পাঠকের মতামত
রাজনীতিতে গাজীপুর নির্বাচনের প্রভাব
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২২:০০
দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অনেক বড় সাফল্য বলে আমরা মনে করি।
খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর,
ঝিনাইদহ
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য সাধুবাদ পেতে পারেন নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও। তবে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সবাইকে স্বচ্ছভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
মেজবাহউদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
আমাদের সবারই প্রত্যাশা— দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাক। অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন—কখনও গণতান্ত্রিকব্যবস্থাকে বিনষ্ট করতে না পারে। গাজীপুরের নবনির্বাচিত মেয়র এম এ মান্নানকে জানাই অভিনন্দন।
এম এম কে এ রাজা
টাইম’স আই বেঙ্গলী
মতিঝিল, ঢাকা
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হচ্ছে সর্বশেষ গাজীপুর পৌর করপোরেশনের নির্বাচনের ফলাফলের পর। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আর ভুল করে না। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে তাগাদা দিচ্ছে কোন দিকে যাবে এখন রাজনীতি।
মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু
মহাখালী, ঢাকা
৫টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে হিসাব করা হচ্ছে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতার ইস্যুতে আজ রাজনীতিতে নতুন ধারা বইতে শুরু করেছে।
কাউছার আকন্দ
মতিঝিল, ঢাকা
আমার ভাবনায় গাজীপুরের নির্বাচন ইতোমধ্যে সামনের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদেরকে এখন থেকে সরল পথে চলতে হবে।
মো. লুত্ফর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড,
ঢাকা
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে যিনিই বিজয়ী হন না কেন এখানে বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের। গণতন্ত্রে জনগণই যে সকল ক্ষমতার উত্স, মেয়র নির্বাচনে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের জনগণ তা প্রমাণ করেছেন। তবে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন ক্ষমতার সুষ্ঠু হওযা উচিত। তা-না হলে এই জনগণই আবার উলটো দিকে হাঁটা শুরু করবে।
আবদুল মালেক মিয়া
মিরপুর, ঢাকা
আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই খুব জনপ্রিয় একটি বিষয়। সব নির্বাচনই উত্সবমুখর পরিবেশে শুরু হয়। এদেশে প্রথম নির্বাচন হয় ১৮৭১ সালে। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই ৩৫ বছরে ১৪টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সাফল্যে গাজীপুর এখন রাজনীতিতে অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। আমরা আশা করবো, সামনে জাতীয় নির্বাচনেও এরকমভাবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন সরকার সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখবেন। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের যে পরাজয় হয়েছে সেটা দিয়ে প্রমাণ হলো বাংলাদেশের জনগণকে মিথ্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বোকা বানানো এসব আর চলবে না।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি,
মহাখালী যুবকল্যাণ সমিতি,
মহাখালী, ঢাকা
গাজীপুরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর রাজনীতি এখন উলটো পথে চলার সন্ধানে রয়েছে বলে আমরা মনে করি। মানুষ আর ধোঁকা খেতে রাজি নয়।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ,
মিরপুর, ঢাকা
গাজীপুরের নির্বাচনী ফলাফলের মধ্য দিয়ে দু’টি দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের আরো একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন,
নবাবগঞ্জ, ঢাকা
সরকার ও বিরোধীরা নির্বাচনী এইসব সাফল্যের উপর ভর করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে তত্পর হয়, নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য প্রতীক্ষা সমুন্নত রেখে আন্দোলন চালানোর মনস্থির করবেন— সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শিশির
আজিমপুর, ঢাকা
গাজীপুরের নির্বাচনে রাজনীতিতে অবশ্যই প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। একে একে ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদলের বিজয় হয়েছে এই ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে, এটা কি বিপর্যয় নয়? তাই এখন সরকারের উচিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেওয়া।
ফারুক আলম
মালিবাগ,
ঢাকা
রাজনীতিতে গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
মাসুদ আলম
উর্দু রোড, লালবাগ,
ঢাকা
সাম্প্রতিককালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নানাভাবে নানা বিশ্লেষণ করেছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে রাজনীতিতে অন্যরকম বাতাস বইতে শুরু করেছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ কতটা সিট পাবে— তার হিসাব নিকাশ শুরু হয়ে গেছে।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট,
