বন্যা পরিস্থিতির অবনতি চৌহালীতে শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২১:০৭
গত কয়েকদিনে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
হবিগঞ্জ
বর্ষার পানিতে ডুবে যাচ্ছে হবিগঞ্জ-লাখাই সড়ক। এ দৃশ্য নতুন নয় প্রতি বছরই বর্ষাকালে সড়কের বামৈ-স্বজনগ্রাম অংশ বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। তখন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নৌকা ব্যবহূত হয়। গত বুধবার অপরাহ্নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে সড়কটি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে। হালকা যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর হাঁস ভাসছে। বর্ষায় সড়কের এ অংশ ডুবে গেলে লাখাই উপজেলা ছাড়াও নিকটবর্তী কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাটি অঞ্চলের কয়েকটি এলাকার মানুষ নিজ প্রয়োজনে নৌকায় বামৈ এসে বিভিন্ন যানবাহনে উপজেলা সদর কালাউক কিংবা হবিগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াত করেন।
দিনাজপুর
দিনাজপুরে ৪টি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ৪টি উপজেলার ৩৭টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলোজিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ নূর আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরের ৪টি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এলাকাবাসী জানায়, বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীর পানি দু’পাড় প্লাবিত করেছে। এদিকে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দিনাজপুর সদর, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর ও বিরল উপজেলার ৩৭ টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হওয়া মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে উঁচু জায়গা, বাঁধ এবং সু্কল ঘরে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ তাদের এই দুর্ভোগের কথা জেনে প্রশাসনের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।
সৈয়দপুর (নীলফামারী )
নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা তীরবর্তী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি স্লুইস গেইট খুলে দিয়েছে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ।
গাইবান্ধা
বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও কতিপয় চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ফুলছড়ির দক্ষিণ কাবিলপুর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কৃষ্ণমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাউয়াবাঁধা রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ইতিমধ্যে হেলেঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলগুলোতে লাগানো চিনা, তিল, আমন বীজতলা, উঠতি পাট, পটল, ঢেঁড়সসহ বর্ষাকালীন ফসলও এই পানি বৃদ্ধিতে তলিয়ে গেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। আষাঢ় মাস শেষ হলেও আকাশে কোন বৃষ্টিপাত না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কয়েক সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে নতুন-নতুন এলাকা।
পীরগাছা (রংপুর)
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যায় পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বন্যার প্রবল স্রোতে তিস্তার ভাঙ্গনে চর গাবুড়া গ্রামের একশ’ দশটি পরিবারের বসতবাড়িসহ সাড়ে তিনশ’ একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার সকালে পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ছাওলা ইউনিয়নের চর গাবুড়া, পূর্ব হাগুড়িয়া হাসিম, রামসিং, কান্দিনা, জুয়ান, শিবদেব ও চর ছাওলাসহ ১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবল স্রোতে তিস্তার ভাঙ্গনে চর গাবুড়া গ্রামের একশ’ দশটি পরিবারের বসতবাড়ি , আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের চৌহালী এবং এনায়েতপুরের যমুনা নদীতে গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই এগুচ্ছে। পাউবো জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর এ সকল পয়েন্টে পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে তা বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল খ্যাত জেলার এ ২টি থানার অন্তত ২০টি গ্রাম গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি এক থেকে দেড় ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে চৌহালী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের বাবু মিয়ার ছেলে কালাম (৩) মারা গেছে।