ওদের নাম তথ্যকল্যাণী
তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ১৭:২২
মাথায় সাদা ক্যাপ, গায়ে আকাশি রংয়ের কামিজ, গোলাপী ওড়না ও পাজামা পড়া ১১জন নারী। গাইবান্ধা সদর উপজেলার নয়নতারা, আলেয়া, শাহিনা, জাহানুর, হালিমা, ইশরাত জাহান, জান্নাতি, মঞ্জুরী বেগম, দোলনা, ছালেমা বেগম ও আফরুজা। এরা সবাই গ্রামে বেড়ে ওঠা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। কেউ এসএসসি বা কেউ এইচএসসি পাস করে বাড়িতে বেকার, আবার কেউ কষ্টে-ক্লিষ্টে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। কয়েকজন ইতোমধ্যে গৃহবধূ হয়ে বাড়ির সাংসারিক কাজে জড়িত হয়েছেন। কিন্তু এদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে ছিলো প্রচণ্ড উদ্যম আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি। তাই নারীরাও যে পুঁজি খাটিয়ে আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে পারে তা প্রমাণে সাহসী এ কাজে নেমেছেন গাইবান্ধার এই ১১ নারী। এদের এই ব্যবসার ধরনটাও একেবারে ভিন্ন।
ওরা কাঁধের ব্যাগে ল্যাপটপ, মডেম আর স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ নিয়ে বাইসাইকেল চড়ে ছুটছেন গ্রামের পর গ্রাম। আইটিভিত্তিক তথ্য-প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা বিক্রির এক নতুন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন এরা। তথ্য-প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে গ্রামের মানুষজনকে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, ইন্টারনেট, ছবি তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছেন। সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে একদিকে উদ্যোক্তারা নিজে স্বাবলম্বী হবে। অন্যদিকে তারা তথ্যসমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। চ্যালেঞ্জিং এই পেশায় নিয়োজিত নারীদের নামকরণ করা হয়েছে ‘‘তথ্য কল্যাণী’’।
এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জি ইউ কে) ও ঢাকাস্থ ডি.নেট ও ফেয়ার প্রাইস ইন্টারন্যাশনাল। ইতোমধ্যে এসব নারী উদ্যোক্তা কম্পিউটার-ল্যাপটপভিত্তিক যাবতীয় সেবা প্রদানে দক্ষতা অর্জন করেছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানেও কয়েক দফায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেবা প্রদানে উপকরণ ক্রয়ে তাদের ঋণ সহায়তা দিয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেট।
বোয়ালির আলেয়া বেগম, ১৫ দিনেই গ্রামের মানুষজনকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে ৪ হাজার টাকা উপার্জনও করেছেন।
তথ্য কল্যাণী নয়নতারা জানান, বর্তমান পেক্ষাপটে এ পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে এ কারণেই এটি আমি গ্রহণ করেছি। তিনি আরো জানান, চাকরির জন্য মানুষের কাছে ঘুরতে হবে না। আয় করে পরিবারের সহায়তা করতো পারবো।