নোয়াখালী
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে প্রশাসনকে অরাজনৈতিককরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড,
নিউইর্য়ক
রাজনীতিতে অবশ্যই গাজীপুর নির্বাচনে পড়েছে। এমনকি গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ৪টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে চার বছরে হামলা, মামলা, খুন, গুম, রাহাজানি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শেয়ার মার্কেট, হলমার্ক, ডেসটিনি, কুইক রেন্টাল, পদ্মাসেতু, রেলের কালো বিড়াল, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া, বিশ্বজিত্ হত্যা, হেফাজতের তাণ্ডব আগামী নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে সরকারের একগুয়েমির কারণে জনগণ আজ অতিষ্ঠ। তাই গাজীপুর স্থানীয় নির্বাচন হলেও জনগণ আজ এই ইস্যুগুলো নিয়ে একাট্টা হয়ে ১৪ দলীয় প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে। এই নির্বাচনের প্রভাব অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।
শাহ আলম খান
সড়ক বাঁশখালী,
চট্টগ্রাম
গাজীপুরের নির্বাচন বর্তমান সরকারের উপর সরাসরি আঘাত। সরকার নিজেই পদ্মা সেতু, ডেসটিনি, হলমার্ক, গুপ্ত বাবুর কালো বিড়াল, দ্রব্যমূল্য ও বেকারত্বসহ নিজ দলের কর্মীদের টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে হত্যা, গুমের মতো কোন বিষয়কেই আমলে আনেনি। আজকাল পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার কল্যাণে যে কোন ঘটনা অতি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে সরকার যেহেতু গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে ব্যর্থ সেহেতু গাজীপুরের নির্বাচন রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করি।
আবু তাহের বকুল
১৫ দীননাথ সেন রোড,
গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা সিটি কর্পোরেশনের কোন মেয়রের জাতীয় এবং অন্তর্জাতিক পর্যায়ে বা দেশ পরিচালনায় নীতি নির্ধারণী ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বিধায়, গাজীপুরের নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে ভোট ব্যাংকে কোন বড় রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ এ দেশের আমজনতা দেশকে আর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চায় না। তাই সামগ্রিক বিচারে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অওয়ামী লীগই ক্ষমতার মসনদে থাকবে এটা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায় ইশাল্লাহ্। শুধু সরকারকে মনে রাখতে হবে দেশ যেন বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আর খারাপের দিকে না যায় এবং একইসাথে জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজগুলো যতটুকু পারা যায় দ্রুত সম্পন্ন করা এবং যে কোন অবস্থায় হোক না কেন, পদ্মাসেতুর মূলকাজ শুরু করতে হবে এবং প্রশাসনিক ও দলীয় শৃঙ্খলা জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে অবশ্যই কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।
নাছির উদ্দীন সিদ্দিকী
৩৬১ খন্দকার রোড,
পশ্চিম জুরাইন মাজার শরীফ এলাকা, শ্যামপুর, ঢাকা ১২০৪
নির্বাচনগুলোতে প্রাধান্য পেয়েছে পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন। জিএসপি স্থগিতসহ অন্য ইস্যুগুলো বর্তমান সরকারের সিটি নির্বাচনের পরাজয়ের মূল কারণ।
আবুল হোসেন
ইলেকট্রিক প্লাজা,
মিরপুর, ঢাকা
সুষ্ঠুভাবে সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনার প্রশংসার দাবিদার। আমরা আশা করছি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনার এরকম ভূমিকা রাখবেন।
এস কে এম রমিজউদ্দিন
প্রশিক্ষা কেন্দ্রীয় কার্যালয়,
মিরপুর
গাজীপুর নির্বাচনের ফলাফল দেখে আভাস পাওয়া যায় জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল কী ঘটবে। তাই সাধারণ জনগণ যারা রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামান না তারা ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদল করে দেন। তাদের কাছে রাজনৈতিক দল নয়, জাতীয় ইস্যুই প্রাধান্য পায়।
সেলিনা রাহাত আরা
গুলশান ১, ঢাকা ১২১২
সারাদেশের ৮টি সিটির মধ্যে ৬টিতেই সরকার দলীয় প্রার্থীদের ভাবমূর্তি ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু পরিশেষে নানা ইস্যুতে পরাজয় বরণ করে সরকার দলীয় প্রার্থী। তাই বলবো, তাদের এখন সংশোধন হবার সময় এসেছে।
আইরিন সুলতানা সন্জু
মাইজপাড়া, ধুপপুর, চট্টগ্রাম
সম্প্রতি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এই নির্বাচনের ফলাফল রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৈয়দা পারভীন সুলতানা
ঝিনাইদহ
বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত মোট ৮টি সিটি নির্বাচনের সবক’টিতেই সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে— এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়।
সানজিদা আক্তার শিলা
