আদিবাসীদের ভূমি দখলে সক্রিয় সর্বদলীয় সিন্ডিকেট
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৪
আদিবাসীদের ভূমি দখলের সকল অপতত্পরতা বন্ধ করতে যথাযথ আইনী ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, আদিবাসীদের ভূমি দখলের ক্ষেত্রে ভূমিদস্যুরা যে দলই করুক না কেন তারা এসময় সর্বদলীয় সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। আদিবাসীদের ভূমি দখলে তাদের এ সর্বদলীয় সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। শুধু আদিবাসীদের প্রচেষ্টায় এটা ভাঙা সম্ভব হবে না। আমাদের সকলকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা অবিলম্বে সর্বদলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ ও ‘কাপেং ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে আয়োজিত দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে আদিবাসী পল্লী ও চার্চে হামলার প্রেক্ষিতে পরিদর্শনোত্তর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলে যেভাবে আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে তাতে বলা যায় রাষ্ট্র একটি ‘নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, এদেশের সকল ধরনের লোকের সরকারের যেকোন উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাতে আমরা প্রশাসনিক বাধা দেখছি। প্রশাসন আদিবাসীদের ‘ক্ষুদ্র’ বলে ওঠতে দেন না, রাষ্ট্র এদের নাম দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। রাষ্ট্র এভাবে তাদের অবমাননা করছে যা রাষ্ট্রের অপরাধ।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য সরেজমিনে ঘটনা পরিদর্শনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সেখানে খ্রিষ্টান চার্চের ওপরেও হামলা হয়েছে, ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে, মালামাল লুট হয়েছে, আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তিনি বলেন ‘আমরা দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক, এসপি, এডিশনাল এসপি, ওসিদের সাথে কথা বলেছি তারা বলেছেন এটি একটি সাধারণ ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের অবস্থা আরো খারাপ ও করুণ হচ্ছে তাদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রতিকার হওয়া উচিত। কিন্তু রাষ্ট্রে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে এটা তো তাদের দায়িত্ব এর বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেয়ার। কিন্তু বাস্তবতা হলো আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র আন্তরিক না।
রাজীব মীর তার বক্তব্যে কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, আদিবাসীদের ভূমি দখলের সকল অপতত্পরতা বন্ধ করতে যথাযথ আইনী ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ, আটককৃত আদিবাসীদের মুক্তির ব্যবস্থা, হামলাকারী ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার, চার্চ ও তার আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত, আতংক নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি এবং আদিবাসী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আদিবাসী জনগণের জন্য বিশেষ সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারসহ সকল ক্ষতিগ্রস্থদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
কাপেং ফাউন্ডেশনের সদস্য দীপায়ন খীসার পরিচালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীর। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সালিম সামাদ।