দিনাজপুরে রোপা আমনের মাঠে আদিবাসী তরুণীরা
মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪০
ধান-চালে ভরপুর জেলা বলে খ্যাত দিনাজপুরের ফসলের মাঠে মাঠে অবিরাম চলেছে ধান রোপণ। জীবন-জীবিকার তাগিদে মাঠে নেমে কাজ করছে দিনাজপুরের আদিবাসী তরুণীরা।
সারা বছরই তারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও রোপা-আমন ধানের ভরা মৌসুমে তারা আয় করে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। মাঠে নেমে আমন ধান রোপণ করে প্রতিদিন আয় করে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্য সময় কাজ করে তারা প্রতিদিন এতো আয় করতে পারে না। পুরুষদের পাশাপাশি তারা কাজ করলেও পুরুষদের চেয়ে তাদের মজুরি কম। তাতেও তাদের কোন আক্ষেপ নেই। তারা চায় শুধু কাজ। কাজে তাদের কোন ধরনের অনীহা নেই। ভূমিহীন পরিবারের দরিদ্র এই তরুণীরা ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা’র সাথে ক্ষেতে খামারে কাজ করতে অভ্যস্ত।
বীরগঞ্জের কাশিপুরের পুতুল কুচকু, পারইল (কুদবির), হরগোবিন্দপুর, রহমতপুর, জামাদানি, খেজুরডাঙ্গা গ্রামে রয়েছে কয়েকশ’ আদিবাসী পরিবার। এদের কোনরকমে মাথাগোঁজার ঠাঁই থাকলেও অনেকেরই আবাদি জমি নেই। নেই আয়ের অন্য কোন পথ। শিক্ষার আলো থেকে অনেকেই বঞ্চিত আদিবাসী পরিবারগুলোর বেশিরভাগ সদস্যই ক্ষেত খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আদিবাসী তরুণীরা ঘরে বসে না থেকে কাজ করে অর্থ আয় করে থাকে। বিভিন্ন গ্রামে জমি চাষ করা থেকে শুরু করে ধানের চারা রোপণ, ধান কাটা ও ধান মাড়াইয়ের কাজে আদিবাসী তরুণীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। স্বল্পমূল্যে বেশি শ্রম পাওয়ার কারণে এলাকার কৃষিজমি মালিকরা কৃষিকাজে আদিবাসী শ্রমিকদের ব্যবহার করে থাকেন।