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়ছে। সরকার কোন নির্বাচনেই অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি। বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকার মাগুরা উপ-নির্বাচনসহ ১টি নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে পারেনি। তারা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছিল। ৪টি সিটি নির্বাচনের পর গাজীপুরে নির্বাচন হলো। রাজনৈতিক মহল বলছে, এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। এ সরকারের অধীনে প্রত্যেকটি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেই বিরোধী দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হচ্ছেন।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
গাজীপুরের নির্বাচন এদেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে গতিশীল করবে। ভোট কারচুপি, ভোট জালিয়াতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ আর নয়। গাজীপুরে নির্বাচনের পর দেখা গেল, বিজয়ী ব্যক্তি পরাজিত ব্যক্তিকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। আশা করবো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে এবং দেশের উন্নয়নে রাজনীতিবিদগণ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন। দেশবাসী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে উত্সাহিত হবে। ভোটারগণ ভোট দিয়ে সত্ ব্যক্তিদের জয়যুক্ত করবেন।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে সমগ্র দেশবাসীর মধ্যে একটা আগ্রহ কাজ করেছিল। যদিও বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর নির্বাচনের উপরও একইভাবে জনগণ চোখ রেখেছিল। আমরা মনে করতে পারি, চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর গাজীপুরে অবশ্যই সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন করেছিল। সরকারের ধারণা ছিল গাজীপুরে আওয়ামী লীগ জিতে যাবে, কিন্তু তা হলো না। জনগণ ভোট না দিলে কিছুই করার থাকে না। দেশের জাতীয় ইস্যুসমূহ একটি স্থানীয় নির্বাচনে কতখানি প্রভাব বিস্তার করতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ গাজীপুর সিটি নির্বাচন। তাই জাতীয় ইস্যুসমূহ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা উচিত। এমন কোন সমস্যা নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারকে অবশ্যই জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। তা না হলে সরকার যতই উন্নয়ন আর সুখ-সমৃদ্ধির কথা বলুক তাতে লাভ হবে না। রাজনীতি হচ্ছে কল্যাণের জন্য। সে রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়লে সেখানে মারামারি, হরতাল, ধ্বংস কিংবা অবিশ্বাস দেখা দেয়। এই অবিশ্বাস এক পর্যায়ে জাতীয় ইস্যুতে রূপান্তরিত হয়। জনগণ তখন ভালো কাজ করলেও দলের কারণে ভোট দেয় না। এর ফলে আমরা লক্ষ করি ভালো প্রার্থীও নির্বাচনে হেরে যায়। তাই সরকারকে বলবো, দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে জাতীয় সমস্যাগুলো দূর করুন।
ওয়াহিদ মুরাদ
স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল রাজনীতিতে যে প্রভাব ফেলবে তা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। স্থানীয় ইস্যুর চাইতেও সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার বিষয়গুলোই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
কোরবান আলী
চালাকচর, নরসিংদী
গাজীপুরসহ আরো পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পরও এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে পরাজয়ই প্রমাণ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে পরাজয়। কেননা যাঁরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন সেসব ভোটারই তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। কাজেই এ থেকে প্রমাণিত হয়, এসব এলাকার জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরাজয় তো হবেই।
মো. শহীদুর রহমান
কাকীনা, লালমনিরহাট
বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষতা এক বিস্ময়কর ঘটনা। ৫ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয় নিঃসন্দেহে জাতীয় নির্বাচনকে অনেকাংশে প্রভাবিত করবে। বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন বেশি পছন্দ করে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুইটি রাজনৈতিক দলই গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে থাকে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলকেই জনগণ ভোটের সময় সহজভাবে মেনে নিতে চায় না। অপরদিকে অন্য কোন রাজনৈতিক দল না থাকার কারণে সরকারি দলের বাইরে প্রধান বিরোধী দলকেই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করে থাকে।
মঞ্জু খন্দকার
চুয়াডাঙ্গা
গাজীপুরে নির্বাচনে হেফাজতে ইসলাম ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। শুধু গাজীপুরে নয়, আগামী নির্বাচনেও এভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
শাহ্ মো. হেলাল উদ্দিন হিরু
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুইটি দলের প্রভাব বেশি। এ দুইটি ছাড়া অন্য কোন দল নেই বিধায় জনগণ দুই দলের দিকেই ঘুরে-ফিরে তাকায়। তবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ সত্যিকার অর্থে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে যে, কোন দলকে তাদের প্রয়োজন।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ
মিরপুর, ঢাকা
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটেছে। আজমত উল্লাহর মতো একজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচিত হতে পারেননি। তাই সামনের নির্বাচনসমূহে এবং জাতীয় রাজনীতিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রভাব থাকবে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
গাজীপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তথা ১৪ দলীয় প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে দেশবাসী তাকিয়ে আছে।
রিফাত
ঝিনাইদহ
নানা উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার মধ্য দিয়ে গাজীপুরের নির্বাচনে বিরোধীদলের জয় যেমন বিরোধীদলের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে চরমভাবে হতাশ করেছে। চার সিটি কর্পোরেশনের পর গাজীপুরের ফলাফল সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যে এর প্রভাব পড়বে তা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। গাজীপুর নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো যে, মহাজোট প্রার্থী সত্ ও যোগ্য বলে যার সুনাম রয়েছে নিজের কেন্দ্রেও তিনি পরাজিত হয়েছেন। অর্থাত্ প্রার্থীর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী এবং স্থানীয় ইস্যু এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। স্থানীয় ইস্যুর চাইতে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার বিষয়গুলোই এসব নির্বাচনে অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও শঙ্কা এখনও কাটছে না। জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে তার রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি। বর্তমান সরকারের যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইচ্ছা থাকে তাহলে নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে একমত হতে সমস্যা কোথায়? এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছা গেলে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে। ক্ষমতাসীনদের মনে রাখা দরকার ভবিষ্যতে তাঁদেরও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন পড়তে পারে। সমপ্রতি ক্ষমতাসীনরা তাঁদের কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে শুরু করেছেন এবং তা সংশোধনের জন্য জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। সরকারের এ শেষ সময়ে এসে এ উপলব্ধি তাদের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের দুর্নীতির পাহাড় ছয় মাসে ভাঙা কোনভাবেই সম্ভব নয়। গোপালগঞ্জের পর গাজীপুরকে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দুর্গ বলা হয় সেখানেও এমন শোচনীয় পরাজয় আওয়ামী রাজনীতিতে চরম হতাশারই জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সরকার যদি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে একগুঁয়েমি মনোভাব পরিত্যাগ না করে, তাহলে তাদের আরও জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ক্ষমতায় গিয়ে বেপরোয়া আচরণ অনেক সময় ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের এ অবস্থান থেকে অবশ্যই সরে আসা উচিত। সকল রাজনৈতিক দলের সব সময় একটি কথাই মনে রাখা উচিত যে ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স’।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
সারিয়াকান্দী, বগুড়া
স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ বছরে দেশের জনগণ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। স্বাধীনতা পেয়েছে শুধুমাত্র তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক নেতা। দেশের ১৬ কোটি মানুষের কথা তাঁরা ভাবেন না। তাঁরা শুধু তাঁদের নিজেদের হিংসা-প্রতিহিংসার মাধ্যমে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পালাগানের মত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত। জয় এবং পরাজয় নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। প্রার্থী যতই হোক বিজয়ী হবে নির্ধারিত একজনই। এ বিজয় এবং পরাজয় মেনে নেয়াই গণতান্ত্রিক নীতি। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের একজন অভিভাবকের মুখ হতে যখন এ রকম কথা বের হয়, তখন রাজনীতি, গণতন্ত্র, প্রতিদ্বন্দ্বিতার রীতি-নীতি নষ্ট হয়ে যায়। গাজীপুর নির্বাচনে দু’জনকেই কি নির্বাচিত করা সম্ভব ছিল? ৭ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন। যাঁরা নির্বাচিত হতে পারেননি তাঁরা কেউই শূন্য ভোটে পরাজয় বরণ করেননি। কিছু ভোট তাঁরা পেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় গাজীপুরের সকল জনগণই একজনকে ভোট দেয়নি। প্রমাণ হয় যে গাজীপুরের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেনি । তুলনামূলক কম ভোট পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এতে অসম্মানের বা প্রত্যাখ্যানের কিছুই নেই। শান্তি, শৃঙ্খলার মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
ওয়ারি, ঢাকা
