রাজশাহীতে এবারো আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল রবিবার আম চাষি, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা হয়। সভায় আগামী ১৫ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি আম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুটি আম ১৫ মে থেকে পাড়বেন চাষিরা। আর গোপালভোগ ২০ মে, রাণীপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাতা বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৬ জুন এবং ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় আম চাষি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা তারিখ নির্ধারণ না করার দাবি জানান। তবে অপরিপক্ব আম যেন কোনোভাবেই বাজারে না আসে তার জন্য তারিখ নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও)। শেষ পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি কোনো বাগানে আম পেকে যায় তাহলে চাষি তা নামাতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনওকে জানাতে হবে। তারপর ইউএনও সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করবেন। বাগানে তিনি প্রাকৃতিকভাবে আম পাকা দেখলে তা নামানোর অনুমতি দেবেন। এরপরই আম নামিয়ে বাজারে পাঠাতে পারবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল আলীম, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক, রাজশাহী সাংবাদিক কল্যাণ চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু, পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু, বাঘার আমচাষি জিল্লুর রহমান প্রমুখ।