চকবাজারের ইফতারের টান এতটুকু কমেনি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৪
একজনের হাঁকডাক মিলিয়ে না যেতেই আরেকজনের শুরু। পুরো চকবাজার জুড়েই এই অবস্থা। রীতিমতো ইফতারসামগ্রীর হাট। আর এই হাটকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার রমজানের প্রথম দিন উত্সবমুখর পরিবেশ। সময় গড়িয়ে গেছে, যুগের পর যুগ... কিন্তু চকবাজারের সেই ঐতিহ্যবাহী ইফতারের টান ও আবেগ যেন এতটুকু কমেনি!
কারা আসেন ইফতার কিনতে
শুধু কি পুরনো ঢাকার বাসিন্দারাই চকবাজারে ছুটে আসেন ইফতার কিনতে? এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন ইফতার বিক্রেতা হালিম। তিনি বলেন, পুরনো ঢাকার বাসিন্দারাতো আসেনই সেইসাথে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন এখানে।
গতকাল রাজধানীর উত্তরা থেকে ইফতার কিনতে আসা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর প্রথম রমজানের ইফতার কিনতে আমি চকবাজারে আসি। আসলে হরেক রকমের ইফতারসামগ্রীর স্বাদ নিতেই এখানে ছুটে আসা।’
একইকথা বললেন ধানমন্ডির বাসিন্দা আলতাফ। তিনি বলেন, ‘এখানে ইফতার কিনতে না এলে মনে হয় রমজানই শুরু হয়নি। তবে প্রতিদিনতো আর সম্ভব হয় না। সবমিলিয়ে রমজানের ৪/৫দিন এখান থেকে ইফতার কিনি। আসলে এখানকার ইফতারির মধ্যে একটা নবাবী স্বাদ রয়েছে।’
ঐতিহ্যবাহী সব খাবারের পসরা
এখানে ঐতিহ্যবাহী ইফতার পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত খাবার হচ্ছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। পুরনো ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি। বিভিন্ন উপকরণ, কাবাব আর ১৮ রকমের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩’শ টাকায়। অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে, খাসী ও গরুর সুতি কাবাব, খিরি কাবাব, জালি কাবাব, খাসির রোস্ট, মুরগীর রোস্ট, হাঁস ও কবুতর ভুনা, হালিম, লাবাং, শরবত, দইবড়া, গরুর চপ, মালাইকারি, ফিরনি, মিষ্টি শিঙ্গাড়া, দই-বুন্দিয়া, ভেজিটেবল রোল, চিকেন কাটলেট, টানা পরোটা, প্লেন পরোটা, চিকেন স্টিক, পিঁয়াজু, সবজি বড়া, বেগুনি ও শাহী জিলাপি। নামেই শুধু শাহী জিলাপী নয়, একেকটি জিলাপির ওজন এক থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত। বড় তাওয়ায় বিশেষভাবে তৈরি এসব জিলাপি বিক্রিও বেশ ভালো। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।
বিক্রেতা কবির বলেন, ইফতার কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ভীড় এত বেশি থাকে যে বিক্রেতাদের দম ফেলার সুযোগও থাকে না। ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।
কিভাবে শুরু চকের ইফতারি বাজারের
অনেকের মতে, চকের ইফতারি বাজারের বয়স চার শ’ বছর। ইতিহাসবিদদের মতে, ঢাকার বয়সের সমান চকবাজারের ইফতারির বাজার। তাদের মতে, ১৭০২ সালে ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁ চকবাজারকে আধুনিক বাজারে পরিণত করেন। তখন থেকেই প্রতি রমজানে এখানে জমকালো ইফতার বাজার বসে। আবার অনেকেই বলেন, মোগল আমলে পুরনো ঢাকার চকবাজারের শাহী মসজিদের সামনে একটি কূপ ছিল। তার চারপাশে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হতো হরেক রকম নবাবী ইফতার সামগ্রী।