ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে সব সত্য বলেছি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির পক্ষের সাফাই সাক্ষী নিজাম আহমেদকে জেরা শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। জেরাকালে এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে যে জবানবন্দি দিয়েছি তার সব কথা সত্যি। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। যদিও দুইজন সাক্ষী ঢাকার বাইরে রয়েছেন দাবি করে সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ফখরুল ইসলাম তিন সপ্তাহের জন্য মামলার কার্যক্রম মুলতবি করার আহবান জানিয়েছিলেন। গতকাল সাক্ষী নিজাম আহমেদকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম। জেরায় শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি ১৯৬৬ সালে ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৮ সালে নটরডেম কলেজ থেকে একই বিভাগে এইচএসসি পাস করেছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮-৬৯ ব্যাচে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হই। মুক্তিযুদ্ধের কারণে অর্থনীতি সম্মান কোর্স সম্পন্ন করতে পারিনি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে বিএ পাস কোর্সে পাস করেছি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ৬ দফা এবং ১১ দফার ভিত্তিতে গণআন্দোলন ছিল কিনা জেরায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কথা সত্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন আইয়ুব খানের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল। তবে তা বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ আধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল কি না আমি জানি না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। ১৯৭৪ সালে হোটেল পূর্বাণীতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে আপনার দেখা হওয়ার আগে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে করাচিতে দেখা হয়নি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এ প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি জবানবন্দিতে সব সত্য বলেছি। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে করাচিতে সালাউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে আমার দেখা হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে শ্রীলংকার উপর দিয়ে যেতে হতো। এজন্য ৬ ঘণ্টা সময় লাগতো। এছাড়া তিনি জেরায় বলেন, ১৯৬৯ সালে শহীদ আসাদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পুরাতন ইমার্জেন্সির বিপরীতে রাস্তার উপর। শহীদ আসাদ যখন গুলিবিদ্ধ হন তখন তিনি আমার থেকে দুই ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সালমান, কাইয়ুম, সালাউদ্দিন ও আমি একত্রে ছিলাম। সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এমন বক্তব্য তিনি অস্বীকার করেন। জেরা চলাকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফা বাকবিতণ্ডা হয়। জেরা শেষে আইনজীবী সালাউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের একজন কৌঁসুলি বলেন, এখানে প্রেস ব্রিফিংয়ের মতো কথা বলা হয়। পরদিন তা পত্রিকায় প্রকাশ পায়। রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ট্রাইব্যুনাল সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবীকে সতর্ক করেন।