রমজানে পুলিশের চাঁদাবাজি ঠেকাতে কন্ট্রোল রুম
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৭
রমজানে শুধু চাঁদাবাজই নয়, খোদ পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ সদর দফতর। চাঁদাবাজি মনিটরিংয়ের জন্য আজ বুধবার থেকে চালু হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। প্রথম রোজা থেকে ঈদ-উল ফিতর পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত পুলিশ সদর দফতর এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে এ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কোন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাত্ক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা । পুলিশ সদর দফতরে রমজানে আইন-শৃংখলা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত বৈঠকে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার এ নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, রমজানে আইন-শৃঙ্খলা যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে তার উপরই গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয় চাঁদাবাজি নিয়ে। রমজানের সময় বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদাবাজদের উত্পাত বাড়ে। সেই সঙ্গে বিশেষ করে মহাসড়কেও পুলিশ বিভিন্ন অজুহাতে উেকাচ আদায় শুরু করে। আর এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ভুক্তভোগীরাও সরাসরি কন্ট্রোলরুমে জানাতে পারবেন। সূত্র জানায়, সভায় রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই , সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ, রেলওয়ে ষ্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির তত্পরতা বন্ধে বিশেষ টিম গঠনের সিন্ধান্ত নেয়া হয়। আর মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশ সমন্বয় টিম গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে সুষ্ঠু যান চলাচলের সুবিধার্থে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতিরেকে মহাসড়কে কোন যানবাহন তল্লাশি করা যাবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে মহাসড়কে নসিমন, করিমন ,ভ্যান এবং রিকশা চলাচল বন্ধের সিন্ধান্ত নেয়া হয়।
অপর দিকে ঈদে মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে ষ্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ, মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়েছেন, রজমান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সব ধরনের অপতত্পরতা যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা হবে। ঈদে বিপণী বিতান ও ব্যাংকসহ অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই প্রতিরোধ, জাল নোটের বিস্তার রোধসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিশেষ করে মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে যানজট নিরসনে তিনি হাইওয়ে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীর কোন সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে রমজান উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ডিএমপি পুলিশ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার, মাদক ব্যবসায়ী ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।