ঢাবি এলাকায় পুলিশ ও বিসিএস পরীক্ষার্থী সংঘর্ষ
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৬
বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল এবং ৩৪তম বিসিএসের ফল বাতিল করে পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে নামা চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে দফায় দফায় হামলা করেছে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ। বিসিএস পরীক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শাহবাগ অবরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেন। পরে মিছিলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তারা ভিসি বাসভবনসহ ক্যাম্পাসে ভাংচুর করেন। শিক্ষার্থীদের ‘পিছু হটাতে’ কয়েক রাউন্ড গুলি এবং কয়েকশ’ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়ে পুলিশ।
এদিকে বিক্ষুব্ধদের আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যা দিলেও ‘কোটা বাতিল নয় বরং সংস্কারের’ দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোট। একইসাথে ক্যাম্পাসে পুলিশের হামলা এবং ভাংচুরের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছেন ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোটই। ঢাকার আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে একই দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ-মানববন্ধন-সড়ক অবরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত বুধবার দিনভর শাহবাগে চাকরিপ্রার্থীদের অবরোধের মুখে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। ঐ পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন এবং সরকারি সকল চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করার দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শাহবাগে আবার অবরোধের ঘোষণা দেন বিসিএস পরীক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শাহবাগে পুলিশের বাধা
পূর্ব ঘোষণানুযায়ী গতকাল বেলা ১১টার দিকে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার্থীরা শাহবাগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। এদের প্রায় সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তাদের সঙ্গে ছিলেন বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে জড়ো হতে নিষেধ করে এবং ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে বলে। পরীক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীদের পিছু হটাতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। আরেকটি অংশ শাহবাগে অবস্থান করে। রায়ট কার নিয়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে ঐ দলটিও ক্যাম্পাসের দিকে চলে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে। সোয়া ১১টার দিকে চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে, পুলিশও পাল্টা টিয়ার শেল ছোঁড়ে। এ সময় দুটি গাড়ি ভাংচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের কয়েকজন চারুকলা অনুষদের ভেতরে থাকা পয়লা বৈশাকে আনন্দ শোভাযাত্রায় ব্যবহূত ‘মোটিফ’ টেনে রাস্তায় নিয়ে আসেন। আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করেন। সেখানে পুলিশের ধাওয়ায় বেশ কিছু ছাত্র কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের ভেতরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তারা পুলিশ ও পিএসসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ তখন কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়। একইসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মল চত্বর এবং স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। কোটা প্রথা বাতিল করার দাবিতে তারা স্লোগান দেন। ঐ স্থানগুলোতেও পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এফ রহমান হলের ভিতরে প্রবেশ করেও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে নেমে আসেন এবং মিছিলে যোগ দেন। দুপুর ১২টা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় সবগুলো মিছিলই পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ
তিন ঘন্টার বেশি সময় ধরে নিয়মিত বিরতিতে পুলিশ কয়েকশ’ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। চারুকলাসহ কয়েকটি স্থানে গুলিবর্ষণও করা হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। টিয়ারশেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকশ’ পরীক্ষার্থী ও ছাত্র-ছাত্রী। এনামুল, সৃজন, আনোয়ার ও জহির নামের চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চারজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ভিসি বাংলোসহ বিভিন্নস্থানে ভাংচুর
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-মিছিল-সমাবেশ শাহবাগ ও ক্যাম্পাসের বিভিন্নস্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্নস্থানে ভাংচুর করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এমন স্লোগান দিয়ে ভিসি বাংলোর মূল ফটকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা দুইটি গাড়ি ভাংচুর এবং একটি অটোরিকশাও ভাংচুর করেন। পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময় শিক্ষার্থীদের একটি দল প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত ভিসি অফিস অবরোধ করে। একপর্যায়ে সেখানে তারা এক শিক্ষকের গাড়ি ভাংচুর এবং প্রশাসনিক ভবনের কয়েক কক্ষের জানালার কাঁচ ভাংচুর করেন।
এদিকে নীলক্ষেতে, চারুকলায়, টিএসসিতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলা ভবনের সামনে এবং মল চত্বরে জড়ো হয় ও স্লোগান দেন। সেখান থেকে গিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ভাংচুর করেন।
দুপুর সোয়া একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাংলোর প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীরা। বাংলোতে ভাংচুর করে তারা।
ছাত্রলীগের হামলা
পুলিশ এবং পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন করে ছাত্রলীগ। চারুকলায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা টিএসসির দিকে আসলে টিএসসি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা চালান ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং হল শাখার নেতা-কর্মীরা। কলা ভবনের সামনে, ডাকসুর দোতলায়, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে, মল চত্বরে, জাতীয় কবির সমাধি চত্বরে, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনেও শিক্ষার্থীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা কোটার পক্ষে ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন।
তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বলেন, আমরা শুধু শৃংখলা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছি। যেখানে পেরেছি বিশৃংখলা প্রতিহত করেছি। কাউকে মারধর করা হয়নি।
আটক অন্তত ২০
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে। আটক সকলেই শাহবাগ থানার হেফাজতে রয়েছেন। ভিসি বাংলো ভাংচুরের পর ঐ স্থান থেকে পুলিশ আটজনকে আটক করে। এছাড়া টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্নস্থান থেকে ১২ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। থানার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটকের সংখ্যা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। এটি ২০ জনের বেশি হবে।
বিনা উস্কানিতে হামলার অভিযোগ
দুপুর আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, শুরুতে পুলিশ আমাদের অনুমতি ছাড়াই টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। পরে ভিসির বাসভবনে হামলা চালালে আমিই পুলিশ ডেকে আনি।
বাতিল নয়, সংস্কার চান অনেকে
বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষায় মোট আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ ভাগ, উপজাতি কোটায় পাঁচ ভাগ, নারী কোটায় ১০ ভাগ এবং প্রতিবন্ধী কোটায় এক ভাগ সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থাত্ ৫৬ ভাগ নিয়োগই হয় কোটায়। আর বাকি ৪৪ ভাগের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাধারণ চাকরি প্রার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, হঠাত্ করেই দেশে একেবারে কোটা প্রথা বাতিল করা যাবে না। তা ঠিকও হবে না। তবে সংস্কার করা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১০ ভাগে এবং অন্যান্য কোটা ১ থেকে তিন ভাগে নামিয়ে আনা উচিত বলে তারা মনে করেন।
আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে লাভ নেয়ার চেষ্টা!
গতকাল কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের অনেক কর্মীই অংশ গ্রহণ করেছেন বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন। এটি দলীয় কর্মসূচি নয় বলেও তারা জানান। তবে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মোটিফ টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসায় তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার পুলিশের উপস্থিতিতে শিবির বিরোধী স্লোগান দিয়ে আন্দোলনরতদের উপর হামলাকারীদের পরিচয়-উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রগতিশীল ছাত্রজোট নেতারা বলেন, ভাংচুর গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে ছাত্রদের উপর পুলিশের হামলা এবং ছাত্রলীগের মারধরের নিন্দা জানান তারা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব এক বিবৃতিতে পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা এবং অবিলম্বে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান।
অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাংলো, প্রশাসনিক ভবন, প্রক্টর অফিস এবং এক শিক্ষকের গাড়ি ভাংচুর করায় এ মামলা দায়ের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, ভাংচুর এবং বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ উচ্ছৃংখল যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সহিংসতার অভিযোগ
গতকালের আন্দোলনে ছাত্রদল এবং জামায়াত-শিবির সহিংসতা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, এই আন্দোলন দাবি আদায়ের জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য। জামায়াত-শিবিরের ইন্ধন রয়েছে এতে।
তিনি বলেন, বুধবার শাহবাগে চাকরি প্রার্থীদের যে দাবি ছিল, তাতে আমি সমর্থন দিয়েছি এবং পিএসসি তা সংশোধনও করেছে। এখন আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-শিবির হামলা চালাচ্ছে। ভিসির বাসভবন ভাংচুর, প্রক্টর অফিস ভাংচুর তারই প্রমাণ দেয়।
একজন সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছাত্রদল এবং শিবির কর্মী হিসাবে আমি চিনি।’
সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ
সকালে শাহবাগে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলা ও একাত্তর টেলিভিশনের গাড়ি ভাংচুর করেন। কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের কয়েকটি কপিও পুড়িয়ে দেন। পরীক্ষার্থীদের দাবি ও অনুভূতি সঠিকভাবে সংবাদমাধ্যমগুলো উপস্থাপন করেনি বলে তারা দাবি করেন।
গত সোমবার বিকালে ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ঐ ফলাফলে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করায় বঞ্চিত হয় কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বিক্ষুব্ধরা শাহবাগে মানববন্ধন করে। বুধবার শাহবাগে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এর মধ্যেই পিএসসি ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল কোটা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নামে পরীক্ষার্থী-শিক্ষার্থীরা।