আত্মহননের কথোপকথন
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ১৮:১৪
সামনে বিরাট আয়না। প্রায় শরীর সমান। আয়নার সামনে দাঁড়ানো রুশনা আক্তার সিমকীর এক রকম বিলাস। ওর এই অনিন্দ্যসুন্দর শরীর যেকোনো মানুষের নজর কাড়ে। সুঠাম একহারা শরীর। গ্রীবা বেশ লম্বা। থ্রিকাট সুবিন্যস্ত চুল, গ্রীবা ঢেকে রাখলেও সামান্য দুলুনিতে মসৃণ চুলগুচ্ছ মুখমণ্ডল ছুঁয়ে যায়। অন্যরকম একটা মায়াময়তা সৃষ্টি করে। যা সিমকীর আকর্ষিত শরীরের চেয়ে রহস্যময়।
ওর বন্ধু ফাহমিদা হোসেন রাকা বলে, ‘তুই না আগুনমুখী, তোকে দেখলে সবাই কেমন পিল পিল করে তাকায়।’
সিমকী বলে, ‘ওদের কথা বাদ দে! ওরা ছ্যাবলা। একটু এদিক-ওদিক, দেখবি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আমি তো আনন্দ পাই।’
আয়না জুড়ে ওর নগ্ন শরীরের পুরো ছবি। কোনো কিছু ঝুলে যায়নি। তলপেটের দিকে সামান্য একটু ভারী হয়েছে। কদিন খাদ্য কন্ট্রোল করলে ঠিক হয়ে যাবে। নাভির বাঁদিকে জন্মজরুল। যা ওর হলুদাভ শরীরের উচ্চ অংশ বাটিক প্রিন্টের মতো দেখায়। হ্যাঁ, স্তন যুগল একটু ঝুলে গেছে। বয়স তো কম হলো না। দেখতে দেখতে একত্রিশ। খুব নিঃশব্দে ছোট দীর্ঘশ্বাস নাকের কাছে এসে আটকে গেল। ক্ষণিক সময় সিমকী কিছুই ভাবল না। অযাচিত কষ্ট কষ্ট ভাব। আয়না রেখে জানালার পাশে ঢাকা শহরের দিকে তাকায়। শীতের সকাল। কুয়াশার আস্তরণ কুড়িল শ্যামগড়ের দিকে হালকা লেগে আছে। শ্যামগড়ের দিকে এখনো সবুজ আছে। বৃক্ষ নিধন শুরু হয়নি। পুরোনো ভিটা প্লট প্লট ছাঁচ ধরেছে। সিটি কর্পোরেশন নতুন রাস্তা চিহ্নিত করেছে। সেই সবুজের গায় সিমকীর চোখ আটকে যায়। যাবারই কথা। সবুজ তো দেখা হয় না। রামপুরার এই ন-তলা ফ্ল্যাট বাড়ির সাততলার বাসিন্দা সিমকী। তিন রুমের ফ্ল্যাটে পৌনে তিন বছর ওর বসবাস। বুয়া টুলু খালাকে নিয়ে বেশ সুখেই আছে। স্বামী তো ছিলই! চিত্রকলা নিয়ে প্যারিসে থাকে। তিন বছর আগে ওদের দু-বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে ফিরে এসেছে। শিল্পী খায়রুল ইসলাম প্যারিসেই রয়ে গেছে। বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই ছাড়াছাড়ি। কত উদাস দুপুর কাটিয়ে দিয়েছে কলাভবনের বারান্দায়। প্যারিসের ক্যাফেতে বসেও খায়রুলকে স্পর্শ করতে পারেনি সিমকী। খায়রুল শিল্পদগ্ধ। নিজেদের আবিষ্কার করতে পারেনি। তবু ভালো, খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সিন নদীর ধারে বসে সিমকীর প্রথম যে কথাটি মনে হয়! ঢাকায় ফিরে যেতে হবে। ভালোবেসে সংসার ছিন্ন হবার পর সিমকী ঢাকায়। সমপ্রতি তাতসি পেকাউড নামের এক স্কটিশ মেয়েকে বিয়ে করে লুভর-এর আত্মাকে আবিষ্কার করছে খায়রুল ইসলাম।
০২.
