বিদেশি কবুতর ও লাভবার্ডের খামার গড়ে জীবিকায়ন

পশ্চিমের চার জেলায় বিদেশি নানান প্রজাতির কবুতর ও লাভবার্ডের খামার গড়ে জীবিকা অর্জন করছে যুবকরা। ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলাতে শতাধিক খামার গড়ে উঠেছে। এছাড়াও স্বল্প পুঁজি নিয়ে নতুন নতুন খামার গড়ে তুলছে যুবকেরা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পার খাজুরা গ্রামের বাদশা আহমেদ দুদু ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দু’জোড়া লক্ষ্যা ও দু’জোড়া সিরাজী জাতের বিদেশি কবুতরের সাথে কয়েক জোড়া দেশি জাতের কবুতর নিয়ে ছোট্ট পরিসরে খামার গড়ে তোলেন ২০০০ সালে। এখন তার খামারের কলেবর বেড়েছে। বর্তমানে কয়েক প্রজাতির কিং, পোটারবল, কয়েক প্রজাতির সিরাজী, রেইন ও স্টেচারসহ ৩৫ প্রজাতির কবুতর আছে। এছাড়াও কটাটেল, সিরিড, বজুরিকা ও জরা প্রজাতির পাখি আছে। তিনি জানান, ব্লু স্টেচার একজোড়া কবুতরের দাম ৪০ হাজার টাকা, হলুদ কিং একজোড়ার দাম ৩০ হাজার টাকা ও লক্ষ্যার একজোড়ার দাম ৪ হাজার টাকা। তিনি জানান, কটাটেল পাখি একজোড়ার দাম ৫ হাজার টাকা, জরার দাম ৪ হাজার টাকা, সিরিড একজোড়ার দাম ৮শ’ টাকা ও বজুরিকা একজোড়ার দাম এক হাজার টাকা। বাড়িতে একটি টিনের ঘরে বাদশা আহমেদ তার খামার গড়েছেন। খাঁচার ভিতর পাখি ও কবুতরগুলো রাখা হয়েছে। কবুতরগুলো বাকবাকুম ও পাখিগুলো কিচির-মিচির ডাকে বাড়ি মাতিয়ে রাখে। বর্তমানে মাসে এ খামার থেকে ৩৫/৪০ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি। স্ত্রী ও তিনি এ খামার পরিচর্যা করে থাকেন। দেড়বছর আগে শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের গোলাম মর্তুজা সবুজ এসিআই কোম্পানীর চাকরি ছেড়ে পাখি ও কবুতরের খামার গড়েছেন। প্রথমে ১৫ জোড়া বজুরিকা পাখি ও ৪ জোড়া লক্ষ্যা ময়ূরী, সিরাজী, পোটারবল ও মক্ষী কবুতর নিয়ে খামার গড়েন। প্রতিমাসে ৩৫ জোড়া কবুতরের বাচ্চা হয়। ৬ জোড়া কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করে ১০ হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি জোড়া পাখির বাচ্চা বিক্রি করেন ৫শ’ টাকা করে। মাসে ৩০ জোড়া পাখির বাচ্চা বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। মাসে তার ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। স্বামী-স্ত্রী মিলে খামার চালান। টিনের বসত ঘরের সাথে দু’টি রুম নিয়ে তার খামার। সবুজ বলেন, তাদের কাছ থেকে কবুতর ও পাখি কিনে নিয়ে গিয়ে নতুন নতুন খামার গড়ছে যুবকেরা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ঝিনাইদহে ইতিমধ্যে ২৫-৩০টি কবুতর ও লাভবার্ডের খামার গড়ে তুলেছে যুবকেরা। তাদের কেউ কেউ মাসে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছে। স্বল্প পুঁজিতে ও কম পরিশ্রমে ভাল আয় করছে তারা।