টিক চিহ্ন দিয়ে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:১৩
এখন থেকে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সিলের পাশাপাশি টিক চিহ্ন চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রায় ১৮ হাজার ভোট নষ্ট হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সিল-প্যাডের খরচ কিছুটা লাঘব হবে বলে মনে করছে কমিশন। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমদিকে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা হবে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে যথারীতি সিল ব্যবহার করা হবে। এদিকে, আগামী দুই মাসের মধ্যে হালনাগাদে ভোটার হওয়া নতুনদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া ভোটার তালিকা প্রিন্টিং-এর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। দেশের ভোটার যোগ্য নাগরিকদের ১০ বছরের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে।
এসব বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগে সিলের ব্যবহারে অনেক ভোট নষ্ট হয়, বাতিল ভোটের সংখ্যা বাড়ে। স্থানীয় নির্বাচনে সিল ও টিক দু’টার বিধান রাখা হবে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন আনতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোটার বেশি হওয়ায় ৩৯২ টি কেন্দ্রে ভোট নিতে অনেক সময় লেগেছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরও ৩৭টি ভোট গ্রহণ করতে হয়েছে। কারণ সিলে ভোট নেয়ার কারণে এসব সমস্য হয়েছে। ভোটারকে ব্যালট দেয়ার পর সিল দিতে হয়। সেই সিল দেয়ার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট হয়। সিলে কালি বেশি লাগলে অপর পাতায় দেখা যায়। এ জন্য ব্যালটের পর একটি কলম দিলে ভোটাররা সহজেই এবং অল্প সময়ের মধ্যে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। পাশাপাশি সিলের কারণে বৃদ্ধ বা অশিক্ষিত ভোটাররা অন্য প্রতীকে বা নির্ধারিত স্থানের বাইরে সিল মেরে থাকেন। এতে ভোট নষ্ট হয়। এবার গাজীপুরে প্রচুর ভোট নষ্ট হওয়ায় উদ্বিগ্ন কমিশন সিলের পরিবর্তে টিক চিহ্ন পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কমিশনের যুক্তি বাতিল ভোট কমানোর জন্য এমন ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় প্রাথমিকভাবে টিক চিহ্ন পদ্ধতির প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সিলের পরিবর্তে টিক চিহ্ন দিয়ে ভোট দেয়ার পদ্ধতি চালু করার চিন্তা করছে কমিশন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর অনুসরণে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলক করার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পদ্ধতি প্রথমে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ছোট ছোট নির্বাচনে করে দেখব। এতে আমাদের বাতিল ভোটের পরিমাণ কমে যাবে বলে মনে করছি।
জাতীয় নির্বাচনেও এই পদ্ধতির ব্যবহার হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের এখনো অনেক দেরি, এর আগে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য নির্বাচনে টিক ও ক্রস চিহ্ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডিসিসি নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিসিসির সীমানা নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। আশা করছি রমজানে তা শেষ হবে। ঈদের পরই আমরা সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।
সীমানা নির্ধারণে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপিদের স্বার্থ রক্ষা করেছে ইসি এমন মন্তব্যের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা খসড়া প্রকাশের পর রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত আমাদের কাছে এসে বক্তব্য দিয়েছে। আমরা তাদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে সীমানা চূড়ান্ত করেছি।
জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে প্রেসে পাঠিয়েছি এবং ব্যালট মুদ্রণের কাজ চলছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ জাবেদ আলী, মো ঃ শাহ নেওয়াজ প্রমুখ।