চাকরির দাবিতে ইবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করল ছাত্রলীগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:২০
চাকরির দাবিতে গত বুধবার মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারকে নিজ বাসভবনে প্রায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগের চাকরি প্রত্যাশীরা। এ সময় ছাত্রলীগের একজন নেতা উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুই আনসার কর্মীকে মারধর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের চাকরি প্রত্যাশী ১৫-২০ জন নেতাকর্মী উপাচার্যের বাসভবনে এসে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীকে গেট খুলে দিতে বলে। এ সময় ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা ভবনের প্রধান ফটকে লাথি মারতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় এ সময় পিকুল এবং চান্দু মিয়া নামে দায়িত্বরত দুই আনসারকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুজর গিফারী গাফফার। আহত ২ জন নিরাপত্তাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিত্সা নিয়েছেন। আহত নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে কথা বললে তারা মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ছাত্রলীগ নেতা আবুজর গিফারী গাফফার। পরে তারা বাসভবনে ঢুকে একাংশ বাসভবনের বাইরে অবস্থান নেয় আর আরেক অংশ উপাচার্যের সাথে বৈঠকে বসে। প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক শেষে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে তারা বাসভবন ত্যাগ করে।
বৈঠক শেষে উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, তারা আমার কাছে তাদের কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বলতে এসেছিল। শুধু সে বিষয়েই কথা হয়েছে। চাকরির ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা চাকরি চাইতেই পারে। আমি তাদের বলেছি, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
এদিকে রাত সাড়ে ৮টায় গাড়িগুলো ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেয়। ফলে শিক্ষার্থী বহনকারী বাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ যেতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম খান উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ভিসি স্যারকে বলেছি যদি সম্ভব হয় তাহলে আমাদের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিয়ে দেন।’