প্রখ্যাত আইনজীবী ড. জহীর আর নেই

‘আজ আমার জীবনের পশ্চিম আকাশ লাল। ওপারের ডাকের অপেক্ষায়। তবু বলে যাই- আবার যদি আসে ফাল্গুন/ শিমূল শাখায় লাগে আগুন তখন আবার স্মরণ করো/ অচিন সাথীটিরে/ দেখা হবে আবার যদি ফাল্গুন আসে গো ফিরে।’ —সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও প্রখ্যাত কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ড. এম জহীর মনের কথাগুলো এভাবেই প্রকাশ করেছিলেন তার একটি লেখায়। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত ওই লেখায় তিনি কি বুঝতে পেরেছিলেন যে, পরপারের ডাক চলে এসেছে? সত্যিই তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবীণ এই আইনজীবী সকাল সাড়ে দশটায় (বাংলাদেশ সময়) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি......রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। এম জহীর দীর্ঘদিন ধরে বোনম্যারো ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিত্সার জন্য গত ২৭ জুন তাকে থাইল্যান্ডে নেয়া হয়। মৃত্যুকালে তার পাশে ছিলেন স্ত্রী শাহিদা জহীর ও একমাত্র সন্তান শামস মুনির। ড. জহীরের মৃত্যুর খবরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের অধিকাংশ বেঞ্চে দুপুরের বিরতির পর বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সদা হাস্যোজ্জ্বল এ প্রবীণ এ আইনজীবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দুপুরের পর বিচারকরা যাতে এজলাসে না বসেন সেজন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠিও দেয়া হয়। দুপুরে বিরতির আগে হাইকোর্টের ৩১টি ডিভিশন বেঞ্চ ও ২২টি একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা শোক প্রকাশ করে আলাদা বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ড. জহীরের মৃত্যু আইন অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়। তিনি নিজ মেধা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতা দিয়ে আইন পেশার উচ্চতর শিখরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এদিকে আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটায় থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে ড. জহীরের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে। এরপর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার মরদেহ ৫০ বছরের কর্মস্থল প্রিয় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে নেয়া হবে। সেখানে বিচারক, আইনজীবী ও সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা জানানোর পর জুমার নামাজের পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ড. এম জহীর এন্ড এসোসিয়েটস এর আইনজীবীরা। সেখান থেকে তার মরদেহ ধানমন্ডির বাসভবনে (রোড-১১এ, বাড়ি-৫০) নেয়া হবে। এরপর বাদ আছর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বায়তুল আমান জামে মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফায় নামাজে জানাজা হওয়ার পর বনানী কবরস্থানে তার পিতা সাবেক বিচারপতি এম আছির-এর কবরে তাকে দাফন করা হবে বলেও জহীর এসোসিয়েটস থেকে জানানো হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি কামালউদ্দিন ও সুলতানউদ্দিনের পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সঙ্গে আইনজীবী ছিলেন ড. এম জহীর। তিনি জীবনের সর্বশেষ মামলায় (রানী ব্রান্ডের গুঁড়া মসলা সংক্রান্ত মামলা) হাইকোর্টে জিতলেও ক্যান্সারের কাছে হার মানলেন। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আইন পেশার মতো রস-কসহীন এক পেশার মানুষ হয়েও তিনি ছিলেন সংগীতজ্ঞ। হেমন্তের গান ছিল তার অসম্ভব প্রিয়। ঢাকায় হেমন্তের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে না পারাকে তিনি ‘দ্যাট ওয়াজ দি বিগেস্ট মিসটেক অব মাই লাইফ।’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। ড. জহীর নিজে ভাল গিটার বাজাতে পারতেন। টেনিস খেলা ছিল তার প্রিয়। ছিলেন একজন স্পোর্টসম্যানও। মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা এভাবেই তার কর্মজীবনকে স্মরণ করেন। এদিকে ব্যাংককে অবস্থানরত প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন মৃত্যুর খবর পেয়ে ড. জহীরের মরদেহ দেখতে হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলাম। তিনি বলেন, ড. জহীর দেশের একজন শীর্ষ আইনজীবী ছিলেন। তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দুপুরের পর বিচার এজলাসে বসেননি। রাষ্ট্রপতির শোক: এক শোক বার্তায় ড. জহীরের বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ হারালো। আবদুল হামিদ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর শোক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠায় ড. জহীরের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত আইনজীবীকে হারালো। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলীয় নেতার শোক: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এক শোক বার্তায় বলেন, একজন খ্যাতিমান কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. জহীরের সুনাম সর্বজনবিদিত। মেধা, দক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতার দ্বারা তিনি আইন পেশায় একজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার চলে যাওয়া জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে বড় ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হলো। স্পিকারের শোক: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এক শোক বার্তায় মরহুমের বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার মৃত্যু দেশের আইন ও বিচার বিভাগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আইন পেশায় তার অসামান্য অবদানের বিষয়টি জাতি স্মরণ করবে। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন স্পিকার। আইনমন্ত্রীর শোক: আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ড. জহীরের মৃত্যু দেশের আইন ও বিচার বিভাগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আইন পেশায় তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে জাতি। জেপির শোক প্রকাশ: জেপি চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ড. এম জহীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় এক শূন্যতা সৃষ্টি হলো। