ব্র্যাডের জোম্বি যুদ্ধ

হলিউডি মুভি প্রেমীরা অপেক্ষায় থাকেন কবে মুক্তি পাবে ব্র্যাড পিটের সিনেমা। সবসময় সাড়া জাগানো ভিন্নধর্মী অভিনয় দিয়ে দর্শক মাতিয়ে রাখেন ব্র্যাড পিট। পিটের ভক্তদের জন্য সুখবর যে, সম্প্রতি তার একটি নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। জোম্বিদের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর ব্র্যাড পিট ও ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ নিয়ে আজকের আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ হলিউডের একটি নতুন ছবি। ৩৫তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয় গত ২ জুন। মার্ক ফর্স্টার পরিচালিত এ ছবিতে ম্যাডক্সকে দেখা যাবে। যাদের ম্যাডক্সের সাথে পরিচয় নেই তাদের জন্য বলি, ম্যাডক্স হলেন ব্র্যাড পিটের ছেলে। এ সিনেমাতে ছেলের সাথে বাবা ব্র্যাড পিটও থাকছেন। মোট কথা বাবা ও ছেলের ছবি ‘দ্য ওয়ার ওয়ার্ল্ড জেড’। ব্র্যাড পিট জানান, তার সন্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই ছবিতে। সেই সাথে তিনি হাসতে হাসতে আরও যোগ করেন, ‘কোনো বাবা-মায়ের পক্ষেই দেখা সম্ভব না যে তার সন্তান গুলি খাচ্ছে। অথচ সেই দৃশ্যেই দেখা যাবে আমার সন্তানকে।’ সিনেমার গল্প ছবির কাহিনীতে দেখা যাবে অবসরপ্রাপ্ত জাতিসংঘ কর্মকর্তা জেরি লেইনের ভূমিকায়। নিত্যদিনের কর্মদিবস ও পরিবারকে সঙ্গ দেওয়াই তার জীবন। এর মধ্যে হঠাত্ একদিন আক্রান্ত হয় নিউ ইয়র্ক সিটি। জানা যায় একদল জোম্বি আক্রমণ করে বসেছে। শুধু তাই নয়, তাদের এত শক্তি ও দক্ষতা যে, তারা একত্রে কয়েকটি দেশের পতনও ঘটাতে সক্ষম। জম্বির হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার উত্স বা উপায় খুঁজতে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান তিনি। আর এ যুদ্ধের নেতৃত্বে আছে জেরি লেইন। আর যুদ্ধটা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’। এখানে জেরি লেইনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ব্র্যাড পিট। গত ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্রে টুডি, রিয়েল থ্রিডি এবং আইম্যাক্স থ্রিডিতে মুক্তি পেয়েছে ব্রাড পিটেরই নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্লান বি এন্টারটেইনমেন্টের এই ছবিটি। এ সিনেমা দিয়ে অভিনেতার খাতায় নাম লেখালেন হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটের ১১ বছর বয়সী ছেলে ম্যাডক্স। মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ ছবিতে সে অভিনয় করেছে। ব্র্যাড পিট সম্পর্কে কিছু কথা একজন মার্কিন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। তাকে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় একজন ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়, আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে তার পর্দার বাইরের জীবন। পিট দুইবার একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, এবং চারবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জন্য মনোনীত হয়ে একবার তা জিতেছেন। টেলিভিশনে অতিথি চরিত্রে উপস্থিতির মাধ্যমে পিট তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। এ রকম একটি টেলিভিশন ধারাবাহিক হচ্ছে ‘ডালাস’, ১৯৮৭ সালে সিবিএস থেকে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক। ১৯৯১ সালে পথচলচ্চিত্র ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’-এ জিনা ডেভিসের বিপরীতে একজন হিচ হাইকারের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি ভালো পরিচিত লাভ করেন। ‘অ্যা রিভার রানস্ থ্রু ইট’ (১৯৯২) ও ‘ইনটারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার’ (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে মূল ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু। প্রথম জীবনে অভিনেত্রী গিনেথ প্যালট্রোর সাথে খুব ভালো একটি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালে বিয়ে করেন অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনকে। পাঁচ বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাথে একসাথে বসবাস শুরু করেন, যা বিশ্বব্যাপী সবার আকর্ষণের মূলে রয়েছেন। তার এবং জোলির ম্যাডক্স, জাহারা, প্যাক্স নামে তিনটি দত্তক নেওয়া সন্তান আছে, সেই সাথে রয়েছে তিন সন্তান শিলোহ, নক্স ও ভিভিয়ান। প্ল্যান বি এন্টারটেইনমেন্ট নামে পিটের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা ২০০৭ সালে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘দ্য ডিপার্টেড’ প্রযোজনা করেছিল। জোলির সাথে সম্পর্কে শুরু হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন।