স্নোডেন ইস্যুতে চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ২০:৪৮
উইলিয়াম বার্নস বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্মেলনে বারাক ওবামা এবং শি জিনপিং আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু চীনের এ আচরণ তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সিআইএ’র সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক এডওয়ার্ড স্নোডেনকে হস্তান্তর না করায় চীনের প্রতি আবারো ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘হতাশাজনক’ বলেছে যুক্তরাষ্ট্র । এটা দু’দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম বার্নস। এদিকে, স্নোডেন তার কৃতকর্মের জন্য ভীত নন বলে জানিয়েছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা ও এনডিটিভির।
দু’দিনের আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উইলিয়াম বার্নস এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে চীনা প্রতিনিধি বার্নসের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, হংকংয়ের স্থানীয় সরকারের প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মান রয়েছে। কারণ তারা দেশটির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী স্নোডেনের বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।
উইলিয়াম বার্নস বলেন, গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সম্মেলনে বারাক ওবামা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু চীনের এ আচরণ তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বেইজিং ও হংকং স্নোডেনের ব্যাপারে যে আচরণ দেখিয়েছে আমরা তাতে ‘হতাশ’ হয়েছি। আমরা জটিল বিষয়গুলোতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বিশ্বাস স্থাপনের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু চীনের এ আচরণ আমাদের এ যৌথ চেষ্টাকে অবজ্ঞা করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রম ফাঁস করে দেয়া এডওয়ার্ড স্নোডেন তার কৃতকর্মের জন্য ভীত নন এবং এজন্য তার কোনো অনুতাপও নেই বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড বুধবার এ কথা জানান। প্রসঙ্গত, স্নোডেনের ফাঁস করা গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রমের নথি গ্রিনওয়াল্ডই প্রথম প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার অনলাইনে চ্যাটের মাধ্যমে স্নোডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে গ্রিনওয়াল্ড বলেন, তিনি (স্নোডেন) তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু সত্যিই যে বিতর্ক তিনি উস্কে দিয়েছেন তাতে তিনি ভালই বোধ করছেন।
যদিও গ্রিনওয়াল্ড নিশ্চিত করতে পারেননি স্নোডেন কোন দেশের আশ্রয় গ্রহণ করবেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার যে তিনটি দেশ রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিবেচনায় ভেনেজুয়েলার প্রস্তাবই সম্ভবত স্নোডেন গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। স্নোডেন বর্তমানে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
তথ্য ফাঁসের সাথে মাইক্রোসফট জড়িত
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন বলেছেন, তথ্য ফাঁস কেলেঙ্কারির সাথে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট জড়িত। গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে স্নোডেন দাবি করেন, মাইক্রোসফটের সব গ্রাহককে নজরদারির মধ্যে রাখতে এফবিআই তাদের সাহায্য নিতো। স্নোডেন বলেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, এফবিআইর মতো মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে মাইক্রোসফট খুবই নিবিড়ভাবে কাজ করতো। তার মতে, গ্রাহকরা আউটলুক ডট কমে ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলার সময় সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে সাহায্য করতো মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য মাইক্রোসফট স্নোডেনের দাবিকে অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে যেসব একাউন্ট সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেসব নির্দিষ্ট একাউন্ট সম্পর্কেই আমরা তথ্য দিয়েছি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে গণহারে গ্রাহকের তথ্য পাচার সম্পর্কে যেসব খবর গণমাধ্যমে এসেছে তা সত্য নয়। স্কাইড্রাইভ, আউটলুক ডট কম, স্কাইপ কিংবা মাইক্রোসফটের কোন পণ্যে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ মাইক্রোসফট দেয়নি। এরআগে মাইক্রোসফট বলেছিল, ২০১২ সালে কোন এক ছয় মাসের সময়কালে কোম্পানিটি তার প্রায় ৩২ হাজার ব্যবহারকারীর একাউন্টের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল বলে স্বীকার করে। তখন এর চেয়ে বেশি কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানায় মাইক্রোসফট।