্তায় প্রতিবাদমূলক বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শণ করে শিক্ষার্থীরা। এমনকি জিনহুয়া ও ঝেঝিয়াং প্রদেশের মতো দু’একটি প্রদেশে রাস্তা অবরোধ করে বাস দখল করে নেওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটিয়েছে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্বের সবদেশেই প্রবীণদের জন্য সিট ছেড়ে দেবার নিয়ম থাকলেও এই সুবিধায় নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করে প্রতিবাদকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাদের সম্মান দেখাতে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমরা শুধু চাই তারা যেন দিনের ব্যস্ত সময়গুলোতে যেমন ক্লাস বা অফিসে যাবার ও ফেরার সময় ভ্রমণ না করে এই সময়ের আগে বা পরে ভ্রমণ করেন। কেননা একে তো তাদের জন্য আমাদেরকে বাসে আসন পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তার উপর ওঠা-নামায় বাড়তি সময় নেবার কারণে সেটি যাত্রা সময়ও বাড়িয়ে দেয়।’ এদিকে ব্যস্ত ও জনবহুল চীনে এই বিষয়টি খানিকটা সমস্যার বলে মনে করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমালোচনা উঠেছে খোদ চীনেই। অধিকাংশ স্থানেই বাস কোম্পানিগুলো শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে বাস কোম্পানিগুলোর একজন প্রতিনিধি কঠোর ভাষায় এই আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, ‘বয়োজ্যেষ্ঠদের কীভাবে আরও সম্মান দিতে হয় তা এদের শেখা উচিত। প্রবীণ এই ব্যক্তিরা তাদের সারা জীবন পরিশ্রম করেছেন এবং সিটে বসার অধিকারটিও তারা তাদের পরিশ্রম দিয়েই অর্জন করেছেন।’