নিজামী, মুজাহিদদের নাম লিখলে আমার বই প্রকাশিত হতো না

জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীকে জেরা শেষ করেছে আসামিপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার লেখা ‘একাত্তরের শহীদ ডা. আলীম চৌধুরী’ বইতে আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে নিজামী জড়িত ছিল এ মর্মে কোন বক্তব্য দেইনি। কারণ নিজামী, মুজাহিদদের নাম লিখলে ১৯৯১ সালে বইটি প্রকাশিত হতো না। গতকাল জেরা চরাকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফা বাক-বিতণ্ডা হয়। জেরার প্রশ্নের বিষয়ে কয়েকবার আপত্তি জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ডা. আলীম চৌধুরীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিটিভি, চ্যানেল আই, এটিএনসহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে আপনি সাক্ষাত্কার দিয়েছেন। তার কোনোটিতে মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে আল বদররা আপনার স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এ কথা বলেছিলেন কিনা? আসামিপক্ষের এ প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী শ্যামলী নাসরিন বলেন, আমি আমার সাক্ষাতকারে সব সময়ই আলবদরের হাইকমান্ডের কথা, নিজামী, মুজাহিদ সকলের কথা বলেছি। কিন্তু সব সময়ই দেখেছি টিভি চ্যানেলগুলো এডিট করে দেখিয়েছে। তবে আমার সাক্ষাত্কারের পূর্ণাঙ্গ অংশ প্রচার না করার জন্য টিভি চ্যানেলগুলোতে কোন প্রতিবাদ লিপি পাঠাইনি। বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেকগুলো মামলা হয়েছিলো সেখানে নিজামী আসামি ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, কয়টি মামলা হয়েছিল তাহা আমার জানা নেই। ঐসব মামলার কোনটিতে নিজামী আসামি ছিলেন কিনা তা আমি জানি না। এর আগে গত বুধবার ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দিতে শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আলবদর হাইকমান্ড নিজামীর নির্দেশে তার স্বামী ডা. আব্দুল আলীমকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর রায়ের বাজার বদ্ধভূমিতে আরো অনেক বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আব্দুল আলীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি তার স্বামীসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।