শ্রুতির প্রত্যাবর্তন

শ্রুতি হাসানকে নিয়ে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, বলিউডে শ্রুতির নতুন ইনিংস শুরু হচ্ছে। হিন্দি সিনেমায় আরও কয়েক বছর আগে ক্যারিয়ার শুরু করলেও অভিনীত ছবিগুলোর ব্যর্থতায় থমকে গিয়েছিল বলিউডে তার পথ চলা। অপূর্ব সুন্দরী, সুগায়িকা শ্রুতি দক্ষিণী তামিল তেলেগু সিনেমায় তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। সেখানে সাফল্য পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে তার ক্যারিয়ার ওখানেই জমে ওঠেছে। তাই বলে বলিউডে অভিনয়ের মাধ্যমে এখানে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন-সাধ উঠে যায়নি শ্রুতির মন থেকে। তার সৌন্দর্য মেধা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতাই আবার তাকে টেনে এনেছে এখানে। আগামী সপ্তাহে শ্রুতি অভিনীত দু’দুটি হিন্দি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে একসঙ্গে। এর মাধ্যমে বলিউডি সিনেমায় চমক লাগানো প্রত্যাবর্তন ঘটতে যাচ্ছে তার। ইতোমধ্যে মুক্তি প্রতীক্ষিত নতুন দুটি ছবিতে তার অভিনয়, লুক, গেট আপ, গ্ল্যামারাস উপস্থিতি ইত্যাদি দর্শকদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বলিউডে শ্রুতি হাসানের আবার ফিরে আসার গল্প তুলে ধরেছেন রেজাউল করিম খোকন বলিউডে শ্রুতি হাসানের পদচারণা শুরু হয়েছিল এক যুগ আগে। ২০০০ সালে বাবা কমল হাসানের ‘হে রাম’ ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে তাকে দেখা গিয়েছিল। স্বল্প সময়ের পর্দা উপস্থিতিতেও শ্রুতি তখন সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন। দক্ষিণী সিনেমার কয়েক যুগের অসাধারণ জনপ্রিয় গুণী অভিনেতা চিত্রনির্মাতা কমল হাসান ও একদার বলিউড তারকা অভিনেত্রী সারিকা দম্পতির কন্যাটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময়ী—এটা শ্রুতি জানান দিয়েছিলেন ‘হে রাম’ ছবিতেই। এরপর অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে। একজন গায়িকা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণী সিনেমায় নায়িকারূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি ততোদিনে। গান এবং দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয়ের ফাঁকে ২০০৯-এ শ্রুতি আবার বলিউডে পা রাখেন। ‘লাক’ ছবিতে তাকে দেখা যায় ইমরান খানের বিপরীতে নায়িকা চরিত্রে। অ্যাকশনধর্মী ছবিটিতে শ্রুতি দারুণ স্মার্ট এক তরুণীরূপে পর্দায় উপস্থিত হয়েছিলেন। খোলামেলা ইমেজে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হয়ে বিরূপ সমালোচনার শিকারও হয়েছিলেন কমল হাসান তনয়া। উপরন্তু ‘লাক’ ছবিটির বক্স অফিস ভরাডুবি শ্রুতিকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল। অভিনীত ছবির ব্যর্থতা ও দর্শক-সমালোচকদের নিন্দায় কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন শ্রুতি। এরপর আবার তাকে দেখা যায় কমেডি রোমান্টিক ধাঁচের ছবি ‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’তে। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতে ইমরান হাশমির প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শ্রুতি হাসান। এ ছবিটিও দর্শক বিপুলভাবে গ্রহণ না করায় তিনি বলিউডে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তামিল তেলেগু সিনেমায় মনোযোগী হন শ্রুতি এবং দক্ষিণী চিত্রালোকেই তার ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বলিউডের দর্শক তারপরেও তাকে ভুলতে পারেনি। মাঝখানে মল্লিকা শেরওয়াত অভিনীত ইন্দো বলিউডি সিনেমা ‘হিসস্’-এ শ্রুতি কয়েকটি গানে প্লেব্যাক করেছিলেন। এ ক্ষেত্রেও সাফল্য পাননি তিনি। দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউডে নতুনভাবে ক্যারিয়ার শুরু করে একদা হেমা মালিনী, বৈজয়ন্তীমালা, রেখা, শ্রীদেবী, জয়া প্রদারা যেভাবে নিজেদের সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আজকাল দক্ষিণী নায়িকারা বলিউডে তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। শ্রুতির বেলায়ও তাই ঘটেছে। ইতোমধ্যে দুটি ছবিতে অভিনয় করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। মাঝখানে কিছুটা উত্সাহ হারালেও একেবারে হাল ছেড়ে দেননি দক্ষিণী সিনেমার মেধাবী এই অভিনেত্রী। সব ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে শ্রুতি হাসান আবার অভিনয় করেছেন দুটি ছবিতে। ছবিগুলো হলো ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’ ও ‘ডি ডে’। এরমধ্যে প্রথমটির পরিচালক প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার হিট নির্মাতা প্রভু দেবা। ‘ওয়ান্টেড’, ‘রাওডি রাঠোর’ খ্যাত এই সুপারহিট পরিচালক তার পরিচালিত প্রথম তেলেগু সিনেমা ‘নুভভুসটানাতে নেনোড্ডানটান’র হিন্দি রিমেক ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’য় শ্রুতি হাসানকে কাস্ট করেছেন নতুন নায়ক গিরিশ কুমারের বিপরীতে। চমত্কার রোমান্টিক ধাঁচের এ ছবির প্রচারণা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এ ছবির বেশ কয়েকটি গান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারের সুবাদে শ্রুতি নতুনভাবে দর্শকদের নজর কেড়েছেন। অনেকেই এ ছবিকে শ্রুতির ‘কামব্যাক মুভি’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমার কামব্যাক মুভি নয়। মাঝখানে কিছুদিন বলিউডের ছবিতে কাজ করা হয়নি আমার। আমি ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’ ছবিটিকে কামব্যাক হিন্দি মুভি বলব না। আমি এ জন্য স্পেশাল কিছু করিনি। এ নিয়ে আমার কোনো টেনশন কিংবা আক্ষেপও ছিল না।’ শ্রুতি এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘আসলে এর মধ্যে আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয়ের অফার পেয়েছিলাম কিন্তু বেশ অনেকগুলো দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকায় আমি আর বলিউডের ডাকে সাড়া দেওয়ার সুযোগ পাইনি, ওখানেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।’ ‘রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া’ ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রুতি বলেন, ‘এখানে আমার অভিনীত চরিত্রের নাম সোনা, ভীষণ মিষ্টি একটি মেয়ে যাকে ঘিরেই পুরো ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে। দর্শকদের ভালো লাগবে তাকে।’ একই সঙ্গে তার অভিনীত ‘ডি ডে’ ছবিটিও মুক্তি পাচ্ছে। অ্যাকশন ধাঁচের এ ছবিতে অনেকটা খোলামেলা হয়ে পর্দায় আসবেন শ্রুতি। এখানে অর্জুন রামপালের সঙ্গে সাহসী কিছু দৃশ্যে দেখা যাবে তাকে। এ প্রসঙ্গে ২৭ বছর বয়সী এই তন্বী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একজন পতিতার চরিত্রে রূপদান করেছি ‘ডি ডে’ ছবিতে। পাকিস্তানের করাচি শহরের মেয়েটির নাম সুরাইয়া। তার মুখের এক পাশ পোড়া। ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ ছবিতে জিনাত আমানকে যেমনটা দেখা গিয়েছিল। অভিনীত চরিত্রের প্রয়োজনে আমি অনেক কিছু করেছি এখানে। অন্তরঙ্গ মনে হলেও আমার অভিনীত দৃশ্যগুলো অশ্লীল নয়, বরং ভিন্নমাত্রার প্রেম ফুটে উঠবে দৃশ্যগুলোতে। প্রসথেটিক মেকআপের বদৌলতে চেহারার ক্ষতটি ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এর জিনাম আমানের চেয়ে বাস্তবধর্মী মনে হবে।’ ‘ডি ডে’ ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন শ্রুতি, তাই সিদ্ধান্তের জন্য বাবা কমল হাসানের শরণাপন্ন হন। আগেও বাবা তাকে সব ধরনের ছোট-বড় পরামর্শ দিয়েছেন। বিকৃত চেহারার মেয়েটির চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়ার পর শ্রুতি তাতে রাজি হয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ‘লাক’ ছবিতে স্বল্প পোশাকে অভিনয়ের জন্যও বাবা তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।