সমকালীন ছড়া

সময়ের ছন্দবদ্ধ চিত্র

ছড়ার নানা রূপ, নানা ঢঙ। কিছু ছড়া শুধুই বাচ্চাদের, আবার কিছু ছড়া বাচ্চা ও বড়দের। কিছু কিছু ছড়া শিশু-কিশোরদের মাঝে স্বপ্নের জগত্ তৈরি করে। কিছু ছড়া শিশুদের মাঝে নীতিবোধ, দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। কিছু ছড়া আবার সকলের। এ ধরনের ছড়া থেকে শুধু শিশুরা শিক্ষা নেয় না, বড়রাও এর মাধ্যমে সমান পরিতৃপ্তি লাভ করে। আবার কিছু ছড়া এত আলাদা, শুধুই বড়দের। তাহলে সমকালীন ছড়া কী? এক কথায় জবাব দিতে পারি, চলমান সময়কে ধারণ করে যে ছড়া লেখা হয়, তা-ই সমকালীন ছড়া। আমাদের চলমান সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার ছন্দোবদ্ধ শৈল্পিক উপস্থাপনাই সমকালীন ছড়া। কিংবা চলমান সময়ের উত্তাপ যে ছড়ায় পাওয়া যায় তা-ই সমকালীন ছড়া। সমকালীন ছড়ার বৈশিষ্ট্য : সমকালীন ছড়ার কতিপয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কী কী বৈশিষ্ট্যের আলোকে একটি ছড়াকে সমকালীন ছড়া বলব, তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো। ১. সমকালীন ছড়া চলমান সময়কে ধারণ করবে। ২. ছড়ার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১৬ লাইনের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। ৩. সমকালীন ছড়ায় ব্যবহূত পাত্র-পাত্রীর নাম রূপকধর্মী হওয়া প্রয়োজন। ৪. এ ধরনের ছড়া সমকালীন ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক ছড়ার ইতিতে পজেটিভ বা নেগেটিভ একটি ইঙ্গিগত বহন করবে। ৫. সমকালীন ছড়া নৈর্ব্যক্তিক হওয়া উচিত। ৬. সমকালীন ছড়ায় চিত্রকল্প বাহুল্য, প্রতীক বা উইট এর প্রাণ। সমকালীন ছড়ার ছন্দ : সমকালীন ছড়া যেকোনো ছন্দে লেখা উচিত নয়। মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত বা স্বরমাত্রিক ছন্দে সমকালীন ছড়া যতটুকু প্রাণবন্ত হবে অন্য ছন্দে ততটুকু স্বতঃস্ফূর্ত নাও হতে পারে। সমকালীন ছড়ায় যুতসই শব্দের ব্যবহারের সাথে সাথে ছন্দপ্রয়োগেও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়। সমকালীন ছড়া ব্যঞ্জনাধর্মী হওয়া আবশ্যক। কারণ শ্রুতিমধুরতাও সমকালীন ছড়ার অন্যতম প্রাণ। সমকালীন ছড়ার প্রেক্ষিত : সমকালীন ছড়ার প্রেক্ষিত তাত্ক্ষণিক। একটি ঘটনা ঘটার সাথে সাথে এর প্রেক্ষিত তৈরি হয়। এ প্রেক্ষিত যত দ্রুত ছড়ায় রূপান্তর করা যায়, তত দ্রুত ঘটনাটি মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শুধু তাত্ক্ষণিক ঘটনাই যে সমকালীন ছড়ার প্রেক্ষিত হবে তা নয়, কোনো অমিমাংসীত ঘটনাকে উস্কে দিতেও সমকালীন ছড়া হাতিয়ার হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনতেও সমকালীন ছড়া উপযুক্ত মাধ্যম হতে পারে। কোনো কোনো সময় ব্যক্তিবিশেষও সমকালীন ছড়ার প্রেক্ষিত হতে পারে। কারও সাফল্য বা ব্যর্থতা কিংবা ঐতিহাসিক কৃতিত্বকে সমকালীন ছড়া ধারণ করে তা সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে জনমত তৈরি করতে পারে। সমকালীন ছড়া কেন : ছড়ার সৃষ্টিই হয়েছে সমকালকে ধারণ করে। ‘চর্যাপদ’-এও তত্কালীন সময়প্রবাহের উত্তাপ পাওয়া যায়। এ উত্তাপ প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগের ছড়ার মধ্যেও লক্ষণীয়। যুগে যুগে