স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কে অনেকেই উদাসীন। দেশের বেশিরভাগ মানুষ স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের পার্থক্য বোঝে না। তারা শুধু নির্বাচনই বোঝে। চাহিদার সাথে প্রাপ্তির একটা হিসাব হয়। এ কারণে চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। জনগণ নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে চাহিদা পূরণের আশা প্রকাশ করে। বরাদ্দ না থাকলে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। উন্নয়নশীল দেশের বড় সমস্যাই এখানে। আর এর সূত্র ধরে রাজনৈতিক নেতারা। এ হচ্ছে এ দেশের নেতাদের অপসংস্কৃতি। গাজীপুরের নির্বাচন কেন, সকল নির্বাচনই জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। সুপ্রভাব হতে পারলে আবার কুপ্রভাবও হতে পারে। আগেই বলেছি চাহিদা, প্রাপ্তি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপর সবকিছু নির্ভর করবে। দেশের জনগণ চায় জাতীয় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় স্বার্থে একাত্মতা প্রকাশ করবে।
ডা. এস এম মোশারফ হোসেন
আলমপুর, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ ১৫৪৪
এককভাবে গাজীপুরের নির্বাচন রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে এটা হলফ করে বলা মনে হয় ঠিক নয়। কারণ গাজীপুরের নির্বাচনে সরকারি দলের পরাজয় এবং বিরোধীদলের জয়। এটা আসছে কোথা থেকে? নিশ্চয় পিছনের দিকে ফিরতে হবে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশালের নির্বাচন গাজীপুরের নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। যার ফলে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে বিএনপির প্রবেশ সরকারের জন্য দুর্ভাগ্য। বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মেয়র শূন্য, বাকি দু’-একটা ছাড়া সবগুলো সিটি কর্পোরেশনেই বিএনপির মেয়র এবং তাঁরাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। সেদিক থেকে যদি জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য লাল সংকেত আর বিএনপির জন্য সবুজ সংকেত।
জসিম মজুমদার
পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা
শুধু গাজীপুরই নয়; এর আগের চারটি সিটিতেও ১৪ দলের প্রার্থীরা হেরেছে শুধু নিজেদের দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে অতীতের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে, টেন্ডারবাজিতে ও আত্মীয়করণের কারণেই ১৪ দলের সমর্থকেরাও বিরোধী জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, এখনও সময় আছে দলীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে নেতৃত্বস্থানীয় নেতাদের ভালো করার। কারণ পুরান চাল যে ভাতে বাড়ে সে কথা ভুলে গেছে দলীয় নেতারা। তারা বিভিন্ন দল থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা সুবিধাভোগীদের চাটুকারিতায় প্রকৃত দলীয় ভোটারদের অবমূল্যায়ন করছে। খুব শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধান না হলে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। কারণ কেউ কসম করেনি অমুক দলকে ভোট দিতেই হবে কিংবা অমুক দল করতেই হবে।
খোকন আহম্মেদ হীরা
বরিশাল
রাজনীতিতে গাজীপুর নির্বাচন বহুধা বিষয়ে প্রভাবিত করে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। সরল সোজা, জটিল-কুটিল চিন্তকদের জ্যোতিষী হাবভাবকে সতর্ক করেছে। মহাসতর্ক বার্তা জানিয়ে দিয়েছে সরকারকে, যারা ক্ষমতার দম্ভে মাটিতে পা ফেলে হাঁটতে ভুলে গিয়েছিল। ভুলে গিয়েছিল জনতার বুকে কান পেতে শোনার পবিত্র কর্তব্যকে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা যে এক কথা নয়, সাধারণ মানুষ সে বিষয়টি পরিষ্কার করলো সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। আধমরাদের ঘা মেরে জানিয়ে দিলো, ‘সময় থাকতে পিওর হন, সাপোর্ট দেবে জনগণ’। শুধু গাজীপুর নির্বাচনই নয়, পূর্বের চারটি সিটি নির্বাচনের একই ম্যাসেজ জনগণ সরকারকে জানিয়েছে। কোন কার্ডই সরকারকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, তা সে এরশাদ কার্ড বা এনবিআর কার্ডই হোক, এমনকি দ্বিতীয় গোপালগঞ্জের তকমা লাগিয়েও। সরকারের সৃষ্ট বদনামি ইস্যুগুলো জাতীয় রূপ নিয়ে, এমন এক বীতশ্রদ্ধ উদাহরণ তৈরি করেছে, যার ভারে স্থানীয় ক্লিন ইমেজধারী নেতারা পর্যন্ত চিড়ে চ্যাপ্টা হয়েছে। গাজীপুর নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা, যখন সরকারের সকল কুকর্মের ব্যালটি জবাব দেয়ার জন্য আজান দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সময় যখন অস্তাচলে তখন দোদল বান্দা এরশাদ ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন। তার দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এরশাদের সমর্থনকে পাত্তাই দেয়নি। যেমনটি পাত্তা দেয়নি সরকারের কোন গুণধর ব্যক্তিকে। সরকারপ্রধানের বক্তব্য, মন্ত্রী-এমপিদের গলাবাজিও গাজীপুর নির্বাচনে পরাজয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে। সব কথার এক কথা— সরকারের সব অনিয়মের জবাব দিয়েছে গোপন ব্যালটে সরকারের আস্থার শেষ উইকেটটা ফেলে দিয়ে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর