চিংড়িসহ হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমছে

বাংলাদেশ ক্রমেই হিমায়িত মাছের আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে। সাদা সোনা বলে খ্যাত এদেশের চিংড়ি মাছ রপ্তানি ক্রমেই কমে আসছে। এর বাইরে বিভিন্ন প্রকার মাছ রপ্তানিও একবছরের মধ্যে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর আগে প্রতিবছর মাছ রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও গত তিন বছরে রপ্তানির ধারা নিম্নগতির। রপ্তানিকারকদের ১০ শতাংশ নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েও এ নিম্নগতি থামানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ সস্তা হাইব্রিড চিংড়ি উত্পাদন করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজার দখল করে নিচ্ছে। এর ওপর বাংলাদেশ থেকে সাদা মাছ (চিংড়ি ব্যতীত) রপ্তানি গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ ছিল। ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে রপ্তানি অনেক কমছে। প্রসঙ্গত, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে ৬১ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডলারে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১২-১৩) এ খাতে রপ্তানি আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, এক সময় ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মন্দা পরিস্থিতির কারণে আমাদের রপ্তানি কমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ ‘ভেনামি’ নামক একটি নতুন হাইব্রিড জাতের চিংড়ি উত্পাদন করছে। খেতে সুস্বাদু না হলেও এ জাতীয় মাছের উত্পাদন বেশি। দামও কম পড়ে। তার মতে, বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে চিংড়ির উত্পাদন আড়াইশ থেকে তিনশ কেজি। আর প্রতি হেক্টরে ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ি উত্পাদন হয় ২২’শ কেজির বেশি। উত্পাদন বেশি হওয়ায় সে দেশের রপ্তানিকারকরা এ চিংড়ির দাম কমিয়ে রাখতে পারে। কাজী বেলায়েত বলেন, বাংলাদেশের ব্লাক টাইগার প্রজাতির এক পাউন্ড চিংড়ির রপ্তানি মূল্য ৭ মার্কিন ডলার। আর ‘ভেনামি’ প্রজাতির এক পাউন্ড চিংড়ির মূল্য পৌনে চার ডলার। স্বাদ কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা এ প্রজাতির চিংড়ি খাচ্ছে। এজন্য অন্য দেশের সাথে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছি না। বাংলাদেশে ‘ভেনামি’ প্রজাতির চিংড়ি চাষের কথাবার্তা চলছিলো। কিন্তু দেশীয় জাতের চিংড়ির ক্ষতি হবে-এমন যুক্তিতে মত্স্য মন্ত্রণালয় তা চাষের অনুমতি দেয়নি।