আমদানি কমছে কাঁচামালসহ মূলধনী যন্ত্রপাতির
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৩
শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালসহ সব ধরনের মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি কমেছে নয় দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। এ সময়ে ঋণপত্র খোলার হার কমেছে এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। উত্পাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির একটি নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি সর্বোপরি বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে উদ্যোক্তারা একটু ধীর গতিতে এগোতে চাচ্ছেন বা বলা যেতে পারে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতির কোন প্রভাব দৃশ্যমান নয়। তবে কিছু দিনের মধ্যে এই প্রভাব দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকাররা বলছেন, সবমিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা চলছে। মূলত রফতানি কার্যক্রমে ভাটা পড়ায় শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালসহ মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাচ্ছে। রফতানি অর্ডার প্রায় বন্ধ। শিল্প কলকারখানা মাথা উঁচু করে চলতে পারছে না। ফলে কমে যাচ্ছে শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যংকের তথ্যানুযায়ী ২০১১-১২ অর্থবছরে পাঁচ শতাংশের বেশি আমদানি কমার পর বিদায়ী বছরও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনসহ রাজনৈতিক নানা অস্থিরতায় চলতি অর্থবছরও আমদানি কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমদানি চাহিদা না থাকায় কমছে ডলারের দরও। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রচুর পরিমাণে ডলার কেনার পরও ডলারের দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না।
কেন্দ ীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের মে পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৯৪৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ বিভিন্ন পণ্যের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময়ে তিন হাজার ৩১২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ঋণপত্র খোলা হয়। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল তিন হাজার ২৪৩ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য। সে সময় ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি ডলারের। মে মাসে এসে শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালে নিষ্পত্তি কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, তবে খোলার হার বেড়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জ্বালানি ও জ্বালানি জাতীয় পণ্যের নিষ্পত্তি কমেছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ, খোলার হার কমেছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতির নিষ্পত্তি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, তবে খোলার হার বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। শিল্পে ব্যবহূত অন্যান্য যন্ত্রপাতির নিষ্পত্তি কমেছে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, খোলার হার কমেছে এক দশমিক ২৮ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের নিষ্পত্তি কমেছে ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ, খোলার হার কমেছে ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।