আসামে বন্যায় ১১ জেলার ৩৫০ গ্রাম প্লাবিত

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। রাজ্যের ১১টি জেলায় সাড়ে তিন শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বন্যা উপদ্রুত ১১টি জেলার মধ্যে ধিমাজী, তিনসুকিয়া, চিরাং, নাগাঁও, গোলাঘাট, জোড়হাট, কামরুপ, করিমগঞ্জ, লক্ষীপুর, মরিগাঁও ও শিবসাগর রয়েছে। এদিকে দেরাদুন থেকে সংবাদ সংস্থার অপর এক খবরে বলা হয়েছে যে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডে গতমাসে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক মৌসুমী বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রবল হওয়ায় পানির তোড়ে অন্তত এক হাজার অধিবাসী, হিন্দু তীর্থযাত্রী ও পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পানির তোড়ে ঘর-বাড়ি, হোটেল, মহাসড়ক ও গাড়ি ভেসে গেছে। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানায়, এই রাজ্যে বন্যায় এক লাখেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের ফলে জিয়াধোল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আসাম রাজ্যের বন্যা উপদ্রুত ধিমাজী জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা নতুন করে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ জোড়হাট জেলায় নিমাতিঘাট, ডিব্রুগড় জেলায় বুরহিদেহিং, শিবসাগরের দেসাং ও সোনিতপুরের জিয়া ভারালি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বন্যার সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এবং কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ত্রাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বন্যায় পবিতোরা বন্য প্রাণী অভয়াশ্রম ও কাজিরাংগা জাতীয় পার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।