এমপি ইলিয়াস মোল্লার এপিএস খুনের মোটিভ নিয়ে পুলিশ অন্ধকারে
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৯
সংসদ সদস্য ইলিয়াস হোসেন মোল্লার ব্যক্তিগত সহকারী আমির হোসেন কাঞ্চন খুনের ঘটনার কোন ক্লু এখনও পুলিশ বের করতে পারেনি। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মোবাইল ফোনে স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে আমির হোসেন কাঞ্চনের শেষ কথা ছিল - ‘এইতো আমি আসছি, বাসার কাছাকাছি।’ দীর্ঘদিন পর কাঞ্চনের মা ঐদিন সন্ধ্যায় তার বাসায় বেড়াতে আসেন। মায়ের আসার এ খবর পেয়েই তিনি স্ত্রীকে দ্রুত বাসায় ফেরার কথা জানান। পরে রাত সাড়ে ৯টায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পল্টনের দৈনিক বাংলা মোড়ে পাওয়া যায়। নিহতের বড় ভাই আব্দুল মান্নান জানান, কাঞ্চন তার বাসায় দীর্ঘদিন পর মায়ের আসার খবর পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। মায়ের আসার খবর পেয়ে স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে এমনভাবে কথা বলেন কাঞ্চন যাতে মনে হয়েছিল তিনি বাসার আশপাশেই আছেন। কিন্তু ঐ ফোনের পর পরই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রায় তিন ঘন্টা পর আহত কাঞ্চনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর পল্টন এলাকায় পাওয়া যায়। তাই গোটা বিষয়টিই রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে নিহতের পরিবারের কাছে। আব্দুল মান্নান আরো বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না, যে লোক সন্ধ্যায় রূপনগর এলাকায়, তাকে কারা পল্টন নিয়ে গেল ?’
এদিকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ব্যক্তিগত সহকারি (এপিএস) আমির হোসেন কাঞ্চনকে কেন এবং কারা হত্যা করেছে - সে প্রশ্নের জবাব মিলছে না কারো কাছে। তিনি ব্যবসায়িক না-কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ খুনিদের সনাক্তকরণ বা তার সঙ্গে কারো পূর্ব-বিরোধের তথ্য দিতে পারছে না। এ অবস্থায় থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারা কাঞ্চনের হত্যারহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নেমেছেন। তবে গতকাল বুধবার হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় দিনেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, দৈনিক বাংলা মোড়ে খুন হয়নি। অন্য কোথাও কাঞ্চনকে খুন করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর পল্টন থানার ওসি সারওয়ার কবির জানান, এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার থানায় কোন মামলা করা হয়নি। নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ী ফরিদপুর যাওয়ায় মামলাটি বিলম্ব হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম হত্যারহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ শুরু করছে। দৈনিক বাংলার মোড়ে কাঞ্চনকে রক্তাক্ত অবস্থায় যে মাইক্রোবাসটি থেকে ফেলে দেয়া হয় সেটি সনাক্তের জন্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, নিহত কাঞ্চন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস হোসেন মোল্লার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন না। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই মান্নান জানন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি কাঞ্চন প্রায় ২০ বছর ধরে স্ব-পরিবারে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বসবাস করতেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গত ৭/৮ বছর ধরে এমপি ইলিয়াস হোসেন মোল্লার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে তিনি কাজ করছেন বলে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন জানতেন। এমপি ইলিয়াস হোসেন মোল্লা বর্তমানে তার অসুস্থ মায়ের চিকিত্সাজনিত কারণে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।