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের মূল্যায়ন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে ড. জহীরের মত দেশপ্রেমিক ও বিজ্ঞজনদের যখন বড়ই প্রয়োজন ঠিক সে মহূর্তে তার নীরবে চলে যাওয়া বড়ই কষ্টের। তার মৃত্যুতে জাতি এক কৃতী সন্তানকে হারালো। যা কখনো পূরণ হবার নয়। ড. জহীরের আদর্শিক চেতনায় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, আমি ও আমার বন্ধুরা তার মৃত্যুতে শোকাহত। আমরা একজন প্রতিভাবান আইনজীবীকে হারিয়েছি। সারাজীবন তার অভাব অনুভব করবো। তিনি বলেন, ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ড. জহীর আইন পেশায় যোগ দেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন জহীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ থাকলেও টেনিস কোর্টে নেমে উদ্দমী জীবন শক্তির পরিচয় দিয়ে গেছেন। জহীর ছিলেন সবসময় হাস্যোজ্জ্বল। তিনি বলেন, ড. জহীর সকলের কাছে এত সম্মানের ব্যক্তি ছিলেন যে তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরপরই আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস থেকে নেমে যান। সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ৫৭ বছর আগে ১৯৫৬ সালে তার সঙ্গে পরিচয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডনে ড. জহীর আমার সহপাঠী ছিলেন। পেশাজীবনেও একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আইন পেশায়ও তিনি মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। কোম্পানি আইনে তার সমকক্ষ কোনো আইনজীবী ছিলেন না। কোম্পানি আইনে পিএইচডি করেও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জহীর সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। দেশের মানুষের সুবিচার নিশ্চিত করার আইনি লড়াইয়ে তিনি থেকেছেন সামনের সারিতে। তার মৃত্যুতে বিচারাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ করা কঠিন হবে। সাংবাদিকদের কাছে স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে আবেগাপ্লুত ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ এ বন্ধুর মৃত্যুতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমার দেখা মতে আইনজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি। কোম্পানি আইনে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের যে কোন ‘বারে’ ড. জহীরের ছাত্র পাবেন। তিনি বলেন, একজন মেধাবী, সহকর্মী মানুষ ও বন্ধু হিসাবে তাকে ভোলার নয়। রাণী গুঁড়া মসলার ট্রেডমার্ক নিয়ে হাইকোর্টে তিনি সর্বশেষ মামলা করেছেন। গত ২০ জুন সেই মামলার রায়ে তিনি জিতেছেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে ব্যারিস্টার রোকন বলেন, উনি এই মামলায় জিতেছেন কিন্তু রোগের কাছে হেরে গেছেন। এটিই তার জীবনের সর্বশেষ মামলা। এরপর আর কোন মামলা করেননি। তিনি বলেন, যতগুলো সাংবিধানিক মামলা ছিলো, তার সবগুলোতেই উনি ছিলেন। জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে প্রথম কোম্পানি আইন নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৪ সালের দিকে গঠিত জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার লেখা কোম্পানি আইনের বইটি বিচারক ও আইনজীবীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তার মৃত্যুতে এ দেশের আইন অঙ্গনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। যা পূরণ হওয়ার নয়। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এক বিবৃতিতে বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীকে হারাল। তার অভাব বিচারক ও আইনজীবীরা আজীবন অনুভব করবে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এমকে রহমান তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তার মৃত্যু আইন অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা একজন গুণী, দক্ষ আইনজীবী হারালাম। ৫০ বছর ধরে এই আইন অঙ্গনে বিচরণ করেছেন এবং দক্ষতা ও সুনামের সংগে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে গণফোরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ’র প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি), আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নেতৃবৃন্দ আলাদা আলাদা শোক প্রকাশ করেছেন। ড. জহীরের জীবনী:ড. মুহাম্মদ জহীর (যিনি এম জহীর হিসেবেই পরিচিত) ছিলেন প্রখ্যাত কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ। ১৯৩৯ সালে তিনি কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ আছির ১৯৫৬ সালে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ড. জহীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (সম্মান) ও এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৩ সালে তিনি বার এট ল (ব্যারিস্টার) এবং ১৯৬৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলএম ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি কোম্পানি আইনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। প্রায় ২০ বছর তিনি কোম্পানি আইনের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। ড. জহীর আহসানিয়া মিশনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। মৃত্যুকালে জহীর স্ত্রী ও পুত্র ছাড়াও ভাই সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির ও এক বোন রেখে গেছেন। ২০১১ সাল থেকে ড. জহীর মাল্টিপোল মাইলোমা রোগে ভুগছিলেন। তার একমাত্র ছেলে শামস মুনীর কানাডাতে এ্যাকচুয়ারি হিসেবে কর্মরত আছেন। লিখেছেন ‘কোম্পানি এন্ড সিকিউরিটিস লজ’ শীর্ষক বই। এক লেখায় বলে গেছেন মৃত্যুর পর কোম্পানি আইনের এই বইটি হবে আমার এপিটাপ। তিনি বলেন, ‘মরে গেলে হয়ত বইটা অন্য উকিলদের ঘরে থাকবে। এটাই হবে আমার এপিটাফ। এখন পর্যন্ত ওটাই আমার হাতে লেখা ভাল একটা বই। আইনজীবীরাও সেটা অনুসরণ করেন।