এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্যারিয়ার
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২১:৩০
বিশ্বায়নের এই যুগে পরিবর্তনের একটি অপরিহার্য মাধ্যম উড়োজাহাজ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এখন এই লাভজনক পরিবহন ব্যাবসায় অধিক বিনিয়োগ করছে। ফলে দেশে এখন বিমান সংস্থার সংখ্যা কমপক্ষে ২৪টি, ২০২০ সালে যা হবে দ্বিগুণেরও বেশি। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে উড়োজাহাজ প্রকৌশলীর চাহিদা ও বাড়ছে। আর এই প্রকৌশলী সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছি কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি। সঠিক শিক্ষাদান পদ্ধতি একজন শিক্ষার্থীর আত্মগঠন ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলে। এই নীতিতেই শিক্ষাদান করে থাকে কলেজটি।
উড়োজাহাজ সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়া যায় তার মধ্যে অন্যতম এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এএমই)। এএমই ডিগ্রিপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলী এমন একজন ব্যক্তি যে উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে। উড়োজাহাজ ফ্লাই করার পূর্বে উড়োজাহাজের সিস্টেমগুলো ঠিক আছে কি না এমন সার্টিফিকেট দিতে পারে একজন এএমই। এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রয়েছে দুইটি ভাগ-অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং।
এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং (অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং) :এককথায় এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ এমন একটি মেশিন তৈরি করা ও তা ডিজাইন উন্নয়ন করা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, যা আকাশে নিরাপদে উড়তে পারে। এসব মেশিনের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ, হেলিকাপ্টার, মিসাইলস, স্যাটেলইট ও স্পেস ক্র্যাফট। এয়ারফ্রেম তৈরি/এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, এয়ারক্র্যাফট ও এর আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা, উন্নয়ন ও মেরামত করা প্রভৃতিও এর কাজ। ফ্লাইট টেস্ট, প্রোগ্রামিং, টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লাইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুইভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি ঠিক আছে কিনা তা দেখাও এএমই’র কাজ। জ্বালানী দূষণ কমানো ও সেফটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করা, এয়ারক্র্যাফট দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ও এএমই’র কাজের মধ্যে পড়ে।
এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং) :উড়োজাহাজের ফ্লাইট ডাইমানিক্স, কোয়ালিটি, স্ট্যাবিলিটি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম নিয়ে এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। এভিয়নিক্সে অ্যাক্সিলারোমিটার, গাইরোস্কোপ, ফাইট ইন্সট্রুমেন্টস, সেন্সর, একুরেটর, লাইনার, ইলেকট্রনিক্স সার্কিট, কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন, অ্যানালগ অ্যান্ড ডিজিটাল এভিয়নিক্স কম্পোনেন্ট প্রভৃতি নিয়ে কাজ করতে হয়। কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি (ক্যাটেক)
ন্যাশনাল ডিপ্লোমা এবং হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে। কলেজটির প্রথম, দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েকশত শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চাকরি/ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে দু’এক মাস পরেই। ০১৯৩৭১৮২৪৭০, ৮৯৯১৩৭১ নম্বরে ফোন করে এসব কোর্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
এসএসসি/এইচএসসি, এ-লেভেল/ও-লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করতে পারবে। ৪ বছরে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্বোড বিটেক এডেক্সেলের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অর্নাস ডিগ্রি অর্জন করা যায়। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাসের লেভেল-৩ বা এ-লেভেল করতে সর্বমোট খরচ পড়বে ৩ লক্ষ টাকা। এরপর ১৮ মাসের লেভেল-৫ করতে খরচ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা। সবশেষে ১ বছর ইউকেতে কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে টপ-আপ বিএসসি করতে হয়। এই ১ বছরের টিউশন ফি জমা দিতে হয় সেমিস্টার ওয়াইজ।
যোগাযোগ :বাড়ি-১৪, রোড-২, সেক্টর-১১, উত্তরা।