গ্রামাঞ্চলে প্রবীণরা প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ও পুষ্টি পাচ্ছেন না
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
দেশে গ্রামীণ সমাজে বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় সেবা পেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য যথাযথ চিকিত্সাসেবা ও মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন না। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯ দশমিক ৪ জন ষাট ও তদূর্ধ্ব বয়সের। এদের মধ্যে শতকরা ৩২ জন অপুষ্টিতে ভুগছেন, ১০ জনের রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত ওজন, ৪৩ জনের রয়েছে বিভিন্ন মাত্রার হাইপারটেনশন সমস্যা। আর ৮ জন ভুগছেন ডায়াবেটিক সমস্যায়।
সমপ্রতি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বাংলাদেশের ষাট ও তদূর্ধ্ব বয়সের গ্রামীণ মানুষের আচরণগত বিষয়, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জীবনমান বিষয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউসুফ এন্ড এসোসিয়েটস্ উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইসিডিডিআর’বি মিলনায়তনে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন এর মুখ্য গবেষক অধ্যাপক ড. শাহ মো: কেরামত আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা: মো. এখলাসুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য ও ডব্লিউএইচও) শফিকুল ইসলাম লস্কর। মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা: এম আর খান। আরও উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ অ্যান্ড এসোসিয়েটস-এর প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।
জাতীয় অধ্যাপক ডা: এম আর খান বলেন, ‘আমাদের প্রবীণরা কিন্তু বিচ্ছিন্ন। তাদের জন্য আমরা কি করতে পারি তা নিয়ে ভাবতে হবে। তারা যে পরিবেশে থাকতে চান, সে পরিবেশে তাদের কিভাবে ভালো রাখা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে এলাকায় এলাকায় কমিটি বা ক্লাব করে সেখানে প্রবীণদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
প্রবীণ নীতিমালায় তাদের সিনিয়র সিটিজেনের স্বীকৃতি দিতে প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবীণদের যানবাহনে, হাসপাতালে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যানবাহনে, হাসপাতালে তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিব শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় দেশ এখন ভালো অবস্থানে থাকলেও পুষ্টিতে পিছিয়ে আছে। যে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে।
অধ্যাপক ডা: মো. এখলাছুর রহমান বলেন, প্রবীণদের প্রতি কেউ নজর দিচ্ছে না। অথচ দেশে প্রবীণের সংখ্যা ১০ মিলিয়ন। তারা অসুখসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।
অধ্যাপক ড. শাহ মো: কেরামত আলী বলেন, এ গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সচেতনতা বাড়াতে সরকার, দাতাসংস্থা, দেশি ও বিদেশি মানবাধিকার ও কল্যাণ সংস্থাসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।