সেবার মান কমেছে :খুলনায় রেলযাত্রী ১৩ হাজার হ্রাস

খুলনা থেকে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলো আশানুরুপ সেবা দিতে না পারার কারণে যাত্রীদের তেমন একটা আকৃষ্ট করতে পারছে না। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আয় কিছুটা বাড়লেও খুলনায় রেলে যাত্রীর সংখ্যা কমছে। গত এক বছরে এখানে প্রায় ১৩ হাজার যাত্রী হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি, সময় মত ট্রেন ছেড়ে না যাওয়া, গন্তব্যে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হওয়া এবং রেলওয়ের সেবার মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার করণে এখানে যাত্রী কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে জানা গেছে। বর্তমানে খুলনা থেকে প্রতিদিন ও রাত মিলিয়ে ১০টি ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। এর মধ্যে দুইটি ট্রেন খুলনা থেকে ঢাকা যাতায়াত করে। বাকি ট্রেনগুলো যাতায়াত করে বেনাপোল, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বিশাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত খুলনা রেল স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ে। এগুলোর মধ্যে রুপসা, সুন্দরবন, গোধূলী, নকশীকাঁথা, কপোতাক্ষ নামের ট্রেনগুলো আন্তঃনগর ট্রেন হিসাবে যাতায়াত করে। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুন্দরবন এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন দিয়ে খুলনা-ঢাকা রেল সার্ভিস চালু হয়। এসি বাথ, প্রথম শ্রেণি, চেয়ার ও শোভন মিলিয়ে ট্রেনটির মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৭৮৫টি। বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ট্রেনটির যাত্রাকালে এ রুটে যাত্রীদের লক্ষণীয় উত্সাহ দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা পৌঁছাতে কম করে হলেও ১১/১২ ঘন্টা সময় লাগে। খুলনা থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যেসব ট্রেন যাতায়াত করে সেগুলোও গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগে তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া যাত্রা পথে বিভিন্ন স্টেশনের সিগনাল না পাওয়ার করণে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, ট্রেনের কামরাগুলো অপরিচ্ছন্ন, টয়লেটগুলো নোংরা, স্টেশনগুলোর অধিকাংশই অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে অনেকে রেলে চড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলে যাত্রীদের অভিমত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১১-১২‘ অর্থ বছরে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৯২ জন। এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে রেলের আয় হয় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৯৬ টাকা। এছাড়া ৬৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮১০ কেজি পণ্য পরিবহন করে রেল আয় করে আরও ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা। আর গেল ২০১২-১৩ অর্থ বছরে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৭ জন যাত্রী রেল ভ্রমণ করেন। তাদের কাছ থেকে রেল আয় করেছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৮ টাকা। এছাড়া পণ্য পরিবহন করে বিদায়ী অর্থ বছরে খুলনা থেকে রেলওয়ে আয় করেছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৩১ টাকা। সূত্রটি জানায়, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ২০১১-১২ অর্থ বছরের তুলনায় বিদায়ী অর্থ বছরে খুলনা রেলওয়ে যাত্রী খাতে ৫ কোটি ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকা বেশি আয় করেছে। কিন্তু সেবার মান না বাড়ায় যাত্রীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৮৪৫ জন। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা রেল স্টেশন ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। যাত্রীদের বিশ্রাম নেয়ার ভাল কোন ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন আগে আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড় থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত সড়কে থাকে দীর্ঘ যানজট। স্টেশনে ঢোকার মুখে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা দুর্গন্ধ ছড়ায় সবসময়। এ ব্যাপারে খুলনা রেল স্টেশন মাস্টার জানান, খুলনা রেলওয়েতে লোকবল অপ্রতুল থাকায় যাত্রীদের সঠিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।