আজ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরেছে সিমকী। বিকেলের নাস্তা করেছে বারান্দায় বসে। আকাশ দেখতে দেখতে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়। সন্ধ্যে নামে। শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ টিভি দেখে। তারপরও একাকী। মেহেদীকে মনে পড়ে ওর। দারুণ ছেলে। কবিতা লিখত। হিরোয়েটিক চেহারা। বেদনাতুর। ক্যাম্পাসে কেমন কাঙালের মতো তাকিয়ে থাকত। সিমকীর কাছের বন্ধুও হয়নি মেহেদী। তারপরও সম্পর্কটা থেকে গেছে। ভালোভাবেই থেকেছে।
হয়তো মধ্যরাতে সিমকী মোবাইল করে।
‘কিরে ঘুমিয়ে পড়লি নাকি? তোর বউ কী করে?’
‘না। মুমু ঘুমাচ্ছে!’
‘তোর বউ লিবিয়া যাবে কবে?’
‘কেন?’
‘তোকে আমার প্রয়োজন!’
‘মুমুর অনুমতি লাগবে! মুমুকে জাগিয়ে ফোন দিই।’
‘না!’
‘কেন?’
‘ও আমাকে খুন করবে।’
মেহেদীর বউ মুমু। বছরে নয়মাস মেহেদীর কাছে থাকে না। মুমু লিবিয়ায় এনজিও কর্মী। মেহেদী জার্নালিস্ট, কবি, অভিনেতা। আরেক জগতের মানুষ। মুমু মেহেদীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। পাঁচ বছর বিবাহিত জীবনে ওদের কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু এখনো ওরা জনক-জননী হতে পারেনি। এজন্য ওদের কোনো দুঃখ নেই। নিয়তির কাছে ছেড়ে দিয়েছে।
মুমু সিমকীর স্বভাব জানে। পারিবারিক বন্ধু। মুমু সিমকীকে একজন দুঃখী নারী ভেবেই সম্পর্কের সুতো তৈরি করেছে।
‘তুই একা হয়ে ফোন দিস তো?’
ফোন কেটে দেয় সিমকী।
আরেকদিন। মোবাইলে কল করে, ‘ফোন তোর বউকে দে।’
মেহেদী অবলীলায় মুমুর হাতে ফোন তুলে দেয়।
‘আমি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিবিয়া চলে যাব। বাসায় এসে লিবিয়ান খাবার খেয়ে যেও।’
সিমকী কী বলবে ভেবে পায় না। এক ধরনের মুগ্ধতা কাজ করে।
ঘোর নিয়ে সিমকী বলে, ‘লিবিয়ায় যাবেন কবে?’
‘খুব শিগগির। মেহেদীকে রেখে গেলাম চুটিয়ে প্রেম করো।’
‘না মানে, আমি ওভাবে বলিনি!’
‘সাফাই গাইছ?’
‘অনেকটা ওই রকম। তবে আমি মেহেদীকে বিব্রত করতে চেয়েছিলাম।’
‘আমিও তোমাকে বিব্রত করেছি। সত্যটা হলো এই, মেহেদীর দিকে তাকিও না, হাড় গুঁড়ো করে দেব।’
‘না না আপনি ওভাবে বলবেন না।’
‘আমি মেহেদীকে বিশ্বাস করি। ও আমাকে।’
‘আপনি ভাগ্যবতী।’
মুমু মেহেদীর দিকে ফোন এগিয়ে দেয়।
‘তোমরা কথা বলো?’
সিমকী ফোন কেটে দেয়।
আবার বেশকিছু দিন চুপচাপ। সিমকী নয়টা পাঁচটা অফিস করে। কিছুক্ষণ টিভি দেখে। ভিসিডি-তে নতুন কোনো হিন্দি অথবা বিদেশি ছবি দেখে। তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যায়। পরদিন আরেকটা নিস্তরঙ্গ দিন কাটায়। লিবিয়া যাবার তিনদিন আগে মুমু ফোন করে সিমকীকে।
‘দু-মাস পর ফিরব এবার। তোমার জন্য কী আনলে ভালো লাগবে!’
‘না না কিছু লাগবে না।’
‘তোমার লাগবে। আমি তোমার জন্য হেমিংওয়ের ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে আসব। মেহেদীর জন্য আনব রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার বই।’
তারপর মুমু লিবিয়ায় চলে যায়।
মেহেদী সার্ক সামিট রিপোর্ট করার জন্য নেপাল যায়। ফিরে এসে নতুন সিরিয়ালের দু-পর্ব শুটিং করে উত্তরায়। আর প্রতীক্ষা করে—কবে নাগাদ মুমু ফিরে আসবে।
০৩.
মধ্যরাত। অনেকটা কর্কশ আওয়াজ করে মোবাইল মেহেদীর ঘুম ভেঙে দেয়। বিরক্ত নিয়ে কল নম্বর দেখে চমকে ওঠে মেহেদী। অনেকদিন পর সিমকীর কল। একটু ধাতস্থ হয়ে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে, ‘হ্যালো।’
‘রুশনা আকতার সিমকী।’
‘কী খবর তোর? দীর্ঘদিন পর্দার অন্তরালে। হঠাত্ প্রিযংবদার মধুক্ষরণ!’
