এক খুঁটিতে আটকে আছে ভারতের বিদ্যুত্
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৪
একটি খুঁটি বা টাওয়ারে আটকে আছে ভারতের বিদ্যুত্। ২৭৩টি খুঁটির মধ্যে ২৭২টি স্থাপন শেষ হয়েছে। ভারতীয় অংশে একটি খুঁটি স্থাপন করা যাচ্ছে না। আর এই খুঁটি স্থাপনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানকার পঞ্চায়েত নির্বাচন। খুঁটি স্থাপন করতে গিয়ে ভোট হারাবার ভয়ে ক্ষমতাসীন তৃণমূলসহ সিপিএম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সমপ্রতি দিল্লীতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেয়া কমিটির সদস্যরা একথা জানান।
বাংলাদেশ অংশে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনসহ উপকেন্দ্র স্থাপন শেষ হয়েছে। ভারত অংশে শুধু সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হবে। এই সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার স্থাপন করা নিয়ে প্রথম থেকেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণসহ টাওয়ার স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ। নানা বাধা পেরিয়ে সব টাওয়ার স্থাপন করা গেলেও একটি আর করা যাচ্ছে না। পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোই এই টাওয়ার স্থাপন স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টিকে মেনে নিয়েছেন। তারা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর দিয়ে এই সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশে আসছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় পঞ্চায়েত ভোট হবে আগামী ২২ জুলাই। এর আগ পর্যন্ত সেখানে সব কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভোটের পরেই টাওয়ার স্থাপনের কাজে সহায়তা করা হবে বলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল জানিয়েছে বলে সূত্র জানায়।
মুর্শিদাবাদ জেলার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই-এর শেষে বা আগস্ট মাসের শুরুতে ঐ টাওয়ার স্থাপনের কাজ শুরু হবে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা হবে তার জমি অধিগ্রহণ কাজ আরো আগে শেষ হয়েছে। টাওয়ার স্থাপনের পর তার সংযোগ করলেই কাজ শেষ। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই সব কাজ শেষ করে বিদ্যুত্ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে দিল্লীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের বহরমপুর থেকে সে দেশের সীমান্ত প্রান্ত পর্যন্ত ১৯৫টি টাওয়ার স্থাপন করার কথা। এরমধ্যে ১৯৪টিই শেষ হয়েছে পর্যায়ক্রমে। ভারতীয় অংশে এই লাইনের দৈর্ঘ্য ৭০ কিলোমিটার। এদিকে বাংলাদেশের ভেড়ামারা স্টেশন থেকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রকটনগর সীমান্ত পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারে ৭৮টি টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের খোলাবাজার থেকে যে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেনা হবে তার দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন চলছে। ভারতের উন্মুক্ত বাজার থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম সরকারিভাবে যে ২৫০ মেগাওয়াট কেনা হচ্ছে তার থেকে প্রতি ইউনিটে গড়ে এক থেকে দেড় টাকা বেশি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ভারতীয় সরকারি সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুত্ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) এই নতুন দর দিয়েছে। এর আগে উন্মুক্ত বাজার থেকে বিদ্যুত্ কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হলে বিভিন্ন শর্তের কারণে কোনো কোম্পানি সেখানে অংশ নেয়নি।
ভারতের খোলা বাজার থেকে এই বিদ্যুত্ কিনতে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসিকে দালালি অর্থ (ব্রোকারি চার্জ) দিতে হবে। ভারতের উন্মুক্ত বাজারে সকালে এবং বিকালে দু’বার দাম নির্ধারণ করে বিক্রেতা কোম্পানিগুলো। ফলে এই বিদ্যুতের দাম প্রতিদিন নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের প্রধান আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, উন্মুক্ত বাজার থেকে যে বিদু্যুত্ কেনা হবে তা বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই নেয়া হবে। এর দাম মূল্যায়ন কাজ চলছে।