ছড়া বলার ভঙ্গিতে কিছুটা তারতম্য ঘটেছে । এ তারতম্যেরও নানাবিধ কারণ রয়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে সভ্য হয়েছে। স্বাধীন হয়েছে। সামন্ত প্রথা, রাজন্যপ্রথা, দাসপ্রথার বেড়াজাল একদিনে কাটেনি। এ জন্য কত যে কাঠখড় পুড়েছে তার সাক্ষী ইতিহাস। ইতিহাসের এ পথপরিক্রমায় মানুষ কখনো কথা বলেছে বোবা হয়ে, কখনো ইশারায় আবার কখনো বা আড়াল ভাষায়। আড়াল ভাষা আর প্রকাশ্য ভাষা দু-ধরনের। একটিতে খোসা থাকে, অন্যটি খোসাহীন। খোসার ভেতরের বস্তু চিনে নিতে একটু ভাবতে হয়, অন্যটিতে হয় না। তাই এই আড়াল ভাষা প্রকাশ্য ভাষায় রূপ পেতে বহু বছর সময় লেগেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল-ইংরেজ শাসন আমলের অনেক ঘটনার সাক্ষী এখানকার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এ জনগোষ্ঠী তখনকার ঘটনাকে কীভাবে দেখেছে তার কিছু নমুনা আমরা লক্ষ করি আমাদের লোকজ ছড়ায়। লোকজ ছড়াগুলোও সমকালীন ছড়া। ছড়াগুলো তত্কালীন সময়-কালকে ধারণ করেছে। আমরা কথায় কথায় লোকজ ছড়ার উদাহরণ টেনে এখনো অতীত ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসি। লোকজ ছড়াগুলো কালের সাক্ষী। সময়ের বর্ণনা। এ বর্ণনায় শুধু ইতিহাস নয়, এতে মিশে আছে ওই সময়ের অভাগা বাঙালির শ্বাস-প্রশ্বাস আর শাসকের দলনচিত্র। সমকালীন ছড়ার ভাষা : সমকালীন ছড়ার ভাষা কেমন হবে? এ প্রশ্ন করার আগে আমাদের পড়া উচিত আমাদের লোকজ ছড়াগুলো। লোকজ ছড়াগুলোর ভাষা কেমন? কেন এ ছড়াগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে টিকে আছে? এর ভেতরের রহস্য কী? লোকজ ছড়াগুলোর ভাষা অতি সহজ-সরল। এতে অন্ত্যমিলের ক্যারিশমা নেই। এমনকি মিলেরও তেমন ধার ধারেননি এসকল ছড়ার লেখকগণ। কারণ ছড়াগুলো ছিল মুখে মুখে। সুর করে ছড়াগুলো আওড়াত ওরা আর তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত এর মাধ্যমে। লোকজ ছড়াগুলোর বয়স কত? আমরা কোনোটা পড়ে বলি, এটা ওই আমলের লেখা, ওটা ওই আমলের। এভাবে ছড়া পড়ে আমরা ছড়াগুলোর জন্মকাল চিহ্নিত করি। এত বছর পরও কি আমরা ওই লোকজ ছড়ার ভাষায় সমকালীন ছড়া লিখব? না, তা হবে কেন? ওই ভাষায় আমরা ছড়া লিখব না। ভাষা যেহেতু বিজ্ঞান, তাই এর পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা আধুনিক মানভাষায় আমাদের কথা বলব। কিন্তু ছড়ার সেই আদি সুরকে কখনো এড়িয়ে নয়, ভাষায় বাড়তি কিছু আরোপ করে নয়। আমরা আমাদের পারিবারিক ভাষাকে সমকালীন ছড়ায় ব্যবহার করব। আবার পারিবারিক ভাষা আর মান ভাষা এক নয়। পারিবারিক ভাষার সাথে মান ভাষার সাজুয্যপূর্ণ সহাবস্থানই হোক আমাদের সমকালীন ছড়ার ভাষা। সমকালীন ছড়ার বিষয় : সমকালীন ছড়ার বিষয় নিয়ে এবার দুটি কথা বলি। এখন যা ঘটছে তা-ই বেশি সমকালীন। একটু আগে, একদিন আগে, এক সপ্তাহ আগে যা ঘটেছে তা আরেকটু কম সমকালীন। এ ছাড়া সবসময় যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তাও সমকালীন। তাহলে সবচেয়ে সমকালীন বিষয় কী, তাও আমরা জানতে পারলাম। একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর মানুষের যতটুকু ফোকাস থাকে একদিন আগের ঘটনায় তা থাকে না। এ ধরনের ঘটনায় চারিদিকে যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়, তা