‘ওই বেটা, মধ্যরাতে মেয়ে মানুষের টেলিফোন, ঘরে নাই বউ। কবি অইছো?’
‘কটা বাজে?’
‘ঘড়ি দেখে নে।’
‘গভীর রাত। ঘুমাসনি?’
‘সমাধান খুঁজে পাচ্ছি না বলেই তোকে কল করেছি। তোর চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কাউকেই মনে হয়নি।’
‘কী খেদমত করতে পারি?’
‘তুই নোট কর। সিডাক্সিন ৫ এম.জি পঞ্চাশটা একত্রে।
এনড্রিন—সিবাগৈগী।
এনড্রিন। ন্যায্যমূল্যে।
এই তিনটি মেডিসিন গলধঃকরণ করার পর কোনটা দ্রুত মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। আধাক্যাছলা মৃত্যু নয়। হিউম্যান বুঝতে পারবে না সে মৃত্যুবরণ করেছে।’
মেহেদী বলে, ‘আমি এসবে অভিজ্ঞ নই। সকাল হোক। ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে তোকে সত্যাসত্য মতামত দিতে পারব।’
‘এ মুহূর্তে হলে ভালো হতো।’
‘কেন?’
‘ও তুই বুঝবি না।’
‘না-ই বুঝলাম। কিন্তু মধ্যরাতে যে লিস্ট দিলি তাতে কী বুঝব? তবে একটা ব্যাপার ঠিক, আধাক্যাছলা হয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর। রইস মনরমের মতো।’
‘কেন। তার কী হয়েছিল?’
‘ট্রাকের নিচে লাফ দিয়েছিল। লাফ একটু জোরে হয়েছিল, তাই দুটো পা গুঁড়ো হয়ে গেছে। আর কিছু হয় নাই। এখন ক্রাচে ভর দিয়ে চলাচল করে।’
‘কী ভয়ংকর তাই না? সিমকী আশ্চর্য ভঙ্গিতে বলে।’
‘তুই আত্মহত্যা করতে চাস? সিডাক্সিন, এনড্রিন কেন? তার চেয়ে কত প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক আত্মহননের প্রক্রিয়া আছে। তুই প্যারিস থাকলে কী হবে! অনেক ক্ষেত্রে একেবারে সেকেলে।’
‘আমি আত্মহত্যা করব—এ কথা কি তোকে বলেছি?’
‘না। তবে মানুষের মৃত্যু ত্বরান্বিত করবে—এরকম বিষয় আমাকে কষ্ট দেয়।’
‘যেকোনো মানুষকে একসময় মৃত্যুতে আশ্রয় নিতে হয়।’
‘তাহলে কি তুই এখনি করতে চাস? সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর।’
ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাস ওঠানামার শব্দ হচ্ছে।
‘না, না।’
‘কিরে এনড্রিন সংগ্রহ করেছিস নাকি? এটা বেশি খায় বাংলাদেশের গ্রাম্য বধূরা। আর সিডাক্সিন খেয়ে মরলে আর আত্মহত্যা মনে হয় না। সবাই বলে, ঘুমের মধ্যে মইরাছিল।’
‘তুই কি আমাকে শিশু পেয়েছিস। তোর বউয়ের নম্বরটা দে তো। বলি, তোমার স্বামী এই মধ্যরাতে টেলিফোনে বিরক্ত করছে।’
‘কেন মুমুর নম্বর তোর কাছে নেই! তোকে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছি।’
‘তাহলে মৃত্যুর জন্য এই প্রক্রিয়া বাতিল।’
‘ইচ্ছে করলে এই মুহূর্তে খেয়ে পটল তুলতে পারিস।’
‘তুই কী মানুষ? একটি মানুষ তার মহামূল্যবান জীবনকে নিভিয়ে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তুই কৌতুক করছিস!’
‘আমি তোকে জাপানি জগত্-বিখ্যাত আত্মহননের প্রক্রিয়া প্রয়োগের জন্য সাজেশন দেব।’
‘হারিকিরি’ আত্মহত্যা। জাপানিদের ঐতিহ্যের এক নাম ‘হারিকরি’। এ প্রক্রিয়ায় কেউ সুইসাইড করলে, তার পরিবারকে বীরের পরিবার বলে গণ্য করা হয়।
‘তুই কি গল্প করছিস?’
