প্রাণে বেঁচে ফিরলেন মালয়েশিয়াগামী ২২০ জন যাত্রী, পুলিশে হস্তান্তর

সেন্টমার্টিনের কাছে বিকল কার্গো জাহাজ (কাঠের বড় ট্রলার) থেকে উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামী ২২০ যাত্রীকে মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ স্থল বন্দরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছয়জন মিয়ানমারের মাঝি, পাঁচ রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশের ১৯ জেলার লোকজন রয়েছে। সোমবার বিকেলে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার এম এ নেওয়াজের নেতৃত্বে কোস্টর্গাড জওয়ানরা সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নরসিংদীর জেলার ৬৪ জন, যশোরের ৫২ জন, কুমিল্লার ২১ জন, কক্সবাজারের ১৬ জন, সাতক্ষীরার ১০ জন, নারায়ণগঞ্জের ৮ জন, মেহেরপুরের সাতজন, ময়মনসিংহের একজন, চুয়াডাঙ্গার পাঁচজন, বগুড়ার সাতজন, জামালপুরের একজন, সিরাজগঞ্জের দুইজন, রাজশাহীর একজন, টাঙ্গাইলের একজন, কুড়িগ্রামের দুইজন, ঢাকার একজন, বান্দরবানের একজন, চট্রগ্রামের পাঁচজন ও পাবনার চারজন রয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সেন্টমার্টিন থেকে ৩টি ট্রলার এবং কার্গোতে তাদের টেকনাফ স্থল বন্দর অভিবাসন জেটিতে আনা হয়। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দীন, কোস্টর্গাড টেকনাফ ষ্টেশন কমান্ডার লে. হাবিব, টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. দিদারুল ফেরদৌসের উপস্থিতিতে কোস্টগার্ড তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আটক যাত্রী এখলাচ, গিয়াস উদ্দীন, আবুল কালাম, মো. করিম, জালাল আহাম্মদ, জসীম উদ্দীন, মুজাম্মেল, শাহজালাল সাংবাদিকদের জানান, আমরা প্রাণে বেঁচে থাকব তা কল্পনাও করি নাই। গত ৪ জুলাই থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল দিয়ে বিভিন্ন ট্রলারে ১০-১৫ জন করে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান কার্গোতে উঠানো হয়। কার্গোতে দুইশ’ লোক হয়ে গেলেও তারা আরও লোক নিতে অপেক্ষা করে। এ সময় কার্গোতে খাদ্যের অভাব দেখা দেখা দেয় এবং ক্রুদের সঙ্গে লোকজনের বিবাদ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্রুরা কার্গোটি নিয়ে মিয়ানমার জলসীমায় চলে যায়। তখন লোকজন উত্তেজিত হয়ে ক্রুদের জিম্মি করে কার্গোটি বাংলাদেশের জলসীমায় নিয়ে আসে। এরপর জীবন বাঁচাতে আত্মীয়-স্বজন, গণমাধ্যমকর্মী, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সংবাদ দেই। সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় কোস্টগার্ড সদস্যরা বঙ্গোপসাগর থেকে কার্গোটি খুঁজে পায় এবং আমাদের উদ্ধার করে। টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. দিদারুল ফেরদৌস জানান, কোস্টগার্ড কর্তৃক আটক ২২০ যাত্রী ও ক্রুকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড কর্তৃক এজাহারের প্রস্ততি চলছে। কোস্টগার্ড থানায় এজাহার দায়ের করলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।