একদিন আগের ঘটনায় সম্ভব নয়। এ ধরনের তাত্ক্ষণিক উত্তেজনাকে যে ছড়া যত বেশি ধারণ করতে পারে, সে ছড়া তত বেশি সমকালীন। সমকালীন ছড়ার ফাঁক-ফোকর : সমকালীন ছড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফসল। তাই এতে ফাঁক-ফোকর থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটা খুব বেশি দোষের নয়। দ্রুত সমকালীন ছড়া লিখতে পারাটাই একজন ছড়াকারের দক্ষতাকে নির্দেশ করে। কিন্তু এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, ছড়া আর স্লোগান এক নয়। সমকালীন ছড়া যদি কেবল বক্তব্য-নির্ভর হয় তবে তা ছড়া হবে না। এখানেও একটু আড়াল দরকার। নইলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এতে ক্ষিপ্ত হতে পারে। যতটা সম্ভব সমকালীন ছড়া রূপক বা প্রতীক-নির্ভর হলে ভালো হয়, যাতে একটি ছড়ার বহুবিধ ব্যাখ্যা করা যায়। সমকালীন ছড়ার আরও নানা ধরনের ফাঁক-ফোকর দৃশ্যমান। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ঘটনা উপস্থাপন করতে গিয়ে অন্য আরেকটি অনাবশ্যক ঘটনা ছড়ায় ঢুকে যায়। এটি পাঠককে বিভ্রান্ত। এমনও দেখা যায়, যে সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে ছড়ার সূচনা পঙিক্ত রচিত হয়েছে, পরবর্তী পঙিক্তসমূহের সাথে সূচনাপঙিক্তদ্ধর আর সমন্বয় থাকে না। অর্থাত্ ছড়ার মুখ ও শরীর এক নয়। পাঠক এ ধরনের ছড়া পড়ে হতাশ হয়, ছড়ার প্রতি আগ্রহ হারায়। সমকালীন ছড়ায় শুধু সমকাল নয়, অতীত ও বর্তমান কালের সাথে এর সমন্বয় ঘটাতে হয়। কোনো পৌরাণিক কাহিনি যদি সমকালের ঘটনাকে প্রভাবিত করতে সহায়ক হয়, তাও সমকালীন ছড়ায় উপজীব্য হতে পারে। এতে পাঠকের মনকে আরও জোরালোভাবে উস্কে দেওয়া যায়। সমকালীন ছড়া যেহেতু একটি চিত্রের মতো, তাই সমকালীন ছড়াকে হতে হয় বাহুল্যমুক্ত। মেদ, ভূড়ি সমকালীন ছড়ার বড় শত্রু। সমকালীন ছড়া হবে হরিণের মাংসের মতো চর্বিহীন, নির্মেদ। যত কম শব্দে, কম বর্ণনায় সমকালীন ছড়া লেখা যায়, তত ভালো। সমকালীন ছড়াকে হতে হয় ঝরঝরে। টনটনে। পাতিলে ভাজা সিমের বীচির মতো। সমকালীন ছড়ার আরেকটি বড় ফাঁক, এ ধরনের ছড়াকে বিবৃতিময় করে তোলা। অর্থাত্, কাহিনি বর্ণনাই যখন ছড়ার ধর্ম হয়ে ওঠে, তখন এটি আর ছড়া থাকে না। এ ধরনের ছড়ার আয়ুষ্কাল এতই ক্ষণস্থায়ী যে, মুহূর্তেই তা পাঠকের স্মৃতি থেকে মুছে যায়। সমকালীন ছড়া চিরকালীন ছড়া, যদি সেভাবে তা লেখা যায়। ইতিহাসে একই ঘটনার বহুবার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এ ধরনের একাধিক ঘটনা ব্যাখ্যার জন্য একটি চিরকালীন সমকালীন ছড়াই যথেষ্ট। সমকাল আর চিরকালের এ ফাঁক যে ছড়াকার যত বেশি বুঝতে পারে, সে তত বেশি সমকালীন ছড়া লেখায় সফল হবে। সমকালীন ছড়ায় শব্দের ব্যবহার : সমকালীন ছড়ায় শব্দের ব্যবহারে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। শব্দের ওজন সম্পর্কে ছড়াকারের ধারণা থাকা আবশ্যক। কোন শব্দটি কী কারণে ব্যবহূত হবে, এ ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান যদি একজন সমকালীন ছড়া লেখকের না থাকে, তবে তাঁর দ্বারা স্বার্থক সমকালীন ছড়া লেখা প্রায় অসম্ভব। বিদেশি শব্দের প্রতিও তাঁর পরিষ্কার ধারণা চাই, যদি তিনি বিদেশি শব্দ ব্যবহারে আগ্রহী হন। মনে রাখা সঙ্গত যে, সমকালীন ছড়ায় অসতর্কে ব্যবহূত একটি শব্দ যেকোনো সময় সারা দেশে ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিতে পারে। সমকালীন ছড়ার প্রতিটা স্তবকে চাই অনিবার্য শব্দের গাঁথুনি। একটি শব্দও যেন পুরোনো ইটের মতো খসখসে না হয়। এই তো ভেঙে পড়বে, এইতো নড়বড়ে! সমকালীন ছড়ায় ব্যবহূত শব্দসমূহ যতটা সম্ভব পাঠকের পরিচিত হওয়া উচিত। শব্দগুলো যত হালকা মেজাজের হবে, তত ভালো। ভারী শব্দের ব্যবহার সমকালীন ছড়ার গতিকে রুদ্ধ করে দেয়। সাবলীলতাই সমকালীন ছড়ার প্রাণ। অনেক সময় লক্ষ করি, অন্ত্যমিলের মোহে বিভিন্ন জটিল শব্দকে ভেঙে আমরা ছড়ায় ব্যবহার করি। সমকালীন ছড়ার জন্য অন্ত্যমিল মুখ্য বিষয় নয়। আবার দেখা যায়, কেউ কেউ এ ধরনের মিলের মোহে পড়ে ছড়াকে গলা টিপে হত্যা করছে। আমাদের আগে বোঝা উচিত, ছড়াটি আমি কার জন্য লিখছি? কেন লিখছি? পাঠকের কাছে অন্ত্যমিল বড় বিষয় নয়, ছড়ায় উপস্থাপিত বিষয় কতটুকু প্রাণ পেয়েছে, তা-ই সমকালীন ছড়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। সমকালীন ছড়ার লেখকদের পাঠ্যসূচিতে ইতিহাস ও ভৌগোলিক বিষয়ের বই বেশি থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি জাতির ইতিহাস ও তার ভৌগোলিক সীমারেখা সমকালীন ছড়ার জন্য অতী গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ছড়া লিখতে গেলে বিভিন্ন অনুষঙ্গে এ দুটি বিষয় প্রায়ই মাথায় রাখতে হয়। যেমন, আমাদের প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ও তাদের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতিহাস যদি একজন সমকালীন ছড়া লেখকের মাথায় না থাকে, তবে এ বিষয়ের ওপর লেখা তাঁর যেকোনো ছড়া পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে। এ জন্য একজন সমকালীন ছড়ালেখকের কূটনৈতিক শব্দের ব্যবহার জানার সাথে সাথে ভৌগোলিক শব্দভান্ডার সম্পর্কেও সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক। সমকালীন ছড়ায় প্রতিদিনের শব্দ ব্যবহারে ছড়াকে ঋদ্ধ করে। এ ছাড়া প্রতিদিন যে সকল নতুন নতুন শব্দ মানুষের মুখে মুখে আলোড়িত হয়, তাও সমকালীন ছড়ায় ব্যবহূত হতে পারে। আবার এমনও দেখা যায়, হঠাত্ একটি শব্দ বা বাক্য সারা দেশে মুহূর্তে যেকোনো কারণে ছড়িয়ে পড়ল। ওই শব্দ বা বাক্য যত দ্রুত সম্ভব সমকালীন ছড়ায় উঠে এলে তা শুধু সময়ের ইতিহাস লিখবে না, সময়ের উত্তাপও ওই ছড়া ধারণ করবে। সমকালীন ছড়ায় ব্যবহূত স্থান, কাল, পাত্র যথাযথ হওয়া চাই। কারণ এর সাথে মিথলজিক মিথস্ত্রিদ্ধয়ার সম্পর্ক বিদ্যমান। কোনো কারণে এর ব্যত্যয় ঘটলে তা পাঠকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই সমকালীন ছড়ায় এ ধরনের উপাত্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়। সমকালীন ছড়া সমকালীন সমাজের দর্পণ। এ ধরনের ছড়া পাঠক যত বেশি আনন্দের সাথে পড়বে তত বেশি তা সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। দ্রুত তাদের মাঝে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। এ ধরনের ছড়া শুধু জনমত তৈরি করে না, জনগণকে প্রতিবাদী করার সাহসও দেয়। তাই সমকালীন ছড়া শুধু সমকালীন নয়, এটি চিরকালীনও হতে পারে।