বৃষ্টির দেখা নেই, রাজশাহীতে
আমন চাষে কৃষকের সঙ্কট
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:২২
রাজশাহীর তানোরের সর্বত্রই চলছে আমন আবাদের ভরা মৌসুম। বুকভরা আশা নিয়ে স্থানীয় কৃষক আমন আবাদের জন্য বীজতলায় বীজ বপন করেছেন। কিন্তু আষাঢ় শেষেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা আমনের আবাদ করতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা আমনের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তানোরে প্রায় ২০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ অঞ্চলে আষাঢ়ের শেষেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ দূরে থাক, আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিওল গ্রামের কৃষক ইনছার আলী বলেন, তানোরের অধিকাংশ কৃষক এখনো বৃষ্টি নির্ভর আমন আবাদ করেন। কিন্তু এ বছর আমনের ভরা মৌসুম আষাঢ়ের শেষেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। এ কারণে চাষিরা জমিতে হালচাষ করতে পারছেন না। ফলে এবার কৃষকরা আমন আবাদে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।
উপজেলার গোল্লাপাড়ার আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মদ ও তেলোপাড়ার কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ বলেন, এবার বোরোর ফলন ভালো হলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা টিয়া আউশ চাষাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অধিকাংশ কৃষক টিয়া আউশের আবাদ করতে পারেননি। একই কারণে আমনের আবাদও হুমকির মুখে পড়েছে। তারা জানান, গত মৌসুমে আষাঢ়ের শেষ সময়ে প্রায় জমিতে আমনের চাষাবাদ করা হয়েছিলো। কিন্তু চলতি মৌসুমে আষাঢ়ের শেষ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে আমনের আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক গভীর নলকূপের সেচ নিয়ে ধীরগতিতে আমনের আবাদ করলেও খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বেশিরভাগ কৃষক আকাশের বৃষ্টির দিকে চেয়ে রয়েছেন। শ্রাবণ মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জমিতে আমনের চারা রোপণ করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না হলে হাজারো কৃষক এবার আমনের আবাদ করতে পারবেন না। তানোরের কলমা, বাঁধাইড়, পাঁচন্দর, মুন্ডুমালা, চৈতপুর, বিল্লী, বংপুর, দরগাডাঙ্গা ও তানোর পৌর এলাকা খরাপ্রবণ বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, কৃষকরা আমনের আবাদে সেচ সংকটে পড়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জুলাইয়ের শেষের দিকে বৃষ্টি হলে আমন আবাদে তেমন অসুবিধা হবে না। এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই বলেও জানান তিনি।