‘ক্রিমোলজিতে তা-ই লেখা আছে। অভিনেতা চেম্বারলিনের সিনেমাতে দেখেছি। এই পদ্ধতিটা আমার পছন্দ।’
‘কী রকম?’
‘আত্মহত্যার আগে স্নান করে পুত-পবিত্র হয়ে জোড় আসনে বসে সামনে রাখা প্লেট থেকে সুতীক্ষ ছুরি দিয়ে নিজের পেট ছিড়ে হাত ঢুকিয়ে একটানে হূিপণ্ড ছিঁড়ে নিয়ে আসে।’
ওপাশ থেকে আর্তচিত্কার ভেসে এল। সিমকীর মাথা ঘুরে গেছে। টেলিফোন রেখে অনেকক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইল। মধ্যনিশির গভীর তন্দ্রাতুর পৃথিবী দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে আছে। মুঠোফোনের এ পাশে মেহেদীর উত্কণ্ঠা বাড়ে। সত্যি সত্যি যদি সিমকী অজ্ঞান হয়ে থাকে। তাহলে তো ও মারা যাবে। এই মধ্যরাতে তো ওর বুয়া জেগে নেই। বারবার ‘হ্যালো’ বলে কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রায় পাঁচ মিনিট পর সিমকী বলে, ‘হ্যালো মেহেদী! বল?’
‘বলব কীরে? তুই তো পিঁয়াজের খাতায় নাম লেখাই ফেলাইছস!’
‘তোর ল্যাঙ্গুয়েজ চাষাদের মতো।’
মেহেদী ত্রিশ সেকেন্ড কথা বলে না। ফোনে সিমকীর গ্লাসে পানি খাবার শব্দ পাওয়া যায়।
‘তুই ঘুমা। সকাল সকাল পিজিতে যেতে হবে। বন্ধু ডা. হারিসুল হকের সঙ্গে কথা বলে তোর লিস্টের মেডিসিনগুলোর গুণাগুণ জেনে তোকে জানাতে হবে।’
‘না তোকে এসব কিছু করতে হবে না।’
‘কেন? এ মধ্যরাত পার করে দিলি। আর এখন বলছিস কিছুই প্রয়োজন নেই।’
‘এমনি এমনি।’
‘তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি, খায়রুল ইসলামের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলো কেন?’
‘খায়রুল ইসলাম আর ওই স্কটিশ মেয়েটির সেক্সচুয়াল সম্পর্ক ছিল। যা আমি দেখে ফেলেছিলাম। নিজকে খুব পরাজিত মনে হয়েছে। এ অপমান সহ্য করতে পারিনি। চলে এসেছি।’
‘স্কটিশ মেয়েটির সঙ্গে লিভ টুগেদার করতে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে। খায়রুল ইসলাম তোর জন্য অপেক্ষা করেনি। তা-ই তো?’
‘তা-ই!’
‘মুমু কি তোকে বই পাঠিয়েছে? অদ্য ওর পাঠানো রবার্ট ফ্রস্টের কবিতাসহ অন্যান্য বই পেয়েছি। সঙ্গে চিরকুট। তাতে তোকে বই পাঠিয়েছে উল্লেখ করেছে।’
‘পেয়েছি দুদিন আগে।’
‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’। হোমিংয়ের। বৃদ্ধ সান্তিয়াগো বালকটির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাচ্ছে। এখনো নায়িকার দেখা নেই।’
‘সিমকী, বইটির বাকি অংশ পাঠ করে আমাকে টেলিফোন করবি! এর আগে নয়? আমি এখন ঘুমাব। তুই ঘুমা!’
মেহেদী কল কেটে দেয়।
০৪.
তারপর অনেকদিন কেটে যায়।
মুমু লিবিয়া থেকে ফিরে এসেছে! মেহেদীকে রেখে সে আর কোথাও যাবে না।
একদিন মধ্যরাতে সিমকী মেহেদীকে ফোন করে, ‘কীরে অনেকদিন খোঁজ-খবর নিস না?’
‘তোর খোঁজ নিতে গিয়ে আমি মুমুকে হারাতে যাব নাকি?’
‘মুমু সে রকম মেয়ে না।’
‘তা-ই!’
‘তুই এখন কোথায়?’
‘বিষ্ণুপুরে।’
‘বিষ্ণুপুরে কেন?’
‘মাহফুজকে নিয়ে সংসার পেতেছি। ও সাহিত্য পড়ায়।
‘অ্যান্ড মাইলস টু গো বিফোর আই স্লিপ।’
‘সিমকী হাসতে হাসতে বলে, ‘ম্যান মে বি ডিসট্রয়েট, নট ডিফিটেড।’