শেয়ারবাজারে দর সংশোধন

গত সাত কার্যদিবসের মধ্যে ছয়দিন বাড়ার পর গতকাল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে সূচক কিছুটা কমেছে। একইসঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে। সূচক কমার এ প্রবণতাকে দর সংশোধন হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে গতকাল বাজারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। হঠাত্ করে বাজারে লেনদেন এতো কমে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাজারে সূচকের ওঠানামা থাকবেই। তবে লেনদেনে অসম গতি ইতিবাচক নয়। এতে বুঝা যাচ্ছে বাজার কিছু বিনিয়োগকারীর লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে দর বাড়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকেনি। এর মূল কারণ হলো দর সংশোধন। গত কয়েকদিনের দর বাড়ার পর মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা থেকেই দিন শেষে সূচক কমে যায়। এদিকে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল জ্বালানি খাত। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৮৫ কোটি টাকা। যা বাজারের মোট লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ৮৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৬৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৩০ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। যা আগের দিনের তুলনায় ৩১০ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৮১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ২২২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের। এদিকে শেয়ার বা পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকার পরও নবায়ন ফি না দেয়ায় অনেকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স একাউন্ট (বিও) বন্ধ হয়ে গেছে। জুনের মধ্যে নবায়ন ফি দেয়ার সময়সীমা ছিল। ফি না দেয়ায় এ বছর প্রায় ১ লাখ বিও কমে গেছে। জানা গেছে, জুন মাসের শুরুতে বিও একাউন্ট ছিল ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৫১টি। যা জুলাই মাসের ৮ তারিখে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৩টি কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৫৮টিতে। এর মধ্যে ১৯ লাখ ১১ হাজার ২৬৭টি পুরুষ, ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪১টি নারী এবং ৯ হাজার ৪৫০টি কোম্পানি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে দেশের মধ্যে থাকা নাগরিকের বিও সংখ্যা ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৪৬২টি ও প্রবাসীদের ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৭টি বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে নবায়নকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার বিও কমেছিল।