শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি এতদসত্ত্বেও ক্ষমতা নামক অতি আশ্চর্যজনক জিনিসটি যদি শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর হতো তাহলেও দেশ ও জনগণের জন্য কিছুটা হলেও ভাল হতো। ক্ষমতায় পুনঃঅধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সব সময়ই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে হারার পরদিন থেকেই শুরু করে জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচি ও হরতালের আন্দোলন। অথচ আমরা জানি আমাদের দেশে একদিনের হরতালে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয় অর্থনীতির। ব্যাহত হয় মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যা অর্থনীতিকে অন্ধকার গুহার দিকে ঠেলে দেয়। সরকার এই বিষয়ে নির্বিকার। অথচ ১৯৯৬ সালে যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে চায়নি তখন তারাই (বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার) বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে একবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক হরতাল দিয়েছিল। সর্বোপরি ইতিহাসের খেরাখাতা খুললেই দেখা যাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নানান ধরনের ফন্দি যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আর বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলো এটাকে ইস্যু করে দেশের অভ্যন্তরে নানান ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশকে স্থবির করে দেয়। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের বিকল্প শুধু শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করাটাকেই আমি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। বর্তমান সরকারের উচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ফারিবা সুলতানা দিনা বিবিএ (হিসাববিজ্ঞান) ২য় বর্ষ সরকারি বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বরিশাল প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের অন্তরায় হিংসাত্মক রাজনৈতিক মনোভাব বাংলাদেশকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকার জনসাধারণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা। আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম হচ্ছে গণতন্ত্র বিরোধী। একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের মত প্রকাশের, বাক স্বাধীনতা থাকবে এবং ন্যায়সঙ্গত হলে মতামতকে বিবেচনায় আনতে হবে যা আমাদের দেশের ইতিহাসে বিরল। আমরা ২০১২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে ফিরে তাকালে গণতন্ত্রকে সহজেই বুঝতে পারব। ফলাফল ঘোষণার পর বিরোধী দলের প্রার্থী মিট রমনি পরাজয় বরণ করে বিজয়ী প্রার্থী বারাক ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাচনের চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীত এই অর্থে যে পরাজিত ব্যক্তি বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন যা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। সর্বোপরি, আমরা যেহেতু গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাই আমাদেও চিন্তা-চেতনাকে গণতন্ত্রের পথে ও আদর্শে লালিত করতে হবে এবং যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে গণতান্ত্রিক পন্থায়। তবেই বিজয় হবে গণতন্ত্রের, মঙ্গল হবে দেশের, দেশের জনগণের। মো. সাফায়েত হোসেন এমবিএ ট্যুরিজম এন্ড হসিপটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে চাই দক্ষ সরকার আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা স্থগিত হওয়া। আর এই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন আমাদের বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের উচিত কিভাবে দ্রুত এই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দল তা না করে কার জন্য এই জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হলো এই নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে। একে অপরকে দোষারোপ করছে যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের দেশের জনগণ এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আর কতকাল দেখবে! এদেশের মানুষ আর এই নোংরা রাজনৈতিক খেলা দেখতে চায় না। কিন্তু এই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার পিছনে বর্তমান সরকার ও বিগত সরকার দুই সরকারই দায়ী। অতএব দেশের মানুষ চায় একটি দক্ষ ও অভিজ্ঞ সরকার যার মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে আর এ জন্য চাই সুষ্ঠু নির্বাচন যা হবে অবাধ নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। মুসাম্মাত্ সাবিহা সুলতানা খাদ্য এবং পুষ্টিবিজ্ঞান অনুষদ ২য় সেমিস্টার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একগুঁয়েমি নয়, ক্ষমতার প্রশ্নে জনগণের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে হবে বর্তমান বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পেছনেও কিন্তু ওই অভ্যন্তরীণ কোন্দলই প্রধানত দায়ী। সেটা হয়তো স্থানভেদে ভিন্নভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা, ক্ষমতাসীন-বিরোধী দলের সহিংস মুখোমুখি অবস্থান দেশকে ঠেলে দিয়েছে এক গভীর অন্ধকার-অনিশ্চয়তার মুখে। এক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বুলি কপচালেও আদতে গণতান্ত্রিক ভাবনা, দেশ ও জনগণের ভাবনা আমাদের নেতারা কখনোই ভাবেন না। তাদের ক্ষমতায় আঁঁকড়ে থাকা কিংবা ক্ষমতা দখলের নির্লজ্জ হ্যাংলামো, আখের গোছানোর ঘৃণ্য প্রতিযোগিতার কাছে এসব কখনোই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। বিশেষ করে, বর্তমানে সকল ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের বাড়াবাড়ি দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, বিরক্তিকর ও অসহ্য হয়ে উঠেছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, মিশরের জনগণ না জানলেও বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু জানে তারা কি চায় এবং তারা সেটা ইতোমধ্যে জানিয়েও দিয়েছে। নির্বাচন কার অধীনে হবে- তত্ত্বাবধায়ক, অন্তর্বর্তীকালীন নাকি দলীয় সরকার এসব তাদের কাছে মুখ্য নয়। তারা এতকিছু বুঝেও না। তারা শুধু শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে চায়। মো. কবীর হোসাইন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ৩য় বর্ষ, ৬ষ্ঠ সেমিস্টার, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়